অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ফরিদপুরের হোটেল ‘রয়েল প্যালেসে’ অভিযান, ৮ জনের কারাদণ্ড
ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তউল্লাহ বাজার এলাকায় অবস্থিত ‘রয়েল প্যালেস’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগে ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে হোটেলটির বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৬ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মাদক সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোট ৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুঝাত তাবাসসুম ও দীপ্ত চক্রবর্ত্তী। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সহায়তা প্রদান করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্ত্তী জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটির আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। প্রমাণ পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো হোটেল বা প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়া হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘হোটেলের আড়ালে অনৈতিক বাণিজ্য! ফরিদপুরে চলছে রমরমা দেহব্যবসা’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরই প্রেক্ষিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কিছু আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে প্রশাসনের সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে সমাজ থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবন অনেকাংশে কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন
Array