খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী  “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে ধর্মীয় আবহ, সামাজিক সম্প্রীতি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল”।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে শহরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ইউনাইটেড ফরিদপুর এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন উপলক্ষে বিকেলে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণইফতারের আয়োজন করা হয়। ইউনাইটেড ফরিদপুরের সভাপতি জুরাইস ইবনে আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন এসডিসির নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর আব্দুল বাতেন এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ অন্যান্য অতিথিরা।

এ সময় মাহে রমজানের তাৎপর্য ও মানবিক শিক্ষার ওপর আলোচনা করেন ফরিদপুর মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়ক।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ফরিদপুরের খান ভিলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

পরে আয়োজিত গণইফতার মাহফিলে প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন।

রমাদান ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে প্রায় ৫০টি স্টল বসেছে, যেখানে দেশীয় খাবার, পোশাক, ইসলামী সামগ্রী, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন উদ্যোক্তার পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই ফেস্টিভ্যাল।

আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।

‘পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে’, মেয়েদের কাছে পেয়ে সালমা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
‘পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে’, মেয়েদের কাছে পেয়ে সালমা

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা। গানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন নিজের মত করেই আছেন তিনি।

সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুই মেয়ের সঙ্গে নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে হৃদয়ের কথা শেয়ার করেছেন এই সংগীতশিল্পী। জানিয়েছেন, ব্যক্তি জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দুই সন্তান নিয়ে অনেক ভালো আছেন তিনি।

দুই মেয়ের সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে সালমা লেখেন, ‘আমার দুনিয়াতে আমার সন্তানদের নিয়ে ভালো আছি। আমি মা- এটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

পোস্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তার বড় মেয়ে স্নেহার কথা, যাকে তিনি নিজের কাছে ফিরে পাওয়াকে জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

তিনি লেখেন, ‘আল্লাহ পাক তার বান্দাকে বেশি দিন কষ্টে রাখেন না।

আমার পাহাড় সমান বোঝা নেমে গেছে হৃদয় থেকে। আমার স্নেহা আমার কাছে চলে এসেছে।’
বাকি জীবন দুই মেয়ের সঙ্গে কাটিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে শেষে সালমা লেখেন, ‘কাজে মনোযোগ নেই। আমি সন্তানকে পেয়ে সব ভুলে গেছি। বাকি জীবনটা তোদের জন্য উৎসর্গ করলাম। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। ’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সালমার। তাদের সংসারে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান স্নেহা। তবে ২০১৬ সালে দাম্পত্য জীবনের ইতি টানেন এই দম্পতি।

প্রথম সংসারের বিচ্ছেদের সাড়ে তিন বছর পর ২০১৮ সালের শেষ দিনে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূরেকে বিয়ে করেন সালমা। কিন্তু সাত বছরের মাথায় এই সংসারও ভেঙে যায়। সালমা-সানাউল্লাহ দম্পতির সাইফা নামে এক মেয়ে রয়েছে।

বিশ্রামে মোস্তাফিজ-তাসকিন-নাহিদ, নতুন মুখ সাকলাইন-রিপন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্রামে মোস্তাফিজ-তাসকিন-নাহিদ, নতুন মুখ সাকলাইন-রিপন

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে নতুন এক কৌশল গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

অভিজ্ঞ পেসারদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণদের পরখ করে দেখার লক্ষ্যে প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে আনা হয়েছে বড় চমক।

এই সিরিজে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ২৮ বছর বয়সী পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেলেন সাকলাইন।

তার বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে কার্যকর ব্যাটিং করার সক্ষমতা নির্বাচকদের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ পেস আক্রমণের তিন স্তম্ভ মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানাকে এই সিরিজে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
পেস ইউনিটে সাকলাইনের সঙ্গী হিসেবে দলে ফিরেছেন তরুণ পেসার রিপন মণ্ডল। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও মূল জাতীয় দলে নিজেকে থিতু করার জন্য এই সিরিজটি রিপনের সামনে বড় সুযোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির এই স্কোয়াডে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন লিটন কুমার দাস, আর তার ডেপুটি হিসেবে থাকছেন মোহাম্মদ সাইফ হাসান।

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টির জন্য বাংলাদেশ স্কোয়াড:

লিটন কুমার দাস (অধিনায়ক), মোহাম্মদ পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, মোহাম্মদ সাইফ হাসান (সহ-অধিনায়ক), শামীম হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, কাজী নুরুল হাসান সোহান, শেখ মাহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, রিপন মণ্ডল, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন এবং আব্দুল গাফফার সাকলাইন।

সৃষ্টি নয়, স্রষ্টাই একমাত্র উপাস্য

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
সৃষ্টি নয়, স্রষ্টাই একমাত্র উপাস্য

মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
أَمِ ٱتَّخَذُوۤاْ آلِهَةً مِّنَ ٱلأَرْضِ هُمْ يُنشِرُونَ (٢١)
সরল অনুবাদ :
তারা যেসব মাটির দেবতা গ্রহণ করেছে, সেগুলি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম?

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

আরবের মুশরিকরা মাটির তৈরী যেসব দেবতা গ্রহন করেছিলো সেগুলো যে সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট সেটা বুঝানো উদ্দেশ্য। তাই জিজ্ঞাসা করা হয়েছে অস্বীকৃতির জন্য।

অর্থাৎ, যারা কোন জিনিসেরই ক্ষমতা রাখে না তাদেরকে কিভাবে মুশরিকরা আল্লাহর শরিক বানায় ও তাদের ইবাদত করে? (তাফসিরে আহসানুল বায়ান)
يُنشِرُونَ মানে হচ্ছে, কোন পড়ে থাকা প্রাণহীন বস্তুকে তুলে দাঁড় করিয়ে দেয়া। (কুরতুবি)

এতে আয়াতের অর্থ দাঁড়ায়, যেসব সত্তাকে তারা ইলাহ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং যাদের তারা নিজেদের উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করছে তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে, নিষ্প্রাণ বস্তুর বুকে সামান্য প্রাণ সঞ্চার করতে পারে? যদি এক আল্লাহ ছাড়া এটা আর কেউ করতে সক্ষম না হন- আর মুশরিকরা তো নিজেরাই একথা স্বীকার করে যে, আল্লাহ ছাড়া এটা করতে আর কেউ সক্ষম না – তাহলে এতকিছুর পরও তারা কিভাবে এগুলোকে উপাস্য হিসাবে গ্রহণ করছে এবং কেন করছে? (ইবন কাসির, ফাতহুল কাদির, তাফসিরে জাকারিয়া)

শিক্ষা ও বিধান

১. মানুষ যেসব মাটির বা সৃষ্টি করা জিনিসকে উপাস্য বানায়, তারা কোনো ক্ষমতার অধিকারী নয়।

প্রকৃত ক্ষমতা শুধু আল্লাহর।
২. মূর্তি বা যা সৃষ্টি করা হয়েছে তা কখন-ই কোনো কিছুকে জীবন দিতে পারে না।
তাই এই আয়াতের উত্তর হলো- স্পষ্ট: না। জীবন দেওয়া ও নেওয়া একমাত্র আল্লাহর কাজ।

৩. অন্ধ অনুসরণ নয়—যুক্তি দিয়ে ভাবতে হবে। যদি কোনো ‘দেবতা’ জীবন দিতে না পারে, তবে সে কিভাবে উপাস্য হতে পারে?
৪. মানুষ যা নিজেরাই সৃষ্টি করে (যেমন মূর্তি), তা কখনোই সৃষ্টিকর্তা হতে পারে না। সৃষ্টি আর স্রষ্টার পার্থক্য এই আয়াতে স্পষ্ট। তাই সব মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা উচিত।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ