খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউপি সচিব নিহত, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ইউপি সচিব নিহত, আহত ৫

ফরিদপুরে বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. রিবুল হোসেন (৪২) নামে এক ইউপি সচিব নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন। 

সোমবার (২২ জুন) সকালে সদর উপজেলার করিমপুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি সদরের ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও পাশের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ফরিদপুরগামী একটি লোকাল বাস করিমপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একই সঙ্গে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রিবুল হোসেন গুরুতর আহত হন। এছাড়া বাসে থাকা অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। পরে আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিবুল হোসেন মারা যান।

নিহত রিবুল হোসেন বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত কয়েক মাস আগে বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বদলি হয়ে ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সহ নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও করিমপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল হক জানান, এ ঘটনায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রিবুল নামে একজন মারা যায়। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‘জিকের পাড়ের কদম ফুল’

সোহানুর রহমান
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
‘জিকের পাড়ের কদম ফুল’

জিকের পাড়ে একটি কদমগাছ দেখলাম বটে। কিন্তু গাছে কোনো ফুল নেই। মাটিতে পড়ে আছে কয়েকটি কদমফুলের অবশেষ—তবে তাতে নেই পুংকেশর, নেই পরাগধানী; শুধু পড়ে আছে নিঃসঙ্গ পুষ্পাধার। মনে হলো, যেন কেউ ফুলের সমস্ত সৌন্দর্য তুলে নিয়ে গেছে, রেখে গেছে শুধু স্মৃতি।

না, সেটি তোমার জন্য মানানসই নয়-

এদিকে আষাঢ়ের প্রায় অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। প্রতিদিন অপরাহ্ণ নামলেই আকাশজুড়ে জমে কালো মেঘ। দূর দিগন্ত থেকে ভেসে আসে শীতল হাওয়া, কখনও মেঘের গম্ভীর গর্জন। জিকের পাড়ের সেই মায়াময় পথ ধরে হাঁটি আমি—প্রতিদিন, একই রকম অপেক্ষা বুকে নিয়ে।

তুমি হয়তো ভেবেছো, কিংবা পণ করেছো—কদমফুলের কথা আর মুখেও আনবে না। হয়তো আমাকে পরখ করে দেখছো। পরিচয়ের শুরুতে যে ‘মেঘাগমপ্রিয়’ হওয়ার কথা বলেছিলাম, সে কথা আমি ভুলে যাই কি না, সেটাই হয়তো দেখতে চাও।

না, আমি ভুলিনি।

বরং কদমফুলের গাছ খুঁজতে খুঁজতে কতবার যে জিকের পাড়ে হোঁচট খেতে খেতে চলেছি, তার হিসাব নেই। কত বিকেল, কত মেঘলা আকাশ, কত অকারণ পথচলা—সবই যেন একটিমাত্র প্রতিশ্রুতির কাছে ঋণী।

তবে এবার যখন কদমফুল আনব—

যদি আকাশে মেঘ না-ও থাকে, যদি সজল পবন না-ও বয়, যদি এই আষাঢ় হঠাৎ চৈত্রের রূপ ধারণ করে,
তবুও তোমার নিঃশ্বাস আর আমার নিঃশ্বাসের মাঝখানে একটি কদমফুলের ক্যারোলা টিউব রেখে একটি ছবি তুলব।

সেই ছবিতে হয়তো থাকবে না বর্ষার আবহ, থাকবে না মেঘের গর্জন কিংবা বৃষ্টির ছোঁয়া। তবু থাকবে অপেক্ষার ইতিহাস, প্রতিশ্রুতির সুবাস এবং দুটি মানুষের নীরব বোঝাপড়া।

আর যদি হঠাৎ ঝঞ্ঝাবায়ু আসে, যদি আকাশ ভেঙে নামে বর্ষণ, তবে চার হাত এক করে কদমের পুষ্পমঞ্জরি বাতাসে উড়িয়ে দেব। উড়ে যাক ফুলের পাপড়ি, ছড়িয়ে পড়ুক আষাঢ়ের গোপন আনন্দ।

কথা দিলাম—

এই বর্ষায়, এই আষাঢ়ে, একদিন তোমাকে আমি জিকের পাড়ের কদমফুল দেব।

শুধু একটি ফুল নয়, দেব মেঘমাখা বিকেল, জিকের পাড়ের মায়াপথ, আর অপেক্ষায় ভেজা আমার সমস্ত হৃদয়।

ফরিদপুরে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝটিকা মিছিল, আটক ২

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঝটিকা মিছিল, আটক ২

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা-নগরকান্দা সীমান্তে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করেছে। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের পাল্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে দিনভর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।

সোমবার (২৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গা ও নগরকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী শুয়াদি এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী হঠাৎ একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জেলার নগরকান্দা সীমান্তে মিছিলটি কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তবে এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়দের দাবি, আটকের পর তাদের মারধর করা হলে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আটক দুজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কারা মিছিলে অংশ নিয়েছিল এবং আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ফরিদপুর জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ফরিদপুর পৌরশহর, ভাঙ্গা, মধুখালীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেহকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। দলটির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনো পক্ষ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রাজনৈতিক ব্যক্তিরা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো জেলার বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা দেখা গেছে। একদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা, অন্যদিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

তবে প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ফরিদপুরে তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তিন বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ

ফরিদপুরে তিন বছর বয়সী শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত কিশোর আব্দুর রহমানকে (১৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে ওই শিশুকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার (২২ জুন) দুুপুরে শহরের আলীপুর এলাকায় বাড়ির সামনে শিশুকন্যাটি দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় প্রতিবেশী কিশোর আব্দুর রহমান (১৪) শিশুটিকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমি নিজে ফোর্স সহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারি। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুর রহমান নামের কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ওই শিশুটির পিতা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রহমানকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।