খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

‘মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাস দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিন’ : নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৯:৫০ পিএম
‘মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাস দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিন’ : নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ মাদক, জুয়া ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এমন কোনো অপকর্ম সহ্য করা হবে না। কোথাও মাদক, জুয়া কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে, প্রয়োজনে তাকে সরাসরি ফোন দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর পৌরসভার হারুকান্দি এলাকায় অসহায় নারীদের মাঝে ঈদ ও রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চৌধূরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “মাদকের সঙ্গে কোনো আপোষ চলবে না। ফরিদপুরে জুয়া কিংবা সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এসব অপকর্ম আমাদের সমাজকে ধ্বংস করছে এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং যেখানেই এ ধরনের অপরাধ দেখা যাবে, সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। জনগণ সচেতন হলে অপরাধীরা কোথাও আশ্রয় প্রশ্রয় পাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে নায়াব ইউসুফ বলেন, দেশের মানুষের মুক্তির একটাই প্রতীক ধানের শীষ। এটি শুধু একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রতীক। তাই দেশকে এগিয়ে নিতে এ প্রতীকের প্রতি আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে।

গত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু জায়গায় টাকার বিনিময়ে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছিল, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। “যারা পাঁচশ বা হাজার টাকার বিনিময়ে নিজেদের ভোট বিক্রি করেছেন, তারা ভুল করেছেন। আপনাদের একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পুরো আসনের ৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। ভবিষ্যতে এ ধরনের নেতিবাচক কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ফরিদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রাউফ উন নবী, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান মিনাল এবং মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রেজোয়ান বিশ্বাস তরুণসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে এলাকার অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে ঈদ ও রোজার প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনায় জুয়েল হত্যা, রাজধানী থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনায় জুয়েল হত্যা, রাজধানী থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল র‌্যাব

ফরিদপুর জেলা শহরে বাড়ির পাশের রাস্তায় কাপড় শুকানোর রশি টানানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘবদ্ধ হামলায় নিহত হন জুয়েল (৪৫) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোররাতে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১ এর যৌথ অভিযানে ঢাকা মহানগরের উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. শাহনেওয়াজ (২৩), মো. সিফাত শেখ (১৯) এবং মো. কামাল শেখ (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানার গোয়ালচামট এলাকায়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় নিজ বাড়ির পাশের রাস্তায় কাপড় শুকানোর রশি টানানোকে কেন্দ্র করে জুয়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী মনি বেগমের বাকবিতণ্ডা হয়। প্রথমে বিষয়টি তর্কাতর্কির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দুই পরিবারের মধ্যে।

তাদের তর্কাতর্কিতে কিছুক্ষণের মধ্যেই গ্রেপ্তারকৃত শাহনেওয়াজসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জুয়েলের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করলে জুয়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা জুয়েল ও তার ভাই সোহেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তার ভাই সোহেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার পরেরদিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত জুয়েলের ভাই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৫৯)।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতেছিল। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১০ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার শুরু করে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোররাতে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-১ এর একটি বিশেষ যৌথ অভিযানে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব নিয়মিতভাবে সন্ত্রাস, হত্যা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধ দমনে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সকালে মোবাইল কোর্টে জরিমানা, বিকেলে সেই দোকানের দই ইফতারে!

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম
সকালে মোবাইল কোর্টে জরিমানা, বিকেলে সেই দোকানের দই ইফতারে!

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার কয়েক ঘণ্টা পরই একই দোকান থেকে উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলের জন্য দই কেনার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (০৯ মার্চ) উপজেলার বাগাট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে অবস্থিত রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফানুর রহমান। অভিযানের সময় কারখানায় ব্যবহৃত তেলে ময়লা, পুরোনো মিষ্টির সিরা সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের জন্য একই প্রতিষ্ঠান থেকে দই সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে প্রায় ১৩৫ কাপ দই উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সহকারীরা কিনে নিয়ে যান। পরে ওই দই উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পেয়ে জরিমানা করা হলো, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার কেনা কতটা যৌক্তিক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান বলেন, “আমি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। সেখানে অনিয়ম পাওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। ইফতার মাহফিলের খাবার কেনার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের অন্য দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”

অন্যদিকে, রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী সুকুমার ঘোষ দাবি করেন, কারখানায় থাকা তেলের ব্যারেলটি নতুন ছিল এবং সেটি খোলা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারাই সেটি খুলে দেখেন এবং তাতে ময়লা পাওয়ার কথা বলেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের অফিস থেকে লোক এসে ১৩৫ কাপ দই নিয়ে গেছে এবং তার মূল্যও পরিশোধ করেছে।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের সবকিছুই খারাপ নয়। যেসব বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে সেগুলোর জন্য জরিমানা করা হয়েছে। সবকিছু খারাপ হলে দোকানটি সিলগালা করা হতো।”

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, “দুপুরে জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিকেলে ইফতারে নেওয়া হয়েছে—এটি কিছুটা সাংঘর্ষিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছেন।

সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম
সালথায় সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, শিক্ষার মান অবনতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় ব্যয় করেন। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তিনি পাশের বোয়ালমারি উপজেলার দাতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় সেই প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী পরিবেশ তৈরি করেছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি প্রায়ই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। ফলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকসহ অন্য কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেতেন না। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশে। স্থানীয়দের মতে, এক সময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত সাড়ুকদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হয়ে পড়ছে।

অভিযোগকারীরা জানান, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের সঠিক কোনো হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের যথাযথ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছতা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে বকেয়া বেতনসহ মোট ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ৭ লাখ ২২ হাজার ৮০২ টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন হিসেবে বিতরণ করা হলেও অবশিষ্ট ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৯৮ টাকা বিদ্যালয়ের রাস্তা সংস্কার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব কাজের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া ২০২৪ সালে অডিট বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা একটি স্কুলের জন্য অস্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের প্রশ্ন, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিট খরচ কীভাবে এত বেশি হতে পারে।

একই বছরের আরেকটি ঘটনায় বিজ্ঞানাগারের জন্য বিভিন্ন উপকরণ কেনার কথা বলে ৫৭ হাজার টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো সরঞ্জাম কেনা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ২০২৪ সালে সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায়ও বেতন উত্তোলন করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেই বেতন তিন মাসের মধ্যে উত্তোলন না করায় তা ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও পরে স্কুলের তহবিল থেকে তিনি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে নেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ২০২১ সালে মাত্র ছয় মাস দায়িত্ব পালন করা এক সাবেক সভাপতির ব্যাংক স্বাক্ষর এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী। এছাড়া প্রতি বছর এসএসসি পরীক্ষার সময় টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিছু শিক্ষার্থীকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবি, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন এসে তিনি পুরো সপ্তাহের হাজিরা দেখিয়ে দেন। এতে করে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগকারীরা জানান, এর আগে বিভিন্ন সময় শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি আগের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বালি বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকা অবস্থায় বিষয়টি সমাধানের জন্য নির্দেশনা দিলেও প্রধান শিক্ষক তা আমলে নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগে যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত কুমার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার বেশিরভাগই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত কারণে আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব অভিযোগ করছেন। তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

অভিযোগকারীদের পক্ষে আবেদনকারী মো. মাহফুজ খান বলেন, “আমরা চাই একটি সুষ্ঠু তদন্ত হোক। বিদ্যালয়ের অর্থ কোথায় গেল, কেন শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক।”