খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে অভিভাবকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে ৭ মাসের শিশুর মৃত্যু, আতঙ্কে অভিভাবকরা

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে রহিমা আক্তার নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, বুধবার (০১ এপ্রিল) সকালে শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় থেকেই তার অবস্থার অবনতি ছিল বলে জানান চিকিৎসকরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রহিমা আক্তার মাদারীপুর সদর উপজেলার কাউদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ খানের মেয়ে। শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে হামের উপসর্গ—যেমন জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও দুর্বলতা—নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার মহাখালীস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাইনি। তবে উপসর্গ বিবেচনায় চিকিৎসকরা এটিকে ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু হিসেবে ধারণা করছেন।”

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৫ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নতুন করে আরও ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে দুই হাসপাতালে মোট ২৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন এবং জেনারেল হাসপাতালে ৮ জন ভর্তি আছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে এর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। তাই শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এদিকে, জেলায় হামের উপসর্গ বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।

ফরিদপুরের নগরকান্দায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

প্রবীর কান্তি বালা, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় পপি বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (০১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সদর বাজারে চেয়ারম্যানের গলি এলাকার গোলাম মোস্তফার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পপি বেগম নগরকান্দার কাইচাইল ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর বাড়ি একই ইউনিয়নের শ্রীরামপট্টি গ্রামে। তবে পপি বেগম, স্বামী শহিদুল ইসলাম এবং দুই মেয়ে এক ছেলেকে নিয়ে নগরকান্দা সদরে গোলাম মোস্তফার বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

গোলাম মোস্তফা নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ছিলেন, পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা করেন। তিনি দৈনিক সরেজমিন বার্তার নগরকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদুল ইসলাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। তিনি সেখানে প্রায় ৮ বছর অবস্থান করেন। তবে গত ৫ বছর ধরে তিনি দেশে অবস্থান করছেন।

ঘটনার পর বুধবার বিকেলে পপির মা বিউটি বেগম (৫৫) বাদী হয়ে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তার মেয়ের “অস্বাভাবিক মৃত্যু” দাবি করে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করার দাবি জানিয়ে নগরকান্দা থানায় একটি অভিযোগ দেন।

কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও সাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মাতুব্বর বলেন, গত ২৯ মার্চ পপি তার বোনের বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গতকাল বুধবার সকালেই নিজের বাসায় ফিরে আসেন।

ফারুক মাতুব্বর আরও বলেন, স্বামী শহীদুল ইসলাম কোন কাজ করতেন না এবং জুয়া ও তাস খেলে দিন কাটাতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল।

এ লাশ উদ্ধারে দায়িত্ব পালনকারি নগরকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম জানান, পপির এক মেয়ে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্কুল থেকে ফিরে তাদের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। পরে ঘরের ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মায়ের লাশ দেখতে পায়।

ইরানুল ইসলাম আরও বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানি আজাদ বলেন, এই মৃত্যুটি অস্বাভাবিক। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, লাশ উদ্ধার করে গতকাল বুধবার বিকেলেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পপির মায়ের মামলাটি আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের যদি এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রতিবেদন পাওয়া যায় তাহলে এই মামলাই হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

ফরিদপুরে ওষুধ ভেবে ঘাস মারা বিষ খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ওষুধ ভেবে ঘাস মারা বিষ খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

ফরিদপুরে অসুস্থতার ওষুধ ভেবে ঘাস মারা বিষ পান করার একদিন পর ফাতেমা বেগম (৬০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের হাজীডাঙ্গী এলাকার চরদুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার (০১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে নিজ বসতঘরে ভুলবশত ঘাস মারা বিষ পান করেন ফাতেমা বেগম। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

মৃতের স্বামী মো. আলেফ শেখ জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন স্ট্রোকজনিত রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে ভুল করে ওষুধ মনে করে তিনি ঘাস মারা বিষ পান করেন।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দশম বর্ষে পদার্পণ করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা’

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
দশম বর্ষে পদার্পণ করল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা’

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা’-র নবম বর্ষপূর্তি ও দশম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠান অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ ডাকবাংলো কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

​বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনটির গত নয় বছরের মানবিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানেই নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানো। হৃদয়ে আলফাডাঙ্গার সদস্যরা গত নয় বছর ধরে যেভাবে নিজেদের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে নিঃস্বার্থভাবে জনগণের সেবা করে যাচ্ছে, তা সত্যিই অনুকরণীয়। সত্যিকারের সেবক এরাই যারা একটি নান্দনিক আলফাডাঙ্গা গড়ার স্বপ্ন দেখে এবং তা বাস্তবায়নে কাজ করে।”

২০১৭ সালের ২ এপ্রিল আলফাডাঙ্গা উপজেলার একঝাঁক উদ্যোমী তরুণ ‘আমরাই গড়বো নান্দনিক আলফাডাঙ্গা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সংগঠনটির সদস্যরা তাদের পড়াশোনা ও কর্মজীবনের পাশাপাশি তারুণ্যদীপ্ত উদ্যমে বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তাদের এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও একনিষ্ঠতা উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।

দশম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামীতে সেবামূলক কাজ আরও গতিশীল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।