খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ভোররাতে বসতঘর উচ্ছেদ ও লুটপাটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

মনিরুল ইসলাম টিটু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভোররাতে বসতঘর উচ্ছেদ ও লুটপাটের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের মতিয়ারের কুম এলাকায় রাতের আঁধারে একটি বসতঘর তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে একদল লোক আকস্মিকভাবে ঘরের চাল ও বেড়া খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ভুক্তভোগীরা জানান, ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া ওই জমিতে দুই ভাই উজ্জ্বল শেখ ও সুজন শেখ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ বসবাস করে আসছিলেন। জমিটি নিয়ে তাদের আপন চাচা, আলীয়াবাদ ইউনিয়নের ০৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাম শেখের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলা দিয়ে পরিবারটিকে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তাদের।

ঘরের বাসিন্দা উজ্জ্বল ও সুজন শেখের বোন সুলতানা বেগম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের চাচা সালাম শেখ এই জায়গা থেকে আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। একাধিকবার শালিস বৈঠকও হয়েছে। সামনের অংশের জমির মূল্য বেশি হওয়ায় তিনি সেটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালাম শেখের নির্দেশেই বুধবার ভোররাতে তার লেলিয়ে দেওয়া লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। তারা ঘরের চাল ও বেড়া খুলে নিয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা মালামাল লুটপাট করে। তবে ওই সময় ঘরে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

সুলতানা বেগম জানান, ঘটনার সময় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে সকালে বাড়িতে ফিরে আসেন সুজন শেখের স্ত্রী তানিয়া বেগম। তিনি বলেন, “ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি টিউবওয়েলটিও খুলে নিয়ে গেছে তারা।”

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সালাম শেখ। তিনি বলেন, “ঘর ভাঙচুর বা লুটপাটের সঙ্গে আমি বা আমার কোনো লোক জড়িত নই। যারা সেখানে ছিল, তারাই ঘর ভেঙে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে।” তবে তিনি দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্তরা অন্যের জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করছিলেন।

আলীয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ডাবলু বলেন, “এটি অত্যন্ত জঘন্য ও নিন্দনীয় ঘটনা। রাতের আঁধারে একটি পরিবারকে মুহূর্তের মধ্যে উচ্ছেদ করা অমানবিক।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া এ লোকজ উৎসব।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।

​সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

​প্রতিযোগিতা চলাকালে কুমার নদের দুই কূলে বসে হাজার হাজার উৎসবমুখর মানুষের মিলনমেলা। আশেপাশের ভবনের ছাদ, নদের দুই ধার এবং ব্রিজের ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদে নেমে বাইচ উপভোগ করেন। উৎসবকে ঘিরে নদের দুই তীরে মিষ্টি ও গৃহস্থালি পণ্যের নানা ধরনের ভাসমান দোকানও বসে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সার গানের মতো সব ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”

​পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

​ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে স্থানীয় মধুমতি নদীর বাঁওড় পাড়ে বসেছিল প্রাণবন্ত গ্রাম্য মেলা।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রামীণ বিনোদন পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ। দুপুর থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের হাজারো দর্শকের ঢল নামে বাঁওড় পাড়ে। নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলো ঝলমলে চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

​বাইচ ও টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গোপালপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোনায়েম খান বলেন, “আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।