ফরিদপুরে কাপড় শুকানোর দড়ি নিয়ে বিরোধ, যুবককে পিটিয়ে হত্যা
ফরিদপুর শহরে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কাপড় শুকানোর দড়ি টানানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের জেরে জুয়েল আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই সোহেল আহমেদ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে শহরের গোয়ালচামট এলাকার মোল্লা বাড়ি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল আহমেদ ওই এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় দিনমজুর ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী নন-বেঙ্গলি মো. সরফরাজের পরিবারের সঙ্গে জুয়েল আহমেদের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে সরফরাজের পরিবারের সদস্যরা জুয়েলদের বাড়ির প্রবেশমুখে কাপড় শুকানোর জন্য দড়ি টানাতে গেলে এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সরফরাজের পরিবারের কয়েকজন সদস্য লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুয়েল আহমেদ ও তার ছোট ভাই সোহেল আহমেদের ওপর হামলা চালায়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল আহমেদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সোহেল আহমেদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত সরফরাজ ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন
Array