খুঁজুন
, ,

ফাগুনের রঙে নতুন অধ্যায়: ভিন্ন আবহে বসন্তবরণ, তবুও প্রাণে উচ্ছ্বাস 🌼

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
ফাগুনের রঙে নতুন অধ্যায়: ভিন্ন আবহে বসন্তবরণ, তবুও প্রাণে উচ্ছ্বাস 🌼

প্রকৃতির অনিবার্য নিয়ম মেনে শীতের জীর্ণতা ঝরিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পহেলা ফাল্গুন—বাংলা সনের একাদশ মাসের প্রথম দিন। শীতের কুয়াশা ও নিস্তব্ধতা পেরিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজে উঠেছে, চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণের উচ্ছ্বাস।

তবে এবারের বসন্ত কিছুটা ভিন্ন আবহে এসেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজনেও। অন্যান্য বছরের মতো বড় পরিসরে উদযাপন না হলেও সীমিত পরিসরে চলছে বসন্তবরণ।

বিশেষ করে রাজধানীবাসীর জন্য এবারের বসন্তে রয়েছে বড় এক শূন্যতা। নেই চিরচেনা অমর একুশে বইমেলা, যেখানে প্রতিবছর ফাল্গুনের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে বইপ্রেমীদের পদচারণা। নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর বসন্তের রঙিন আবহে মেলা প্রাঙ্গণ জমে ওঠার দৃশ্য এবার আর দেখা যাচ্ছে না। ফলে নগরজীবনে বসন্তের আনন্দে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

তারপরও বসন্ত থেমে থাকে না। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছরের মতো এবারও ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। তবে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের স্থান পরিবর্তন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলার পরিবর্তে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সীমিত পরিসরে সকাল সাড়ে ৭টায় বসন্তবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হলুদ, বাসন্তী আর লাল রঙের পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে সেখানে ছিল প্রাণের স্পন্দন, যদিও তা আগের বছরের মতো বিস্তৃত ছিল না।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে পহেলা ফাল্গুন শুধু ঋতুর সূচনা নয়, এটি একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক চেতনার অংশ। ফাগুনের লাল শিমুল আর কৃষ্ণচূড়া ফুল মনে করিয়ে দেয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহীদদের কথা। তাদের আত্মত্যাগের রক্তে রঞ্জিত পথ ধরেই এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তাই বসন্ত কেবল সৌন্দর্যের নয়, দ্রোহ ও আত্মত্যাগেরও প্রতীক।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৫০ থেকে ১৯৬০-এর দশকে পহেলা ফাল্গুন উদযাপনের সূচনা হয়। সে সময় পাকিস্তানি শাসনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রসংগীতসহ নানা সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এই দিনটি পালন শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তবরণ উৎসবের আয়োজন করে, যা পরবর্তীতে জাতীয় উৎসবে রূপ নেয়।

প্রকৃতির দিক থেকেও বসন্ত এক নতুন জীবনের বার্তা নিয়ে আসে। এ সময় গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে ওঠে চারদিক। কোকিলের ডাক, প্রজাপতির রঙিন ডানা আর মৃদু বাতাসে ভেসে বেড়ানো ফুলের ঘ্রাণ প্রকৃতিকে করে তোলে মোহনীয়। শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার রঙিন উপস্থিতি যেন প্রকৃতির নিজস্ব উৎসব।

বসন্তকে কেন্দ্র করে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতেও রয়েছে অসংখ্য সৃষ্টি। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেন—“ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত।” বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম গেয়েছেন বসন্তের আবেগময় গান। আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসংখ্য গানে বসন্তের রূপ ধরা দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্যে।

সব মিলিয়ে, বসন্ত আমাদের শেখায় পরিবর্তনের কথা—জীবনের প্রতিটি শুষ্কতা ও ক্লান্তির পরেই আসে নতুন প্রাণের উন্মেষ। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা সামাজিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রকৃতির এই নবজাগরণ থেমে থাকে না। তাই ভিন্ন বাস্তবতায়ও বসন্ত এসেছে তার চিরচেনা রূপে—রঙে, গন্ধে আর আশার নতুন বার্তা নিয়ে। 🌸

ফরিদপুরে জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা: অস্ত্র-মাদক উদ্ধারে জোর

ফরিদপুর জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকাল ৩টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।

​সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), তদন্ত কেন্দ্র ও ফাঁড়ির ইনচার্জ এবং বিভিন্ন ইউনিটের পুলিশ সদস্যরা।

​সভায় পুলিশ সুপার দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

​অনুষ্ঠানে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, ডাকাতি ও হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার, পরোয়ানা নিষ্পত্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল ভূমিকার জন্য তাদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও অর্থ পুরস্কার তুলে দেন পুলিশ সুপার।

​এ সময় জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সদরপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করল ছাত্রদল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে আড়িয়াল খাঁর ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ করল ছাত্রদল

ফরিদপুরের সদরপুরে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙন থেকে ইটের সড়ক রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে উপজেলা ছাত্রদল। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ওই সড়ক ছাড়াও উপজেলার চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানে আরও এক হাজারের বেশি গাছের চারা রোপণ করেছে সংগঠনটি।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শেষ হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটি রক্ষায় ইউনিয়নের হাকিমনগর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে দুর্বারটেক ট্রলারঘাট পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ শতাধিক গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

চরনাসিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে সদরপুর উপজেলা ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ, সদরপুর কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হামিম সিয়াম, ছাত্রদল নেতা তরিকুল, হাবিব, আসিফ, আনিস ও অনিকসহ নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী তুষার মাহমুদ জানান, নদীভাঙন থেকে সড়ক রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই আমরা এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছি। ছাত্রদল মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে চায়।

হামিম সিয়াম বলেন, গত কয়েক দিনে প্রায় এক হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। রোপণ করা গাছগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

ফরিদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় পদ গেল জামায়াত নেতার

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় পদ গেল জামায়াত নেতার

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ ওঠায় মো. ইনামুল মোল্লা (২৬) নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বোয়ালমারী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

​মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে তাকে সাময়িকভাবে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ও পৌর জামায়াত নেতারা। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

​ইনামুল মোল্লা পৌরসভার কুশডাঙ্গা গ্রামের মো. আকরাম মোল্যার ছেলে। তিনি বোয়ালমারী বাজারের ‘মোল্লা ডাক্তার কে হালিম হাসপাতাল’-এ রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত।

​স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পৌরসভার কুটিপাড়া এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে আসছিলেন ইনামুল। সম্প্রতি তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি উভয় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

​হাসপাতালের ম্যানেজার রেজাউল করিম জানান, দুই দিন আগে ভুক্তভোগী প্রবাসী মোবাইল ফোনে কল করে ইনামুলের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানা ছিল না বলে তিনি ওই প্রবাসীকে জানান।

​এদিকে ঘটনার পর থেকে জামায়াত নেতা ইনামুল মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর দুটি বন্ধ রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

​বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী বলেন, “প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়ায় প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে ইনামুল মোল্লাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ তদন্ত শেষে অভিযোগের সতত্যা পাওয়া গেলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন কখনো নেবে না।”