খুঁজুন
, ,

বিন্না ঘাস কী, কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিন্না ঘাস কী, কেন এ নিয়ে বড় পরিকল্পনা সরকারের?

বাংলাদেশের মাঠে-ঘাটে, পতিত জমি কিংবা চরাঞ্চলে অনায়াসে বেড়ে ওঠে এক ধরনের লম্বা ঘাস। নাম বিন্না ঘাস, যার পরিচিতি ভেটিভার নামেও।

এতদিন পথের ধারে কিংবা পরিত্যক্ত জমিতে পড়ে থাকা এই ঘাসই এবার নদীভাঙন, মাটির ক্ষয়, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন অবকাঠামো রক্ষায় বড় পরিসরে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিন্না ঘাসের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে জালের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

ফলে মাটি শক্তভাবে আটকে থাকে এবং বৃষ্টির পানি বা স্রোতের কারণে মাটির ক্ষয় কমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ঢাল, নদীর তীর, রাস্তার পাশ ও বাঁধ রক্ষায় এই ঘাস ব্যবহার করা হয়।
এ কারণেই বাংলাদেশে কোন কোন প্রকল্পে বিন্না ঘাস ব্যবহার করা সম্ভব, তা যাচাই করতে সরকার টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে এই ঘাস ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম প্রায় দুই দশক ধরে বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা করছেন। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত এই গবেষক মনে করেন, প্রকৌশলগতভাবে সঠিক জায়গায় ব্যবহার করা গেলে বিন্না ঘাস সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে মাটির ক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অধ্যাপক শরীফুল ইসলামের গবেষণা অনুযায়ী, বিন্না ঘাসের শিকড় অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা দুই থেকে চার মিটার পর্যন্ত মাটির গভীরে যেতে পারে। এই শিকড় মাটির কণাগুলোকে শক্তভাবে আটকে রাখে। ফলে ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশের মাটি সহজে ধসে পড়তে পারে না।

বাংলাদেশে বিন্না ঘাস বেন্না ঘাস, খসখস কিংবা ছন নামেও পরিচিত। এটি একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস। লম্বা ও সরু পাতার এই ঘাস ঘন ঝোপের মতো বেড়ে ওঠে এবং সাধারণত দেড় থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের মতে, দেখতে সাধারণ হলেও বিন্না ঘাসের শিকড়ের কার্যকারিতা অসাধারণ। মাটির নিচে এর শিকড় জালের মতো ছড়িয়ে গিয়ে ভূমির বিভিন্ন স্তরকে ধরে রাখে। এ কারণেই ভূমিক্ষয় ও পাহাড়ধস ঠেকাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শুধু মাটি ও অবকাঠামো রক্ষাই নয়, বিন্না ঘাসের অর্থনৈতিক ব্যবহারও রয়েছে। এর শিকড় থেকে সুগন্ধযুক্ত তেল পাওয়া যায়। সুগন্ধি, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সুগন্ধি পণ্য তৈরিতে এই তেল ব্যবহার করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরেই ভেটিভার বা বিন্না ঘাসকে ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে নদীর তীর, রাস্তার ঢাল, বাঁধ, পাহাড়ি এলাকা ও কৃষিজমি রক্ষায় এর ব্যবহার রয়েছে। দ্য ভেটিভার নেটওয়ার্ক ইন্টারন্যাশনালও ঢাল স্থিতিশীলতা ও ভূমিক্ষয় রোধে ভেটিভার ব্যবহারের জন্য প্রকৌশলভিত্তিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।

গবেষকদের মতে, বিন্না ঘাস লাগানোর কয়েক মাসের মধ্যেই এর শিকড় মাটির গভীরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বৃষ্টির সময় ঢাল, বাঁধ কিংবা রাস্তার পাশ দিয়ে পানির স্রোত নামার সময় শিকড়গুলো মাটিকে ধরে রেখে ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চরম ঠান্ডা থেকে প্রচণ্ড গরম-বিভিন্ন ধরনের পরিবেশেও এই ঘাস টিকে থাকতে পারে। বাংলাদেশে বিন্না ঘাসের ওপর দীর্ঘদিনের গবেষণায় ভূমিক্ষয়, পাহাড়ধস ও বাঁধ রক্ষায় এর সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক কাজ হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সব জায়গায় বিন্না ঘাস দিয়ে বাঁধ বা মাটি রক্ষা করা সম্ভব নয়। খরস্রোতা নদীর তীব্র স্রোতের মুখে থাকা বাঁধে শুধু বিন্না ঘাস যথেষ্ট নাও হতে পারে। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী জিও ব্যাগ, কংক্রিট ব্লক, রড বা অন্যান্য প্রকৌশলগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে পাহাড়ের ঢাল, রাস্তার পাশ, খালের পাড় কিংবা অপেক্ষাকৃত কম স্রোতের এলাকায় এটি কার্যকর হতে পারে।

এই ঘাস ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো কম খরচ। প্রচলিত রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্লক বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার অনেক সাশ্রয়ী হতে পারে বলে গবেষকদের দাবি। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাবও তুলনামূলক কম।

বাংলাদেশে বিন্না ঘাস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে নদীভাঙন, খাল রক্ষা ও অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়, নদীর তীর, বাঁধ ও রাস্তার মাটি ক্ষয় থেকে রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত ৬ আগস্ট সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি বৈঠক হয়। সেখানে বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বিন্না ঘাসকে কংক্রিট ব্লক ও জিও-ব্লকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। নদী ও খালের পাড়, উপকূলীয় বাঁধ, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি রক্ষায় এর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিন্না ঘাস ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব ফলাফলের ভিত্তিতে এখন বড় পরিসরে প্রকল্প নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।প্রস্তাবিত ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে নদীর তীর ও খালের পাড়ের ক্ষয়রোধ, উপকূলীয় বাঁধ সুরক্ষা, চর ও হাওর এলাকার রাস্তা স্থিতিশীল রাখা, পাহাড়ি ঢাল রক্ষা এবং সড়ক ও রেলপথের পাশের মাটি ক্ষয় কমানো। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রকল্পেও পর্যায়ক্রমে এর ব্যবহার বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।

বুয়েটের গবেষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা এবং দেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ইতিবাচক ফলের পর এবার সরকারি পর্যায়ে বিন্না ঘাসের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এতদিন মাঠে-ঘাটে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই সাধারণ ঘাসই এখন বাংলাদেশের নদী, পাহাড়, বাঁধ ও সড়ক রক্ষায় একটি সাশ্রয়ী ‘প্রাকৃতিক প্রযুক্তি’ হিসেবে নতুন গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

ফরিদপুরের মধুখালীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুখালীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর অংশের মধুখালীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং সরকারি খাস জমি দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওহাব শেখের নির্মিত ‘মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব মার্কেট’সহ প্রায় দুই শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মধুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মধুখালী উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশের সওজ-এর জায়গা ও সরকারি খাস জমি দখল করে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে আসছিল। এতে সড়ক সরু হয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতো। জনস্বার্থ বিবেচনায় ও সড়ক নিরাপদ রাখতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​অভিযান চলাকালে মধুখালী রেলগেট বাজার, পৌরসভা বাজার, মরিচ বাজার ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের অংশ থেকে শুরু করে মহাসড়কের দু’পাশের সকল অবৈধ পাকা-আধা পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় শত শত সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

​অভিযান পরিচালনাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত সাংবাদিকদের জানান, মহাসড়কের দু’পাশে সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা তৈরির কারণে দুর্ঘটনা ও যানজট নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জনস্বার্থ রক্ষা এবং মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

​অভিযান চলাকালীন সময় মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমান সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজে সহায়তা প্রদান করেন।

​দীর্ঘদিন পর সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উচ্ছেদ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা সুজন মিয়া বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। স্বাধীনতার পর মধুখালীতে এত বড় আকারের সওজ ও খাস জমি উদ্ধারের ঘটনা এবারই প্রথম। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং যানজট কমবে। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও সওজকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

ফরিদপুরে ড্রামের খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে ক্যাবের সচেতনতামূলক কর্মশালা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ড্রামের খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি বন্ধে ক্যাবের সচেতনতামূলক কর্মশালা

মানবস্বাস্থ্যের ওপর ড্রামের খোলা ভোজ্যতেলের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ভোক্তা ও বাল্ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফরিদপুর পৌরসভার হলরুমে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​ক্যাব ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক তারেক আইয়ুব খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব ও ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ.এইচ.এম. সফিকুজ্জামান।

​ক্যাব জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল আলম পারভেজের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক​ মো. ইলিয়াছুর রহমান, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ​ডা. মাহমুদুল হাসান, কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ​মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ​মুস্তাক হাসান মুক্ত ইফতিখার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান ​অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী।

​কর্মশালায় অনিরাপদ ড্রামে ড্রামজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধের তাগিদ দিয়ে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে খোলা ভোজ্যতেলের ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৭ পূর্বাহ্ণ
সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সচেতনতামূলক সভা

তরুণ সমাজকে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার ও সাইবার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সংগঠনের নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার পাশাপাশি অনলাইনে নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে ভাঙ্গার একটি মহিলা কলেজের হলরুমে বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাঙ্গা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

​বসুন্ধরা শুভসংঘ ভাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি গোলাম মোরশেদ এবং সহ-সভাপতি ইয়াছিন আরাফাতের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সদস্য ও উপদেষ্টাবৃন্দ অংশ নেন।

​সভায় বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা, ভুয়া তথ্যের বিস্তার, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও সাইবার হয়রানির ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই।

​আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এম রাজন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন নতুন সাইবার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তাই নিজেদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, টূ-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা দুই ধাপের নিরাপত্তা চালু রাখা এবং যেকোনো অপরিচিত লিংক বা বার্তা পেয়ে ক্লিক না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।”

​তিনি আরও বলেন, তরুণদের প্রযুক্তির ইতিবাচক ও সঠিক ব্যবহারের পথ দেখানোর পাশাপাশি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

​সাইবার নিরাপত্তার পাশাপাশি সভায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ এবং এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

​সভায় উপস্থিত সদস্যরা বসুন্ধরা শুভসংঘের কল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোকে মাঠপর্যায়ে আরও গতিশীল, জনকল্যাণমুখী ও কার্যকরী করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।