খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর হলফনামা: সম্পদের পাহাড়, ব্যবসা ও ঋণে রহস্য

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর হলফনামা: সম্পদের পাহাড়, ব্যবসা ও ঋণে রহস্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-১ (মধুখালী–বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী খন্দোকার নাসিরুল ইসলামের দাখিল করা হলফনামা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদ, আয়-ব্যয়, দায়-দেনা ও মামলার তথ্য উঠে এলেও ব্যবসার প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ না থাকায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

হলফনামা অনুযায়ী, খন্দোকার নাসিরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন ১৫ নভেম্বর ১৯৫৮ সালে। তাঁর পিতা খন্দোকার ফজলুল করীম এবং মাতা বেগম আনোয়ারা করীম। স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানু। তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর গ্রাম। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি বি.এস.সি ডিগ্রিধারী। নিজের ও স্ত্রীর পেশা হিসেবে উভয়ের ক্ষেত্রেই ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করা হয়েছে।

আয় ও আয়ের উৎস:

হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীর বার্ষিক আয়ের উৎস তিনটি খাতে দেখানো হয়েছে। কৃষিখাত থেকে আয় ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ আয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। তবে কোন ধরনের ব্যবসা, কোথায়, কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই আয়—সে বিষয়ে কোনো তথ্য সংযুক্ত করা হয়নি।

অস্থাবর সম্পদ:

প্রার্থীর অস্থাবর সম্পদের তালিকায় নগদ অর্থ রয়েছে ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮২৭ টাকা। ব্যাংকে জমা অর্থ দেখানো হয়েছে ৯১ হাজার ৯৪৫ টাকা। বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ রয়েছে ৮ লাখ টাকা। স্বর্ণালংকার হিসেবে ১৮ ভরি উল্লেখ করা হয়েছে, যা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত বলে দাবি করা হয়েছে। আসবাবপত্রও উপহার হিসেবে পাওয়া বলে উল্লেখ রয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদ:

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তাঁর নামে কৃষি জমি রয়েছে মোট ৫৮০ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং অকৃষি জমি ২২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ জমির একাংশে ২ হাজার ৪২০ বর্গফুট আয়তনের একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে, যা পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রীর নামে কৃষি জমি দেখানো হয়েছে ৩০০ শতাংশ।

দায় ও ঋণের হিসাব:

হলফনামায় দায়ের অংশটি সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিজের দায় হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন ৫ লাখ টাকা—হাত লোন ও ধার হিসেবে। তবে স্ত্রীর দায় দেখানো হয়েছে বিপুল অঙ্কের—১০ কোটি ৭৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
ব্যাংক ঋণের বিবরণীতে দেখা যায়, ঢাকা ব্যাংক থেকে যৌথভাবে নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৭ কোটি ৫৫ লাখ ৫৭ হাজার ১২৮ টাকা। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে তাঁর স্ত্রীর নামে ঋণ রয়েছে ১০ কোটি ৭৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৫ টাকা। এছাড়া ঢাকা ব্যাংক থেকেই আরও ১৬ কোটি ৯৭ লাখ ১৯ হাজার ২৪১ টাকা ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাধে নেওয়া হয়েছে বলে হলফনামায় লেখা আছে। তবে সেই প্রতিষ্ঠানটির নাম বা কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মামলা সংক্রান্ত তথ্য:

খন্দোকার নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা বিচারাধীন এবং আটটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বা চূড়ান্ত রিপোর্ট (এফআরটি) দাখিল হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন:

হলফনামায় ব্যবসা থেকে আয়ের কথা বলা হলেও নিজের ও স্ত্রীর ব্যবসার ধরন, প্রতিষ্ঠানের নাম, শেয়ার বা মালিকানা কাঠামো কোথাও উল্লেখ নেই। একইভাবে বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ কোন কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কার্যক্রম কী—সে বিষয়েও তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। ফলে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে প্রার্থীর আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তাঁদের মতে, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা ভোটারদের অধিকার। হলফনামা আইনগত নথি হওয়ায় এখানে অস্পষ্টতা থাকলে তা নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কী অবস্থান নেয় এবং প্রার্থী পক্ষ থেকে আরও ব্যাখ্যা আসে কি না—সেদিকেই এখন দৃষ্টি রাজনৈতিক মহলের।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের সালথায় ৯ বছর বয়সী ৩য় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত মিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।

মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) ক্ষেত দেখতে গিয়েছিল। এসময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত মিয়া শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে।

​শিশুটির রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করায়। ঘটনার পরদিনই নির্যাতিতা শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকত মিয়াকে একমাত্র আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

​ঘটনা তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষী গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ এ রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, “একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।”

ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের নদী-খালজুড়ে ‘চায়না দুয়ারি’, নিশ্চিহ্নের পথে দেশীয় মাছ

ফরিদপুরের বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’র অবাধ ব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। জেলার সদর, সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা ও আলফাডাঙ্গাসহ প্রায় সব উপজেলায় বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ ধরার এই নিষিদ্ধ ফাঁদের বিস্তার ঘটেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এসব চায়না দুয়ারি বসিয়ে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করা হলেও মৎস্য বিভাগের দৃশ্যমান অভিযান খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন খাল, বিল ও নদীর শাখা-প্রশাখায় বাঁশ, জাল ও প্লাস্টিকের জাল দিয়ে তৈরি চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। পানির প্রবাহের মুখে এসব ফাঁদ স্থাপন করায় ছোট পোনা থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছ পর্যন্ত আটকা পড়ছে। এতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা হৃদয় মোল্যা বলেন, “এ বছর মৎস্য বিভাগকে চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে কোনো অভিযান চালাতে দেখিনি। নদী-খালে অসংখ্য চায়না দুয়ারি বসানো হয়েছে। এগুলো না সরালে কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মাছ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।”

সালথা উপজেলার রহিম শেখ বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে খাল-বিলে জাল ফেললেই নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন চায়না দুয়ারির কারণে মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। প্রশাসনের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।”

নগরকান্দা উপজেলার আব্দুল জলিলের ভাষ্য, “অনেক সময় প্রকাশ্যেই চায়না দুয়ারি বসানো হয়। স্থানীয় লোকজন জানালেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নিয়মিত অভিযান হলে এভাবে কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করতে সাহস পেত না।”

বোয়ালমারী উপজেলার হায়দার মাতুব্বর বলেন, “চায়না দুয়ারি শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা পর্যন্ত ধরে ফেলে। এতে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কায়সার খাঁন বলেন, “সরকার প্রতি বছর মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়। কিন্তু চায়না দুয়ারির মতো নিষিদ্ধ ফাঁদ বন্ধ করা না গেলে সেই উদ্যোগের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।”

আলফাডাঙ্গা উপজেলার কেরামত আলী বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে শুধু অভিযান চালালেই হবে না, যারা বারবার এই ফাঁদ ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”

চরভদ্রাসন উপজেলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিকর্মী আবদুস সবুর কাজল বলেন, “চায়না দুয়ারি এখন ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলের জন্য নীরব দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ ফাঁদে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, এমনকি রেণুপোনা ও ডিমওয়ালা মা মাছও ধরা পড়ছে। ফলে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নয়, নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আগামী প্রজন্ম দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি শুধু বইয়ের পাতাতেই দেখতে পাবে।”

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি এমন একটি স্থায়ী ফাঁদ, যা পানির প্রবাহের মুখে বসানো হয়। এতে বড় মাছের পাশাপাশি রেণুপোনা, কিশোর মাছ এবং ডিমওয়ালা মা মাছও আটকা পড়ে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন চক্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের ফাঁদ ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, জেল অথবা উভয় ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। তারপরও সহজে বেশি মাছ ধরার আশায় অনেকেই এই অবৈধ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “শুধু অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রথমেই এসব চায়না দুয়ারি কোথায় তৈরি ও সরবরাহ হচ্ছে, সেই উৎস চিহ্নিত করে উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু দুয়ারি জব্দ বা ধ্বংস করলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। গত পাঁচ বছরে ফরিদপুরে চায়না দুয়ারির ব্যবহার ভয়াবহভাবে বেড়েছে। দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে আরও কঠোর ও নিয়মিত পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”*

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মৎস্যজীবী সংগঠন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ফাঁদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতাও গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত ও দৃশ্যমান অভিযান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে ফরিদপুরের নদী-নালা ও খাল-বিলে আবারও দেশীয় মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাইতো, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদকে রক্ষায় সরকারকে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমরা চায়না দুয়ারির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ফাঁদ অপসারণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কেউ নিষিদ্ধ ফাঁদ ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবনের দায়ে দুই যুবকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের সদরপুরে মাদক সেবন করে এলাকাবাসীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) নামে দুই তরুণকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) রাত ৮ টার দিকে উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া এলাকার রাজার চর ওয়াজ হাওলাদার কান্দি এলাকায় সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আমিনুল কাজী উপজেলার ঢেউখালি ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মো. আশরাফ কাজী ছেলে ও আজিজুল শেখ একই গ্রামের খলিল শেখের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আমিনুল কাজী (৩১) ও আজিজুল শেখ (২৮) প্রায়ই মাদক সেবন করে পরিবারসহ এলাকার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল ও অপ্রীতিকর আচরণ করেন। এরই প্রেক্ষিতে বুধবারও তারা মাদক ক্রয় করার সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তল্লাশীকালে দুজনের কাছ থেকে ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।