খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর–৪ আসনে আতঙ্ক: নির্বাচনী প্রচারণা ঠেকাতে হামলার অভিযোগ

ফরিদপুর ও চরভদ্রাসন প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ পিএম
ফরিদপুর–৪ আসনে আতঙ্ক: নির্বাচনী প্রচারণা ঠেকাতে হামলার অভিযোগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদপুর–৪ আসনের (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী, স্থপতি মুজাহিদ বেগ। তিনি অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাহত করতে সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে।

রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের তেলিডাঙ্গী এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল প্রতীকের এই প্রার্থী ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রোকন উদ্দিন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে তার নির্বাচনী প্রচার গাড়িতে থাকা কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মুজাহিদ বেগের কয়েকজন ভাই ও কর্মী চরভদ্রাসন বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। রাত এগারোটার দিকে সেখান থেকে ফেরার পথে ২০–৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এ সময় গাড়িচালক বাবু তালুকদার (২৮) ও কামরুল মোল্যা বাবু (৩৪) নামে দুইজনকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় গাড়িরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় চরভদ্রাসন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান মুজাহিদ বেগের সমর্থক মো. সজীব বেগ, যিনি থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বেগ বলেন, “আমি প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে আমার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জনের চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচনী মাঠে ছিলাম। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ফরিদপুর–৪ আসনের নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে আমার কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেছে। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, হামলা ও হুমকির ঘটনা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, সে জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা নির্বাচন অনুসন্ধানকারী সংশ্লিষ্ট বিচারকের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।