খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: ‘আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টের’ প্রতিবাদে আসিফের গ্রেপ্তার দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: ‘আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টের’ প্রতিবাদে আসিফের গ্রেপ্তার দাবি

ফরিদপুরে জেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে শহরের জনতা ব্যাংক মোড়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপনকে নিয়ে ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফের ফেসবুক পোস্টের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে তার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোরশেদুল ইসলাম আসিফ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ দলটির বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর, মানহানিকর ও আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছেন। এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে বলেও দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানহানি করা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি অনিক খান জিতুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রহমান।

সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একইসঙ্গে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে।

সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল জনতা ব্যাংক মোড়ের আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়।

ফরিদপুরে পৌরসভার জায়গা উদ্ধার, অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৌরসভার জায়গা উদ্ধার, অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ

ফরিদপুর পৌরসভার মালিকানাধীন জমি উদ্ধার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

​মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের গোয়ালচামট হাজরাতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

​অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা কবির চৌধুরী পৌরসভার প্রায় ০.২৫ (পয়েন্ট ২৫) শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভিযান চালিয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে ওই অবৈধ স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জমিটি পুনর্দখলে নেয় পৌরসভা।

​উচ্ছেদ অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মো. হাই জকি এবং অতিরিক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিকুল ইসলাম।

​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান, বিদ্যুৎ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল হাসান, যান্ত্রিক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী লাইজিং হোসেন রাজু, হিসাবরক্ষক কৃষ্ণ কুমার সাহা ও কনজারভেনসি পরিদর্শক বিকাশ দত্তসহ স্থানীয় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

​অভিযানের পর পৌর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, শহরের বিভিন্ন স্থানে পৌরসভার জায়গায় যেসব অবৈধ দখলদার রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরসভার সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখা হবে।

সালথায় ইউপি চেয়ারম্যানের ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
সালথায় ইউপি চেয়ারম্যানের ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

ফরিদপুরের সালথায় সমর্থকদের ‘অস্ত্র বানানোর’ নির্দেশ এবং ‘মার্ডার হলে আমি দেখব’—এমন আপত্তিকর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যানকে নিয়ে তীব্র তোলপাড় ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

​সম্প্রতি উপজেলার উজিরপুর বাজারে অনুষ্ঠিত এক সমর্থক সভায় চেয়ারম্যান রফিক মোল্লার ওই বক্তব্যটি ধারণ করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

​ভাইরাল ভিডিওতে ইউপি চেয়ারম্যানকে উপস্থিত সমর্থকদের প্রকাশ্যে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির তাগিদ দিতে এবং কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার ও আইনি বিষয় নিজে সামলানোর প্রতিশ্রুতি দিতে শোনা যায়।

​তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লা। তাঁর দাবি, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও এডিট করা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

​নিজের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “আমার এক দলীয় ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যান ছিনিয়ে নিলেও আমি কোনো আইনি সীমা লঙ্ঘন করিনি। নিজের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার করতে পারতাম, কিন্তু তা না করে পুলিশের কাছে গিয়েছি। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে আমি শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিচ্ছি।”

​এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, ওই বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়টি এখনো তাঁর জানা নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটির বিষয়টি জেলা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, অধিকতর তদন্ত চেয়ে আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, অধিকতর তদন্ত চেয়ে আবেদন

ফরিদপুরে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নীতিমালার স্পষ্ট শর্ত পূরণে অক্ষম ও অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে শতভাগ শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

​এই অনিয়মের প্রতিকার এবং প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বালাইনাশক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘মিয়া ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান (সোহেল মিয়া)।

​আবেদনটির অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রদান করা হয়েছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরকার প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা ২০২৬’-এ ডিলার নিয়োগের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। নীতিমালার ৪.২ ধারা অনুযায়ী, কোনো খাবারের দোকান বা রেস্টুরেন্টের সাথে সারের গোডাউন সংযুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ডিলারশিপের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে খাবারের দোকানের সাথে গোডাউন থাকা শর্তলঙ্ঘনকারী একটি প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রাথমিক বাছাই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শতভাগ শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও মিয়া ট্রেডার্সকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

​আবেদনকারী কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান (সোহেল মিয়া) বলেন, “নীতিমালা অমান্য করে অযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে তালিকায় রাখা স্পষ্ট অনিয়ম। এতে কৃষক ও কৃষি বিভাগের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আমার প্রতিষ্ঠান সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। ন্যায়বিচারের আশায় জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। আশা করি, সঠিক ও অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আমার প্রতিষ্ঠান যোগ্য বিবেচিত হবে এবং আমরা চূড়ান্ত ডিলারশিপ পাব।”

​এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, “আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিনিধি তদন্তে যাওয়ার সময় হয়তো পাশের খাবারের দোকান বা রেস্টুরেন্টটি বন্ধ ছিল, কিংবা আবেদনকারী তথ্য গোপন করে থাকতে পারেন। জেলা কমিটি থেকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলে আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিষয়টি পুনঃযাচাই করে দেখব।”

​অন্যদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক ও জেলা কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমি এখনো বিস্তারিত অবগত নই। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে কথা বলে দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

​এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অফিসিয়াল কাজে স্টেশনের বাইরে থাকায় তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।