খুঁজুন
, ,

নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে পড়েছিল বৃদ্ধার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় নিজ বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে জামেলা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত জামেলা বেগম ওই গ্রামের মৃত জমির ভূইয়ার স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই নিজ বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিনি নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করতেন এবং এলাকাবাসীর কাছে একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

নিহতের জামাতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, “শাশুড়ি প্রতিদিনের মতো গত রাতেও বাড়িতে একাই ছিলেন এবং রোজা রেখেছিলেন। সকালে খবর পাই, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “তার সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল বলে আমাদের জানা নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মুরাদ হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একাই বসবাস করতেন। ঘটনাটি রহস্যজনক এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা যাওয়ার পথে পিকআপের চাপায় বাবা-মেয়ের মৃত্যু, আলফাডাঙ্গায় শোকের মাতম

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ঢাকা যাওয়ার পথে পিকআপের চাপায় বাবা-মেয়ের মৃত্যু, আলফাডাঙ্গায় শোকের মাতম

পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা ও ছয় বছরের শিশু মেয়ের। রোববার সকালে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গ্যাড়াখোলা এলাকায় মাছবোঝাই পিকআপের চাপায় অটোভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা বেঁচে গেলেও বাবা-মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনেরা। তাঁদের মৃত্যুতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবনবেগ গ্রামে শোকের মাতম চলছে।

নিহতরা হলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পবনবেগ গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫) ও তাঁর ছয় বছরের মেয়ে সামিরা আক্তার।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন সাইফুল ইসলাম। পথে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গ্যাড়াখোলা ব্রিজের ওপর পৌঁছালে গোপালগঞ্জগামী মাছবোঝাই একটি পিকআপ বিপরীত দিক থেকে এসে তাঁদের বহনকারী অটোভ্যানটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সাইফুল ইসলামের ফুফাতো ভাই তাহের আহমেদ শুভ বলেন, “পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে এ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় আমার ভাই ও ভাতিজি প্রাণ হারিয়েছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিবারের অন্য সদস্যরা সুস্থ রয়েছেন।”

তিনি জানান, নিহত বাবা-মেয়ের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। রোববার মাগরিবের নামাজ শেষে তাদের লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান সাইফুল ইসলাম বলেন, “একটি পরিবারের এমন মর্মান্তিক ও আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

বাবা-মেয়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরিদপুরে ​আগাম ফুলকপিতে লাভের স্বপ্ন, কৃষকের মুখে হাসি

আনোয়ার জাহিদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ​আগাম ফুলকপিতে লাভের স্বপ্ন, কৃষকের মুখে হাসি

প্রমত্তা পদ্মার কড়াল গ্রাসে ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন ফরিদপুরের চারটি চরের বাসিন্দারা। তবে প্রকৃতির রুদ্ররূপ ভুলে চরের বালুময় মাটিতেই এখন সুদিনের স্বপ্ন বুনছেন তারা। দিগন্ত বিস্তৃত জুড়ে সবুজ পাতার সবুজ সমারোহ—চাষ হয়েছে আগাম জাতের ফুলকপি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে দুর্দান্ত। ভালো দাম পেয়ে লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখার আশায় এখন চরের কৃষকদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি।

​ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাটী এলাকা, গোয়ালন্দের উজানচর, মাইজা মিয়ার ডাঙ্গী, কামারডাঙ্গী, কবিরপুরসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে এবার ব্যাপকভাবে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা জাতের শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এসব ফুলকপি বাজারে উঠতে শুরু করবে। মৌসুমের শুরুতে বাজারদর চড়া থাকায় বাড়তি উপার্জনের উদ্দেশ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাষিরা আগাম সবজি চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

​চাষিরা জানান, আগাম ফুলকপিতে সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি দাম পাওয়া যায়। নর্থচ্যানেল এলাকার কৃষক রাশেদ মিয়া জানান, এবার তিনি ১০ বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজার ভালো থাকলে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন তিনি। চরের এসব মানসম্মত সবজি সরাসরি রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাইপাইল ও যাত্রাবাড়ীর আড়তদাররা এসে কিনে নেন। এমনকি রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত কৃষিশ্রমিকও কাজের তাগিদে এখন অবস্থান করছেন এসব চরাঞ্চলে।

​তবে ভালো ফলনের আনন্দের মাঝেও কিছু শঙ্কা কাজ করছে চাষিদের মধ্যে। বীজ, সার ও কীটনাশকের বাড়তি দামের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে গেছে। বাজারে বীজ সিন্ডিকেটের কারণে দাম স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বলে অভিযোগ কৃষকদের। সেই সাথে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা ও প্রণোদনা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

​ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২৪ হাজার ১২৭ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতেই করা হয়েছে আগাম জাতের সবজি চাষ।

ফরিদপুরের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং সঠিক পরিচর্যায় পোকামাকড়ের আক্রমণ না হওয়ায় এবার আগাম ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই চরাঞ্চলে এই আগাম সবজির আবাদ আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফরিদপুরে আগুনে পুড়ল ৩ হাজার মণ পাট, ক্ষতি ২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আগুনে পুড়ল ৩ হাজার মণ পাট, ক্ষতি ২ কোটি টাকা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭টি পাটের গুদাম ও ৩টি দোকান ভস্মীভূত হয়েছে। এতে গুদামে থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে তাদের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

​শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, রাতে ফলিয়া বাজারের একটি পাটের গুদামে হঠাৎ আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে বাজারের ৭টি পাটের গুদাম ছাড়াও একটি চায়ের দোকান ও দুইটি কাঁচামালের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

​ব্যবসায়ী কাসেদ মণ্ডল জানান, “হঠাৎ করেই একটি গুদামে আগুন লেগে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। সাতটি পাটের গুদামসহ তিনটি দোকান মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেছে। গুদামগুলোতে থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।”

​খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে গুদাম ও দোকানগুলো আগুনে ছাই হয়ে যায়।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, “সংবাদ পেয়ে আমাদের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। বেশ কিছু মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হলেও কয়েকটি গুদাম ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ এখনও জানা যায়নি, এ বিষয়ে তদন্ত এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।”