খুঁজুন
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : চার দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন : চার দিন বন্ধ থাকবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং

আর তিন দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনগত রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চার দিন এসব সেবা সীমিত থাকবে। এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের কারণে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। এভাবে দৈনিক লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ সেবা ব্যবহার করে একে অপরকে টাকা পাঠানোর সেবা বন্ধ থাকবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা) এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা ও লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা হবে দৈনিক ১০টি।

তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। লেনদেনের বাইরে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য সেবা উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

এছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে কোনো আর্থিক অপরাধ সংগঠিত হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠান নিজস্ব জরুরি রেসপন্স সেল গঠন করবে। এ সময়ে সব ধরনের লেনদেন এমএফএস প্রোভাইডারের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের (ক্লোজ মনিটরিং) আওতায় আনতে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করতে হবে।এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোকে নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বলা হয়েছে।

ফরিদপুরে ঢেউখালিতে দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মৎস্য মেলা

তানভীর তুহিন, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ঢেউখালিতে দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মৎস্য মেলা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি বাজারে বসেছে প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মৎস্য মেলা। বাংলা নববর্ষের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে একদিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এ মেলায় বরাবরের মতোই ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জমজমাট বেচাকেনা।

সদরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সারা বছর অপেক্ষা করেন এই বিশেষ দিনের জন্য। বৈশাখের শুরুতেই আয়োজিত এই মৎস্য মেলা গ্রামীণ জীবনে যেন উৎসবের রূপ নেয়। সকাল হতেই ঢেউখালি বাজারে নেমে আসে মানুষের ঢল—ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুইশত বছর আগে শুরু হওয়া এই মেলা এখনো তার ঐতিহ্য ও জৌলুস অটুট রেখেছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা এই আয়োজন কেবল কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ীরা বড় বড় মাছ নিয়ে পসরা সাজান। বিশাল আকৃতির মাছগুলোই প্রথমে নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। আকার ও প্রজাতি ভেদে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। দরদাম আর বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

এ মেলায় পুকুর ও বিলের মাছের পাশাপাশি পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ ও ভূবনেশ্বর নদীর বড় আকারের মাছ বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা ইলিশ, চিংড়ি, রুই, কাতল, বোয়াল, গজার ও আইড়সহ নানা প্রজাতির মাছ দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। অনেক মাছের আকার এতটাই বড় যে তা দেখতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়।

মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা প্রতিবছরই মেলায় অংশ নেন এবং ক্রেতাদের হাতে ভালো মানের মাছ তুলে দিতে সচেষ্ট থাকেন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারাও মাছের বৈচিত্র্য ও মেলার পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবছর এই মেলায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বিনোদনের উৎস নয়—গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। একদিনের এই আয়োজনকে ঘিরে বাড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, সৃষ্টি হয় অস্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।

ফরিদপুরে বেড়েছে হামের প্রকোপ: ৪ মাসে ২৯৮ আক্রান্ত, ঝরল ৪ প্রাণ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বেড়েছে হামের প্রকোপ: ৪ মাসে ২৯৮ আক্রান্ত, ঝরল ৪ প্রাণ

ফরিদপুর জেলায় হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলায় মোট ২৯৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী দিন সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন করে আরও ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আলফাডাঙ্গায় ১০ জন, বোয়ালমারীতে ১২ জন, ভাঙ্গায় ৮ জন, চরভদ্রাসনে ৪ জন, নগরকান্দায় ২ জন, মধুখালীতে ৩ জন, সদরপুরে ৭ জন, ফরিদপুর সদরে সর্বোচ্চ ১৪ জন এবং সালথায় ৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার দিক থেকেও হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ জন। বর্তমানে এই দুই হাসপাতালে মোট ৫৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন থাকতে, শিশুদের জ্বর, ফুসকুড়ি বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছি এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন।”

তিনি আরও জানান, জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকাদানের আওতা বাড়ানো এবং দ্রুত শনাক্তকরণই পারে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

অ্যাসিডিটির সমস্যা? জানুন ঘরোয়া উপায় নিয়ন্ত্রণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
অ্যাসিডিটির সমস্যা? জানুন ঘরোয়া উপায় নিয়ন্ত্রণ
বুক জ্বালা, ঢেকুর ওঠা, বমিভাব, পেটে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা বা অল্প খেলেই ভরাপেট লাগা অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। কখনও কিছু খাবারের কারণে, আবার কখনও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলেও এমনটি হয়।

এই অ্যাসিডিটির সমস্যা কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

দারুচিনি
দারুচিনি প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে।

এটি হজম ও শোষণ প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং পাকস্থলীর সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। দারুচিনির চা পান করলে উপকার পাওয়া যায়।
 

জিরা
জিরা অ্যাসিড প্রতিরোধে কার্যকর। হজমে সহায়ক এবং পাকস্থলীর ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে।

ভাজা জিরা গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে বা সেদ্ধ পানিতে জিরা দিয়ে খাবারের পর পান করা যেতে পারে। 

তুলসী পাতা
তুলসী পাতা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে খেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপকার পাওয়া যায়।

আপেল সাইডার ভিনেগার
এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে দুই চা-চামচ ভিনেগার মিশিয়ে খালি পেটে পান করলে গ্যাস কমতে সাহায্য করে।

আনারস
আনারস খাদ্য হজমে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে।

ঠান্ডা দুধ
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরিতে বাধা দেয়। অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে এক গ্লাস ঠান্ডা দুধ উপকারী।

পানি
পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। তবে খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট পর পানি পান করলে হজম ভালো হয়।

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা
পরিমিত খাবার খাওয়া, কম তেল-মসলায় রান্না করা এবং দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকা জরুরি। কুমড়া, মুলা, পেঁয়াজ, মরিচ, নারিকেল ও গরুর মাংসসহ ভারী খাবার এড়িয়ে চললে অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।