খুঁজুন
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে বৃত্তি পরীক্ষার ১৫৪ শিক্ষার্থীর ওএমআর শিট উধাও, দুই কর্মকর্তা বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বৃত্তি পরীক্ষার ১৫৪ শিক্ষার্থীর ওএমআর শিট উধাও, দুই কর্মকর্তা বদলি

ফরিদপুর সদরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫৪ জন শিক্ষার্থীর ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন) শিট কেন্দ্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার শেষ দিনে এ ঘটনা ঘটে। ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়” বিষয়ের পরীক্ষার সময় ফরিদপুর সদরের ভাটিলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসব ওএমআর শিট হারিয়ে যায়।

ভাটিলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শহরের চুনাঘাটা মোড় এলাকায় অবস্থিত। এই কেন্দ্রে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার শেষ দিনে ১৫৪ জন পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পরে ধরা পড়ে।

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ মোশাররফ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শেষ দিনের পরীক্ষায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানান, ওএমআর শিট হারিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো সমস্যা হবে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন (আইএমডি) ইতোমধ্যে তথ্য পুনরুদ্ধার (রিকভার) করেছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর প্রশাসনিকভাবে তার এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অজয় কুমার দাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের ফরিদপুরের বাইরে বদলি করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে আরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ওএমআর শিট হারানোর ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ফরিদপুরের পদ্মার সেই কুমির ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার, ফিরবে নোনা পানিতে

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের পদ্মার সেই কুমির ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার, ফিরবে নোনা পানিতে

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে জেলের বরশিতে আটকা পড়া একটি কুমিরকে প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিশেষ টিম।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাজী বাড়ির খেয়াঘাট এলাকা থেকে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে সকালে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় জেলেদের ফেলা হাজাইরা বরশিতে কুমিরটি আটকা পড়ে। পরে স্থানীয় জেলেরা কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে কাজী বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন এবং প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। বিকেলে খুলনা থেকে আসা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কুমিরটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

খুলনা বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য জানান, উদ্ধার করা কুমিরটি একটি পুরুষ নোনা পানির প্রজাতির। সাধারণত এ ধরনের কুমির সমুদ্র বা উপকূলীয় লবণাক্ত পানিতে বাস করে। তবে জোয়ার-ভাটা, খাদ্যের সন্ধান কিংবা প্রাকৃতিক কারণে মাঝে মাঝে তারা মিঠা পানির নদীতেও চলে আসতে পারে।

তিনি আরও জানান, কুমিরটিকে প্রথমে খুলনায় নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপযুক্ত পরিবেশে—সম্ভবত নোনা পানির আবাসস্থলে—এটিকে অবমুক্ত করা হবে।

উদ্ধারে সহায়তাকারী জেলে স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারী ও বিল্লাল খান জানান, প্রতিদিনের মতো তারা মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ বরশিতে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন। পরে বুঝতে পারেন একটি বড় কুমির আটকা পড়েছে। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা কুমিরটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কুমিরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যেহেতু নোনা পানির কুমির পাওয়া গেছে, তাই শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে নদীতে নামার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।”

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানো হবে।

উল্লেখ্য, পদ্মা নদী কুমিরের স্বাভাবিক আবাসস্থল না হলেও অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে এখানে কুমির দেখা যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও খাদ্যের সন্ধান—এসব কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

ফরিদপুরের পদ্মায় জেলের বরশিতে ধরা পড়ল কুমির

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের পদ্মায় জেলের বরশিতে ধরা পড়ল কুমির

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে জেলের বরশিতে একটি কুমির ধরা পড়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর এলাকার পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের হাজাইরা বরশিতে কুমিরটি আটকা পড়ে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রতিদিনের মতোই তারা ভোরে নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় হঠাৎ করে তাদের বরশিতে বড়সড় কিছু আটকে যায়। প্রথমে মাছ ভেবে টানতে থাকলেও পরে কাছে এনে দেখেন সেটি একটি কুমির। পরে তারা সতর্কতার সঙ্গে কুমিরটিকে উদ্ধার করে চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের কাজি বাড়ির ঘাটে নিয়ে আসেন।

কুমির ধরা পড়ার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। স্থানীয়দের অনেকেই জীবনে প্রথমবারের মতো কাছ থেকে কুমির দেখার সুযোগ পান।

উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া প্রত্যক্ষদর্শী স্বপন ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারী ও বিল্লাল খান জানান, কুমিরটি বরশির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় তারা সেটিকে সাবধানে নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের জন্য ঘাটে নিয়ে আসেন।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা বনবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

চরভদ্রাসন উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা ফজলে করিম জানান, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। কুমিরটি উদ্ধারের জন্য খুলনা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল রওনা দিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নদীর পানির স্রোত ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে কুমিরটি পদ্মা নদীর এই অংশে চলে এসেছে। বনবিভাগের দল এসে কুমিরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজন হলে এটিকে নিরাপদ আবাসস্থলে স্থানান্তর করা হবে।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে কুমিরটির কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
কওমি সনদের স্বীকৃতি : পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আর কতকাল?

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। একটি ভূখণ্ডে যখন বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রস্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে অবস্থান করে, তখন দেশের সুষম উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই ২০১৮ সালে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ স্তর ‘দাওরায়ে হাদিস’কে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান দিয়ে আইন পাস করা হয়েছিল। নিঃসন্দেহে এটি ছিল যুগান্তকারী এবং প্রশংসনীয় একটি পদক্ষেপ।

এর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে অবহেলিত লাখ লাখ কওমি শিক্ষার্থীর সামনে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির এক বিশাল দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আইনি স্বীকৃতি মিললেও প্রায় এক দশক পার হয়ে যাওয়ার পরও এই স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন আজও অধরাই থেকে গেছে। ফলে যে বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে এই সিদ্ধান্তের সূচনা হয়েছিল, তা যেন আজ এক অদৃশ্য দেয়ালে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।

কওমি সনদের এই খণ্ডিত স্বীকৃতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর নিচের স্তরগুলোর কোনো স্বীকৃতি না থাকা। একজন শিক্ষার্থী যখন দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন, তখন তিনি কেবল মাস্টার্স সমমানের একটি সনদ পান। কিন্তু এর পূর্ববর্তী ধাপগুলো অর্থাৎ ইবতিদাইয়্যাহ, মুতাওয়াসসিতাহ, সানাবিয়্যাহ ও ফজিলতকে যথাক্রমে প্রাথমিক, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি সমমান প্রদান করা হয়নি।

যেকোনো সাধারণ বা সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের সনদের তথ্য এবং জিপিএ উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকে। কিন্তু কওমি শিক্ষার্থীদের নিচের স্তরগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় সমমান না থাকায় তারা চাইলেও সাধারণ চাকরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে মাস্টার্স সনদ পকেটে নিয়েও হাজার হাজার মেধাবী তরুণ বেকারত্বের গ্লানি টানছেন অথবা নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় পরিমণ্ডলের বাইরে তাদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি বাড়াতে পারছেন না। এটি কেবল ওই শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার নয়, বরং জাতীয় মেধার অপচয়ও বটে।

অন্যদিকে, শুধু সনদ দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না, যদি না সেই সনদের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা যায়। সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কওমি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দৃশ্যমান নেই। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা বিসিএস-এর সাধারণ ক্যাডারগুলোতে আবেদনের জন্য যে ধরনের সমন্বিত যোগ্যতা ও বয়সসীমার ফ্রেমওয়ার্ক প্রয়োজন, তা কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য আজও পুরোপুরি স্পষ্ট বা প্রস্তুত করা হয়নি। এছাড়া দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার এখনো পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতাকে অবমূল্যায়ন করা হয় কিংবা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। এই বৈষম্য দূর না হলে সমমান প্রদানের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।

তবে কওমি সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কেবল সরকারের দিকে চেয়ে থাকলেই চলবে না, কওমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকেও যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে ভাবতে হবে। কওমি মাদ্রাসার নিজস্ব স্বকীয়তা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের শেকড় অক্ষুণ্ণ রেখেই তাদের পাঠ্যক্রমে আধুনিক ভাষা শিক্ষা বিশেষ করে ইংরেজি, আধুনিক গণিত, বিজ্ঞান এবং তথ্যপ্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সনদের কার্যকর ব্যবহারের জন্য সাধারণ শিক্ষার সাথে একটি বৈজ্ঞানিক মেলবন্ধন তৈরি করা সময়ের দাবি। অন্যথায় আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীরা শুধু সনদের জোরে টিকতে পারবেন না।

সবশেষে বলা যায়, কওমি সনদের স্বীকৃতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য দেওয়া হয়নি। একে অর্থবহ করতে হলে একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী জাতীয় নীতিমালা তৈরি করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআ’তিল কওমিয়া বাংলাদেশ-কে একসাথে বসে এই অচলাবস্থা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। কওমি শিক্ষার্থীদের মেধা ও শ্রমকে দেশের জাতীয় অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হলে সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, সরকার এই বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মেধার সঠিক মূল্যায়ন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

লেখক: সাবেক সভাপতি, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ