খুঁজুন
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-এ সংবাদ প্রকাশ, পরদিনই মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম
‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-এ সংবাদ প্রকাশ, পরদিনই মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনায় প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জয়বাংলা মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে সরকারি অধিগ্রহণকৃত জমিতে গড়ে তোলা অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়ার নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শ্রমিকদের মাধ্যমে মহাসড়কের পাশে নির্মিত দোকানঘরের কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

গতকাল শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-এ ‘ফরিদপুরে মহাসড়কের সরকারি জমি দখল, বিএনপি সভাপতির বিরুদ্ধে দোকান নির্মাণের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইউনুস মোল্লা ও তার ছেলে ওসমান মোল্লা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করছেন।

সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং তদন্তের পরপরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া জানান, সরকারি জমিতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা স্থাপনা নির্মাণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “মহাসড়কের অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা সরেজমিনে তদন্ত করি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আজ শনিবার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ দোকানঘর অপসারণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি জমি দখল করে কেউ যেন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করে সে বিষয়ে নগরকান্দা উপজেলার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের পাশের এসব জায়গা সরকারি অধিগ্রহণকৃত হওয়ায় সেখানে স্থাপনা তৈরি হলে ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ বা যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারত। তাই দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

 

‘মুক্তিযুদ্ধ ও ৭ মার্চের নামে আ.লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে’: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
‘মুক্তিযুদ্ধ ও ৭ মার্চের নামে আ.লীগকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে’: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নামে, সাত মার্চের নামে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা শুরু হয়েছে। আমরা বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরবের অধ্যায়। আমাদের গৌরবকে আওয়ামীলীগ ভূলুণ্ঠিত করেছে। গুম, খুন, হত্যা, টাকা পাচারসহ সব অপরাধকে মুক্তিযুদ্ধের নামে বৈধতা দিয়েছে। সেই আওয়ামীলীগকে মুক্তিযুদ্ধের নামে, সাত মার্চের নামে, শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পুনর্বাসন করা যাবে না।’

শনিবার (০৭ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুরের অম্বিকা মেমোরিয়াল হলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকার সর্বপ্রথম জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেঈমানি করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের আলোকে আমরা দুটি শপথ নিয়েছি। কিন্তু সরকারি দল একটি শপথ নিয়ে সর্বপ্রথম জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের সঙ্গে বেঈমানি করেছে।’

সরকারের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম দাবি জানান, ‘১২ তারিখের অধিবেশনের আগেই সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে হবে। প্রথম অধিবেশনে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় এগারো দল রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’

ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্য সচিব ও ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসানসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও ফরিদপুর বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুরে খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল, বদর দিবসের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৭ পিএম
ফরিদপুরে খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল, বদর দিবসের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য ও ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে ফরিদপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের বাবরি মসজিদ কমপ্লেক্সে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মী, আলেম-উলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আমজাদ হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুফতি আবু নাসির আইয়ুবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় অভিভাবক পরিষদের অন্যতম সদস্য শাইখুল হাদিস আল্লামা শাহ আকরাম আলী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা বদরুদ্দিন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা সোবহান মাহমুদ, সহ-সভাপতি মুফতি মাহমুদ হাসান ফায়েক, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক ও মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন যুব মজলিসের সভাপতি মুফতি মাহবুবুর রহমান ও সেক্রেটারি মাওলানা ফরহাদ হোসাইনসহ সংগঠনের বিভিন্ন থানা ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান কেবল আত্মসংযমের মাসই নয়, বরং এটি নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারা বলেন, ১৭ রমজান ইসলামের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন—ঐতিহাসিক বদর দিবস। এই দিনে সংঘটিত বদর যুদ্ধ ইসলামের বিজয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যা মুসলমানদের ঈমানি শক্তি, ঐক্য ও আত্মত্যাগের প্রতীক।

বক্তারা আরও বলেন, বদর দিবসের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মুসলিম উম্মাহকে সত্য ও ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকতে হবে। তারা আল্লাহর জমিনে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ সময় বক্তারা সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

ইফতার মাহফিলের আগে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অসময়ে আলফাডাঙ্গার মধুমতি নদীতে ভাঙন, বাড়িঘর হারিয়ে দিশেহারা বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
অসময়ে আলফাডাঙ্গার মধুমতি নদীতে ভাঙন, বাড়িঘর হারিয়ে দিশেহারা বাসিন্দারা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে মধুমতি নদীর হঠাৎ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। অসময়ের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে দুইটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে শুক্রবার (৬ মার্চ) দিনগত রাতে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহাগ শেখ ও মো. মনা মিয়া শেখের বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। রাতারাতি বসতভিটা হারিয়ে দুই পরিবার এখন কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী সোহাগ শেখ জানান, বহু কষ্টে গড়ে তোলা তার একমাত্র বসতভিটা মুহূর্তের মধ্যেই নদীর গর্ভে চলে গেছে। এখন তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ভিটাটাই ছিল আমার সব। নদী সেটাও নিয়ে গেল। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবো।”

আরেক ভুক্তভোগী মনা মিয়া শেখের স্ত্রী নিহার বেগম বলেন, তাদের কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে রয়েছে—যারা সবাই বিয়ের পর নিজ নিজ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। তিনি একাই এই বাড়িতে বসবাস করতেন। হঠাৎ শুক্রবার মাগরিবের সময় নদীর ভাঙন শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার তাদের বসতভিটা ভাঙনের মুখে পড়েছিল, তবে এবার পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা সম্পূর্ণভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর ভাঙন নতুন নয়। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে চলতি সময়ে আকস্মিক ভাঙনে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

এদিকে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, নদীর তীরে দ্রুত জিও ব্যাগ বা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙন কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।