খুঁজুন
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ২১ বৈশাখ, ১৪৩৩

“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
“চেনা কেউ আসবে কি?” ফরিদপুরের বৃদ্ধাশ্রমে নুরজাহান বেগমের অপেক্ষার জীবন

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া থাকে একটু স্নেহ, একটু খোঁজখবর আর প্রিয়জনের পাশে থাকার সুযোগ। কিন্তু সব মানুষের ভাগ্যে তা জোটে না। ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার ‘শান্তি নিবাস’—যা স্থানীয়দের কাছে বৃদ্ধাশ্রম হিসেবেই বেশি পরিচিত—সেখানে এমনই এক নীরব জীবনের গল্প বয়ে বেড়াচ্ছেন নুরজাহান বেগম।

বয়স তার ৬০ পেরিয়েছে বহু আগেই। জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে সংগ্রাম আর একাকীত্বে। পৃথিবীতে নিজের বলতে তেমন কেউ নেই বলেই শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রমে। এখানে এখন তার দিন কাটে অপেক্ষায়, স্মৃতির ভেতর ঘুরে বেড়ানো আর মৃত্যুর প্রহর গোনায়।

নুরজাহান বেগমের জন্ম ফরিদপুর জেলা সদরের হারোকান্দিতে। ছোটবেলাতেই জীবনে নেমে আসে দুঃখের ছায়া। যখন তার বয়স মাত্র নয় বছর, তখনই মারা যান তার বাবা আইনউদ্দিন শেখ। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই কিছুদিনের মধ্যে হারান মাকেও। এত অল্প বয়সে এত বড় শূন্যতা তাকে একেবারেই অসহায় করে তোলে।

এরপর আশ্রয় মেলে বড় বোনের সংসারে। বোনের বাসাতেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা তার জীবনের স্বাভাবিক পথকে বদলে দেয়। ছোটবেলা থেকেই তার দুই পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে এবং তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। স্থানীয় ভাষায় যাকে অনেকে “পা ফোলা রোগ” বলে উল্লেখ করেন। এই অসুস্থতার কারণেই তিনি কখনো স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা বা ভারী কাজ করতে পারেননি।

নুরজাহান বেগম নিজেই বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই পায়ের সমস্যায় ভুগছি। হাঁটতে কষ্ট হয়, ব্যথা করে। তাই ভাবতাম, যদি বিয়ে করি তাহলে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে পারব না। কারও বোঝা হয়ে থাকতে চাইনি। তাই জীবনে বিয়ে করিনি।”

সময়ের সাথে সাথে বোনের জীবনেও পরিবর্তন আসে। বোনের বিয়ে হয়, সংসার গড়ে ওঠে, সন্তান হয়। পরিবারের সদস্য বাড়তে থাকে। সেই সংসারে ধীরে ধীরে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে হতে শুরু করে নুরজাহানের।

তিনি বলেন, “বোনের সংসার হলো, ছেলে-মেয়ে হলো। তখন বুঝলাম আমি যেন ওদের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছি। কারও ওপর চাপ হয়ে থাকতে ভালো লাগে না। এক সময় আমাকে এই বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে আসা হয়।”

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকার শান্তি নিবাস বহু বছর ধরে অসহায় ও নিঃস্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। এখানে থাকা অনেকের মতো নুরজাহান বেগমের জীবনেও রয়েছে না বলা অনেক গল্প, কষ্ট আর স্মৃতি।

বৃদ্ধাশ্রমের ছোট্ট একটি কক্ষে তার এখনকার বাস। সেখানে একটি খাট, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আর দেয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো স্মৃতিই তার সঙ্গী।

তবে পুরোপুরি ভুলে যাননি তার আপনজনরা—এমনটাও নয়। মাঝে মাঝে বোনের পরিবারের কেউ কেউ তাকে দেখতে আসে। কখনো ফোন করে খোঁজখবর নেয়। এই সামান্য যোগাযোগই তার কাছে বড় সান্ত্বনা হয়ে আসে।

নুরজাহান বেগম বলেন, “অনেকদিন পর পর ওরা আসে। কখনো মোবাইলে কথা বলে। তখন মনে হয়, এখনও কেউ আছে আমার খোঁজ নেওয়ার।”

বৃদ্ধাশ্রমের বারান্দায় বসে প্রায়ই তিনি রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। হয়তো মনে মনে আশা করেন—হঠাৎ করেই কোনো পরিচিত মুখ সামনে এসে দাঁড়াবে।

“এই বৃদ্ধাশ্রমই এখন আমার ঘর। এখানেই মাথা ঠুকে বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে বসে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকি। যদি চেনা কেউ আসে,”—কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখে ভেসে ওঠে এক অদৃশ্য শূন্যতা।

এভাবেই দিন যায়, রাত আসে। আর তিনি ধীরে ধীরে গুনতে থাকেন জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা।

“স্বপ্ন বলতে এখন আর কিছু নেই,”—শান্ত কণ্ঠে বলেন নুরজাহান বেগম। “দিন আসে, রাত যায়। মনে হয় শুধু মৃত্যুর প্রহর গুনছি।”

বৃদ্ধাশ্রমের দায়িত্বশীলরা জানান, এখানে থাকা অনেক মানুষের মতো নুরজাহান বেগমও অত্যন্ত শান্ত ও নিরহংকার একজন মানুষ। নিজের কষ্টের কথা খুব কমই বলেন। বেশিরভাগ সময় চুপচাপ থাকেন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবারভিত্তিক সামাজিক কাঠামো এখনও শক্তিশালী হলেও অনেক ক্ষেত্রে অসহায় ও বয়স্ক মানুষেরা পরিবারের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের শারীরিক অসুস্থতা বা আর্থিক সংকট রয়েছে, তাদের জীবনে এই বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

নুরজাহান বেগমের জীবনও যেন সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিচ্ছবি।

তবুও তার চোখে মাঝে মাঝে একটুখানি আশা জ্বলে ওঠে—হয়তো কোনোদিন আবার কেউ এসে বলবে, “চলো, তোমাকে নিয়ে যাই নিজের ঘরে।”

ততদিন পর্যন্ত ফরিদপুরের টেপাখোলার এই শান্তি নিবাসই তার আশ্রয়, সঙ্গী আর জীবনের শেষ ঠিকানা।

খাঁচায় বন্দি রেখে পাখি পালন করা কি জায়েজ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
খাঁচায় বন্দি রেখে পাখি পালন করা কি জায়েজ?

আকাশের নীল মায়ায় পাখিরা ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, কিচিরমিচির সুরে মন ভরিয়ে তোলে। কিন্তু আজকাল আমাদের সমাজে দেখা যায়, শখের বসে এই স্বাধীন প্রাণীদের লোহার খাঁচায় বন্দি করে রাখা হচ্ছে।

টিয়া, ময়না কিংবা নানা রঙের বিদেশি পাখি ধরে এনে চার দেয়ালের ভেতরে আটকে রাখা হচ্ছে কেবল মানুষের আনন্দের জন্য।

অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে প্রাণীর প্রতি দয়া দেখাতে, তাদের কষ্ট না দিতে। তাই প্রশ্ন জাগে, আমাদের এই শখ কি আল্লাহর বানানো প্রাণীর হক নষ্ট করছে না? পাখিদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আনন্দ করা কি ইসলামের চোখে বৈধ, নাকি জুলুমের নামান্তর?

চলুন তাহলে জেনে নিই, খাঁচায় বন্দি রেখে পাখি পালন জায়েজ আছে কি না—

রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, খাঁচার ভেতরে সেই সমস্ত পাখি পুষতে পারেন, যে পাখিগুলো সাধারণত বাইরে অন্যান্য পাখিদের সঙ্গে উড়ে আত্মরক্ষা করতে পারে না। যেমন টিয়া পাখির কথা বলতে পারেন। এরা নরমালি অন্যান্য পাখিদের মতো উড়ে আত্মরক্ষা করতে পারে না।

কিন্তু যে পাখিগুলো নরমালি উড়ে বেড়ায়, নিজেকে আত্মরক্ষা করতে সামর্থ্যবান, এজাতীয় পাখিকে খাঁচায় বন্দি রেখে পালন করা যাবে না। এটা জুলুম হবে।

কিছু কিছু মানুষ আছে, পাখি ধরে নিয়ে আসতেছে কিন্তু বাচ্চা পাখি থেকে যাচ্ছে, আবার বাচ্চা ধরে নিয়ে আসতেছে মা-পাখি থেকে যাচ্ছে—নবীজি (সা.) এমনটা করতে নিষেধ করেছেন। মনে রাখতে হবে, আমাদের ফূর্তি যেন তাদের কষ্টের কারণ না হয়।

খাঁচায় পাখি পালার শর্ত ও নিয়ম

শখের বশে খাঁচায় পাখি পালতে গেলে যথাযথভাবে পাখিগুলোর পরিচর্যা করতে হবে। দানাপানি দিতে না পারলে বা আদর-যত্ন সম্ভব না হলে কিংবা কোনো কারণে পাখি কষ্ট পেলে খাঁচায় আটকে রাখা জায়েজ হবে না। বরং ছেড়ে দেওয়া আবশ্যক।

ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের জন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে তাকে বেঁধে রেখেছিল এবং অবশেষে বিড়ালটি মারা গিয়েছিল, পরিণতিতে নারী তারই কারণে জাহান্নামে প্রবেশ করল। সে যখন তাকে বেঁধে রেখেছিল, তখন তাকে আহার ও পানি দিত না এবং তাকে ছেড়েও দিত না যে, সে কীটপতঙ্গ ধরে খাবে।’ (বোখারি : ২৩৬৫, মুসলিম : ২২৪২)

সূত্র : কালবেলা

সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ট্রেন্ড ‘ক্রেয়ন আর্ট’, যেভাবে সহজেই তৈরি করবেন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন ট্রেন্ড ‘ক্রেয়ন আর্ট’, যেভাবে সহজেই তৈরি করবেন?

সোশ্যাল মিডিয়ার জগতে ট্রেন্ড খুব দ্রুত বদলে যায়। কখনো জিবলি অ্যানিমেশন স্টাইল, আবার কখনো থ্রিডি ক্যারিকেচার। নতুন নতুন ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে ব্যবহারকারীরা নিয়মিত মেতে ওঠেন। এবার সেই ধারায় নতুন সংযোজন হয়েছে ‘ক্রেয়ন ড্রয়িং’ স্টাইলের প্রোফাইল ছবি, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এই স্টাইলে তৈরি ছবিগুলো দেখতে অনেকটা শিশুদের হাতে আঁকা ছবির মতো। রঙিন মোম পেন্সিলের হালকা ছোঁয়ায় অগোছালো কিন্তু একই সঙ্গে সরল ও আবেগঘন এক অনুভূতি তৈরি করে।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রোফাইল ছবি এই স্টাইলে রূপান্তর করে শেয়ার করছেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে উঠছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এই ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জনপ্রিয়তার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এটি মানুষের শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে—যখন সাদা কাগজে রঙ-পেন্সিলে আঁকিবুঁকি ছিল আনন্দের অংশ।

দ্বিতীয়ত, এআই প্রযুক্তির কারণে এখন খুব সহজেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এমন আর্টিস্টিক ছবি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা আগে সময়সাপেক্ষ ও জটিল ছিল। তৃতীয়ত, প্যাস্টেল রঙের ব্যবহার, স্কেচের স্বাভাবিক অগোছালো ভাব এবং উজ্জ্বল ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এই ট্রেন্ডকে আলাদা ও চোখে পড়ার মতো করে তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে এই ‘ক্রেয়ন ড্রয়িং’ স্টাইলের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

কীভাবে বানাবেন আপনার ‘ক্রেয়ন’ প্রোফাইল?

এই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়া খুবই সহজ, বিশেষ কোনো ডিজাইন দক্ষতারও প্রয়োজন নেই।

ধাপগুলো:

আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের একটি স্ক্রিনশট বা পরিষ্কার ছবি নিন (যেখানে মুখ স্পষ্ট দেখা যায়)

পর্যাপ্ত আলোযুক্ত ছবি ব্যবহার করলে ফলাফল ভালো হবে

ছবিটি ChatGPT-এ আপলোড করুন

ইংরেজি প্রম্পট:

Please recreate the entire image in a crayon drawing style. Simplify the details so that it looks like it was drawn by a 10-year-old child. Do not use the original colors from the image. Make the overall look feel like it was drawn on a sheet of white paper, with a very cute and playful vibe. You can add adorable elements such as flowers, candies, stars, clouds, etc., to give it a childlike and innocent feel.

বাংলা প্রম্পট:

এই ছবিটিকে ক্রেয়ন ড্রয়িং স্টাইলে রূপান্তর করো। এটা যেন ১০ বছরের বাচ্চার আঁকা ছবির মতো দেখায়। ছবিতে ফুল, তারা, মেঘ ও ক্যান্ডির মতো উপাদান যোগ করে এটিকে কিউট ও প্লেফুল করে তোলো।

ছবি তৈরি হওয়ার পর আপনি চাইলে রঙ পরিবর্তন বা ব্যাকগ্রাউন্ডে নতুন উপাদান যোগ করার অনুরোধও করতে পারেন।

সূত্র : কালবেলা

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি

বিয়ে কেবল একটি সামাজিক বন্ধন বা ধর্মীয় রীতিই নয়, এটি সরাসরি জড়িয়ে আছে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের সঙ্গে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশাল গবেষণায় উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনও বিয়ে করেননি কিংবা একাকী জীবনযাপন করছেন, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। বিশেষ করে ধূমপান বা সংক্রমণজনিত ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট বলে জানানো হয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র। যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা।

সূত্র : সামা টিভি।