খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

জমি কেনার স্বপ্নে হুমকি আতঙ্ক : হার্ট অ্যাটাকে ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম
জমি কেনার স্বপ্নে হুমকি আতঙ্ক : হার্ট অ্যাটাকে ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ব্যবসা সম্প্রসারণের স্বপ্ন ছিল ফরিদপুরের বোয়ালমারীর তরুণ সার ব্যবসায়ী তপন কুমার বিশ্বাসের। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই থেমে গেল তার জীবন। জমি কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ ও বিক্রেতার প্রাণনাশের হুমকিতে চরম মানসিক চাপে পড়ে অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের মোড়াগ্রামে। নিহত তপন কুমার বিশ্বাস ওই এলাকার বাসিন্দা ও পরিচিত একজন তরুণ সার ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসা বড় করার উদ্দেশ্যে মোড়া বাজারসংলগ্ন রাস্তার পাশে চার শতাংশ জমি কেনার সিদ্ধান্ত নেন তপন। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোল্যা (৫০)-এর কাছ থেকে জমিটি কেনার জন্য ধাপে ধাপে মোট ২৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি।

তবে টাকা নেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে জমির দলিল লিখে দিতে গড়িমসি করতে থাকেন রফিকুল ইসলাম। একপর্যায়ে জমি লিখে দেওয়া অথবা টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে তপনের সঙ্গে তার বিরোধ চরমে পৌঁছে।

গত মঙ্গলবার সকালে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে তপন কুমার বিশ্বাসকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ এই হুমকিতে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তপন। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তপন কুমার বিশ্বাস হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন দিবাগত রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

তপনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার মরদেহ নিয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নেন। সেখানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে ডহরনগর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পরিস্থিতি শান্ত করতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা ও পৌর বিএনপির সহসভাপতি মো. ইকরাম মিয়া ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের মধ্যস্থতায় উভয় পরিবারের মধ্যে একটি আপোষ মীমাংসা হয়।

মীমাংসার অংশ হিসেবে রফিকুল ইসলামের পরিবার নিহত তপনের স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকার একটি ব্যাংক চেক প্রদান করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে জমি লিখে দেওয়া হলে চেকটি ফেরত নেওয়া হবে।

নিহত তপনের বাবা, বীর মুক্তিযোদ্ধা সনজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে টাকা নিয়েও জমি লিখে দেয়নি। টাকা ফেরত চাইলে আমার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। সেই হুমকিতেই আমার ছেলে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে। আপোষের পর ছেলের সৎকার সম্পন্ন করেছি।”

এ বিষয়ে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে আপোষ মীমাংসা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

 

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।