খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর মেডিকেলে ১৪ কোটি টাকার ক্যান্সার মেশিন অকেজো, ভোগান্তিতে পাঁচ জেলার রোগী

হারুন-অর-রশীদ ও আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর মেডিকেলে ১৪ কোটি টাকার ক্যান্সার মেশিন অকেজো, ভোগান্তিতে পাঁচ জেলার রোগী

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আনা প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০১৭ সালে বিপুল ব্যয়ে এসব যন্ত্রপাতি হাসপাতালটিতে আনা হলেও এখন পর্যন্ত তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং একই সঙ্গে ক্যান্সার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের লাখো মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্সার রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ক্যান্সার পরীক্ষাগার ও রেডিয়েশন থেরাপি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে এখানে আনা হয় অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর (LINAC) মেশিনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম।

কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল এবং পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় দীর্ঘ সময় পার হলেও এই ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করা যায়নি। ফলে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দামি এই যন্ত্রপাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লিনিয়ার এক্সিলারেটর কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ:

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিনিয়ার এক্সিলারেটর (LINAC) আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। এটি মূলত রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে উচ্চশক্তির রশ্মি ক্যান্সার কোষের ওপর প্রয়োগ করে সেগুলো ধ্বংস করা হয় বা তাদের বৃদ্ধি কমিয়ে আনা হয়।

এই মেশিনের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানে রেডিয়েশন প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। ফলে আশপাশের সুস্থ কোষ তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব উন্নত হাসপাতালেই ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই মেশিনটি চালু করা গেলে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জসহ অন্তত পাঁচ জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হতেন। এতে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার চাপও অনেকটা কমে আসত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দফা চিঠি, তবুও অগ্রগতি নেই:

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ মে এবং একই বছরের ২৬ নভেম্বর দুই দফায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো এবং বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্তু এতদিন পার হলেও এই বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের পরিচালকের বক্তব্য:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবির ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করার জন্য আমরা দুই দফা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনবল এবং প্রয়োজনীয় বাজেট না থাকায় আমরা এই ইউনিটটি চালু করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন,“স্বাস্থ্য বিভাগে চিঠি দেওয়ার পর তারা বিষয়টি দেখার জন্য জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটকে অবহিত করেছে। কিন্তু সেখান থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতিগুলো বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা:

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে সেগুলো কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে লিনিয়ার এক্সিলারেটরের মতো সংবেদনশীল যন্ত্র অনেকদিন বন্ধ অবস্থায় থাকলে এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের মতে, যদি দ্রুত ইউনিটটি চালু করা না যায়, তাহলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কেনা এই মেশিনটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে যেতে পারে। তখন সরকারের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত অপচয়ে পরিণত হবে।

ক্যান্সার রোগীদের ভোগান্তি:

ক্যান্সার রোগীদের জন্য চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। ফরিদপুর অঞ্চলের অধিকাংশ রোগীকেই বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ এবং শারীরিক কষ্ট—সবকিছুরই চাপ বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের মতে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু হলে হাজার হাজার রোগী স্থানীয়ভাবেই চিকিৎসা পেতেন।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা সারমিন বেগম, যিনি কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন, তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “আমার চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ঢাকায় যেতে হয়। এতে অনেক টাকা খরচ হয়। যদি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা চালু থাকত, তাহলে আমাদের মতো রোগীদের এত কষ্ট করতে হতো না। শুনেছি এখানে মেশিন আছে, কিন্তু চালু করা হয়নি—এটা খুবই দুঃখজনক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করানো খুব কঠিন। যদি এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে অনেক রোগীর উপকার হতো।”

স্বজনদের হতাশা:

ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা ছুরাপ কাজী নামের এক ক্যান্সার রোগীর স্বজন বলেন, “আমার ভাইয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় নিতে হয়েছে। প্রতি মাসে কয়েকবার যেতে হয়। যাতায়াত, থাকার খরচ—সব মিলিয়ে অনেক টাকা লাগে। অথচ ফরিদপুরেই যদি এই মেশিন চালু থাকত, তাহলে আমাদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে মেশিন এনে যদি বছরের পর বছর বাক্সে বন্ধ করে রাখে, তাহলে সাধারণ মানুষের উপকার কীভাবে হবে? দ্রুত এই ইউনিট চালু করা দরকার।”

স্থানীয়দের দাবি:

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এই প্রকল্পটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে। তারা দ্রুত ক্যান্সার ইউনিটটি চালুর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে ক্যান্সার চিকিৎসা চালু করা গেলে শুধু ফরিদপুর নয়, আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষও উপকৃত হবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র এখনও সীমিত।

তাদের মতে, জেলা পর্যায়ের বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধীরে ধীরে ক্যান্সার ইউনিট চালু করা হলে রোগীদের ঢাকামুখী চাপ কমবে এবং চিকিৎসা আরও সহজলভ্য হবে।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি:

সব মিলিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোটি টাকার অত্যাধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় মানুষ ও রোগীদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল, বাজেট এবং অবকাঠামো নিশ্চিত করে ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করা হোক, যাতে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষ আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা পেতে পারে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগও সঠিকভাবে কাজে লাগে।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”