খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ে আতঙ্ক, মিলছে না এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ এএম
ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ে আতঙ্ক, মিলছে না এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন

ফরিদপুরে দিন দিন বাড়ছে কুকুর ও বিড়ালের কামড়ের ঘটনা। অথচ এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির সময়েই সংকট দেখা দিয়েছে জীবনরক্ষাকারী এন্টিরেবিস ভ্যাকসিনের। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি ফার্মেসি—কোথাও মিলছে না পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন। ফলে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন কামড়ে আক্রান্ত ভুক্তভোগীরা।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল থেকেই ১৬ হাজার ২১৭ জনকে এন্টিরেবিস ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৮৬ জন এবং বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহত হয়েছেন ১১ হাজার ১৩৮ জন। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে ফরিদপুরে রেবিস ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে সেই ঝুঁকি মোকাবিলার প্রধান অস্ত্র এন্টিরেবিস ভ্যাকসিনই মিলছে না। গত ৩-৪ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতে একাধিক কোম্পানি ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সরকারি হাসপাতালেও ১৫ দিন ধরে ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে এসে তারা ভ্যাকসিন না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন। সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, “রাস্তার কুকুর কামড় দেওয়ার পর ডাক্তার বললো দ্রুত ভ্যাকসিন নিতে। হাসপাতালে এসে শুনি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে ফার্মেসি ঘুরেও পাইনি। এখন খুব ভয় লাগতেছে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ভাঙ্গা উপজেলার গৃহবধূ নাসরিন আক্তার। তিনি বলেন, “আমার ছোট ছেলেকে বিড়াল কামড়েছে। রেবিস হলে তো বাঁচার সুযোগ নাই। কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন পাচ্ছি না। সন্তানকে নিয়ে কী করবো বুঝতে পারছি না।”

চিকিৎসকরা বলছেন, রেবিস একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ, তবে সময়মতো ভ্যাকসিন নিলে তা পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কামড়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভ্যাকসিন না থাকলে আমরা রোগীদের কীভাবে সুরক্ষা দেব?”

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “গত ১৫ দিন ধরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে কোনো ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই। দুই-তিনদিন ধরে ফার্মেসীতেও পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে, ভ্যাকসিন সংকটের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি। যোগাযোগ রাখছি, টেন্ডারও হয়েছে। আশা করছি অতিদ্রুতই এর সমাধান হবে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।” তবে কবে নাগাদ ভ্যাকসিন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এ প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সচেতন নাগরিক মহল বলছে, এটি শুধু একটি ওষুধ সংকট নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “রেবিস কোনো সাধারণ রোগ নয়। একটি কামড় মানেই একটি জীবন ঝুঁকিতে। অথচ আমরা দেখছি দায়িত্বশীল মহলের গাফিলতি। আগে থেকেই যদি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রাখা হতো, তাহলে আজ মানুষ এভাবে দিশেহারা হতো না।”

তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগের উচিত তিন বছরের জন্য একটি চাহিদা করে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা। যাতে কোনো বছরই সংকট না হয়। এছাড়া একটি ভ্যাকসিন চারজনকে দিতে হয়। যেটা নাগরিকের জন্য কিনতেও সমস্যা। তাই সরকারকেই এই ভ্যাকসিন সরবারহ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু ভ্যাকসিন সরবরাহ নয়, একই সঙ্গে কুকুর ও বিড়ালের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়মিত টিকাদান, স্ট্রিট ডগ ম্যানেজমেন্ট এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে অসংখ্য ভবঘুরে কুকুর। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। অথচ পৌরসভা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেবিস প্রতিরোধে তিনটি বিষয় একসঙ্গে জরুরি—পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা, দ্রুত চিকিৎসাসেবা এবং প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। এই তিনটির যেকোনো একটি ব্যাহত হলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে।

ফরিদপুরে কুকুর–বিড়ালের কামড়ের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অবিলম্বে ভ্যাকসিন সংকট সমাধান না হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই যদি স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে উদ্যোগ না নেন, তাহলে এই নীরব সংকট যে কোনো সময় প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও লাবলু মিয়া, সালথা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি। নেই কোনো ঘর, নেই আধুনিক সেলুনের ঝাঁ চকচকে সাজসজ্জা। তবু এই পুকুরপাড়েই প্রতিদিনের মতো বসে মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৮৭ বছর বয়সী অকিল শীল। হাতে পুরোনো কাঁচি আর ক্ষুর—এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই তিনি টানা ৬৬ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামেও এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য সেলুন। উন্নত চেয়ার, আয়না, বৈদ্যুতিক ট্রিমার আর সাজানো দোকান—সবই আছে সেখানে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারের এই পুকুরপাড়ে বসা বৃদ্ধ নাপিতের কাছে এখনও ভিড় করেন অনেকেই। কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, বিশ্বাস আর গ্রামীণ জীবনের এক সরল অধ্যায়।

শৈশবেই পেশায় যুক্ত:

অকিল শীলের বাড়ি পাশের নগরকান্দা উপজেলার সদর গ্রামের চৌমুখা এলাকায়। তাঁর পিতা হরিবদন শীল ছিলেন পেশায় নাপিত। ছোটবেলা থেকেই বাবার পাশে বসে তিনি এই কাজ শেখেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই কৈশোরেই জীবিকার তাগিদে পেশাটিকে বেছে নিতে হয় তাকে।

প্রথমদিকে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিজেই কাজ শুরু করেন। প্রায় ৬৬ বছর আগে মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে বসেই তিনি নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজও একই জায়গায় বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অকিল শীল।

হাটের দিনেই জমে ওঠে সেলুন:

মাঝারদিয়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। সাধারণত হাটের দিন সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে চলে আসেন অকিল শীল। সঙ্গে থাকে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো কাঁচি, ক্ষুর আর কয়েকটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

পুকুরপাড়ে পিঁড়ি পেতে বসেই শুরু হয় তাঁর দিনের কাজ। গ্রামের মানুষজন একে একে এসে বসেন তাঁর সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সিরিয়াল ধরে বসে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কাঁচি চালিয়ে চুল কাটছেন তিনি। মাঝে মাঝে ক্ষুর দিয়ে দাড়িও ছেঁটে দেন।

এই পুকুরপাড়ের ছোট্ট জায়গাটিই যেন তাঁর সেলুন, আবার কর্মজীবনের স্মৃতিবহ স্থান।

গ্রাহকদের কাছে প্রিয় ‘অকিল দা’:

স্থানীয় অনেকেই এখনও আধুনিক সেলুন ছেড়ে অকিল শীলের কাছেই চুল কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ নাপিতের সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মাতুব্বর বলেন, “আমি সেলুনে চুল কাটাই না। ছোটবেলা থেকে অকিল দার কাছেই চুল কাটাই। এখন বয়স হয়েছে, তবু তাঁর হাতের কাঁচির ওপর ভরসা আছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ওনার কাছে ধনী-গরিব সবাই চুল কাটান। কেউ তাকে অবহেলা করে না। বরং অনেকেই গল্প করতে করতে চুল কাটান। ওনার কাছে চুল কাটাতে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অকিল শীল শুধু একজন নাপিত নন, তিনি যেন বাজারের একটি জীবন্ত ইতিহাস।

সামান্য আয়েই চলে সংসার:

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপরই ভর করে তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা আসে।”

বয়সের কারণে কাজ করা কঠিন হলেও তিনি এখনো থামতে চান না।

অকিল শীল বলেন, “বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

পরিবারের কেউ নেননি পেশা:

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”

তবে তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ কর্মযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক প্রতীক:

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকে নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

একসময় গ্রামে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসে নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।”

কাঁচির টুংটাং শব্দে লেখা জীবনের গল্প:

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।

গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার, আধুনিকতার চাপ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনো মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য—একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনো ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের গল্প। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।