খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

আদালতে ভুয়া তথ্য, বাইরে হামলা—গণপূর্ত কর্মকর্তাদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
আদালতে ভুয়া তথ্য, বাইরে হামলা—গণপূর্ত কর্মকর্তাদের ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ফরিদপুর ও যশোর জুড়ে আলোচিত একাধিক অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং বাদীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মো. রকি হাসান এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান এবং শিরিনা পারভীন আদালতে দায়েরকৃত দুটি মামলায় (পি-৫৭১/২৩ ও পি-৯২৭/২৪) মিথ্যা প্রত্যয়নপত্র দাখিল করেন।

প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন তারা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন, যা বাদীর দাবি অনুযায়ী সম্পূর্ণ অসত্য। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

রকি হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি সরকারি অভিযোগ নিষ্পত্তি প্ল্যাটফর্ম (GRS)-এ অভিযোগ দিয়েও সন্তোষজনক প্রতিকার পাননি তিনি।

এদিকে, একই বিরোধের জেরে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি যশোর শহরে বাদীর ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে রিকশা থামিয়ে রকি হাসান ও তার সঙ্গীদের মারধর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন এবং এক ভরি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে কিছু জিনিস ফেরত দেওয়া হলেও টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ঘটনার তদন্তে যশোর সিআইডি প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে পথরোধ, মারধর, ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকির অপরাধে দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযুক্ত।

বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং সমন জারি হয়েছে। ভুক্তভোগী রকি হাসান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনগত মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে অভিযোগের ব্যাপারে শিরিনা পারভীন বলেন, রকি হাসানের করা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমাদের হয়রানি করার জন্য তিনি এ অভিযোগ করেছেন।

সালথায় লিচু খাওয়ার প্রতিবাদ : বাগান মালিককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
সালথায় লিচু খাওয়ার প্রতিবাদ : বাগান মালিককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আজিজুর রহমান মোল্যা (৬৫) নামে এক বাগান মালিক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বল্লভদি ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজিজুল মোল্যা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের গুপিনগর পাড়ার মৃত মান্নান মোল্যার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আজিজুল মোল্যার লিচুর বাগান থেকে পার্শ্ববর্তী সোনাপুর ইউনিয়নের চরবাংরাইল গ্রামের মোশারফ মুন্সীর দুই ছেলে সাকিল মুন্সী ও তুষার মুন্সী লিচু পেড়ে খায়। বিষয়টি দেখে আজিজুলের ছেলে আকরাম মোল্যা তাদের বাধা দেন।

এর জেরে বিকেলে ফুলবাড়িয়া বাজারে গেলে আকরাম মোল্যার ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ছেলেকে মারধরের খবর পেয়ে সন্ধ্যায় বাজারে যান আজিজুল মোল্যা। সেখানে তিনি ঘটনার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সাকিল ও তুষার মুন্সীসহ কয়েকজন তাকে বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ জানান, লিচু পাড়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বড় ভাইয়ের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী-মেয়ে গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ছলেমান বিশ্বাস (৫৫) নামে এক কৃষকের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার ঘটনায় তারই ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে গ্রেপ্তার মা-মেয়েকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে উপজেলার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মামলার প্রধান আসামি আমির আলী বিশ্বাসের স্ত্রী প্রেমা বেগম (৪২) ও মেয়ে শম্পা আক্তার (২২)।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দা দিয়ে কুপিয়ে বড় ভাই ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন ছোট ভাই আমির আলী বিশ্বাস। এ ঘটনায় কব্জি হারানো ছলেমানের স্ত্রী রাবিয়া বেগম (৪৮) বাদী হয়ে আমিরকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আমিরের স্ত্রী ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত- বাবার সম্পত্তি (জমিজমা) ভাগাভাগি নিয়ে নগরকান্দার ফুলসুতী ইউনিয়নের কাজীকান্দা গ্রামের মৃত তোতা বিশ্বাসের বড় ছেলে ছলেমান বিশ্বাসের সঙ্গে ছোট ছেলে আমির আলী বিশ্বাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে বাড়ির সামনের সড়কে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আমির আলী ধারালো দা দিয়ে তার বড় ভাই ছলেমানের ওপর হামলা চালায়। এতে ছলেমানের বাঁম হাতের কব্জি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাঁজাসহ যুবক আটক: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে হাবিবুর রহমান (১৯) নামে এক যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান উপজেলার চাপুলিয়া গ্রামের আরিফুল মোল্লার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাজড়া মধুমতী নদীর খেয়াঘাট এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন হাবিবুর রহমান। এ সময় স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে তল্লাশি চালালে তার কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমানের নির্দেশনায় পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। আদালত পরিচালনা করেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একেএম রায়হানুর রহমান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে বুধবার (১৩ মে) তাকে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উপজেলাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের মাদক সংক্রান্ত তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য তিনি উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।