খুঁজুন
, ,

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানে চালিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দিনভর চালানো এই অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অভিযানে ১৫ জনকে আটকের পাশাপাশি কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন।

সবশেষ গত ১৯শে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

মূলত ওই ঘটনার কারণেই মাদক, অস্ত্র ও নানা বাহিনীর জন্য আলোচিত হয়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

যদিও পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া গেছে যে, ব্যাপক আয়োজনে চালানো এই অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কিত তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি স্থায়ী কেন্দ্রের কার্যক্রম চলবে।

“আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি৷ আজ থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তাবিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব,” সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

অভিযানে যা যা হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে, লিংক রোডের উত্তর পাশে বিস্তৃত তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুর নামক এলাকাটি অবস্থিত।

পাহাড় কেটে বানানো এই খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকাটি কার্যত ‘সন্ত্রাসীদের’ কয়েকটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেখানে প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ বাস করলেও তাদের জন্য রয়েছে আলাদা পরিচয়পত্র।

মূলত নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষরা কম খরচে বসবাসের জন্য এই এলাকায় বাস করেন। এর বাইরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি।

আজ ভোরেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। র‍্যাবের গাড়ি বহরের সাথে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে ঢুকেই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ভেতরে ছোটো কালভার্ট ভেঙ্গে রাখার পাশাপাশি রাস্তায় ট্রাক আড়াআড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক স্পিড ব্রেকার দিয়ে রাখা হয়েছে।

“এগুলো সরিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

এর আগে যৌথ বাহিনীর সদস্য একাধিক ভাগে ভাগ হয়ে ভোরে অভিযান শুরু করেন। একই সাথে ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয় চেকপোস্ট।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার উদাহরণ থাকায় এবার সার্বক্ষণিক ড্রোন ব্যবহার করা হয় নজরদারির জন্য।

কিন্তু অভিযানে ওই এলাকায় সন্ত্রাসের জন্য যারা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল, তাদের কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা গেছে কি-না সে সম্পর্কে পুলিশের দিক থেকে কিছু জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেছেন, পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

জঙ্গল সলিমপুর আলোচনায় কেন

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে কেটে তৈরি হওয়া এলাকাটিতে প্লট বাণিজ্য, অস্ত্র ও মাদক নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার ২০২৪ সালের অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গত উনিশে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে র‍্যাবের এক সদস্য নিহত হন।

এ ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও আর দুশো জন অজ্ঞাত পরিচয়ধারীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও র‍্যাব তখন বলেছিল, এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন গ্রুপ। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ কিংবা রিদোয়ান গ্রুপ।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান তখন র‍্যাবের ওপর হামলার জন্য ইয়াসিন গ্রুপকে অভিযুক্ত করেছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ছিল মশিউর-গফুর গ্রুপের হাতে এবং এরপর তা চলে যায় রোকন গ্রুপের হাতে।

অন্যদিকে আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করতো ইয়াসিন গ্রুপ। কিন্তু এই ইয়াসিন গ্রুপ সম্প্রতি রোকন গ্রুপকে সরিয়ে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০২২ সালে একবার র‍্যাবের সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ গোলাগুলি হয় এবং ওই বছরই সলিমপুরে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের লোকদের বাধা দেওয়া হয়। একই বছর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে গেলে আলীনগরের ‘সন্ত্রাসীরা’ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

ওই বছরই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, স্পোর্টস ভিলেজ ও নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে না থাকায় প্রকল্পগুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এখন পুলিশ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আজকের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ করে র‍্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী কেন্দ্র নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে ওই এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে অবহিতকরণ সভা

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্তকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা প্রশাসন ও ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আলফাডাঙ্গা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) আশীষ কুমার রায়।

​সভায় স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রুফটপ সোলার সিস্টেম, ক্যাপেক্স ও ওপেক্স মডেল, নেট মিটারিংয়ের আবেদন, রুফটপ সোলার ক্যালকুলেটরের ব্যবহার এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

​পাশাপাশি সোলার সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে তালিকাভুক্তির নিয়ম, ন্যূনতম যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া ও তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়। পরে মুক্ত আলোচনায় অংশীজনদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

​সভায় বক্তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বহুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে দক্ষ ও মানসম্মত সেবা প্রদানকারীর বিকল্প নেই। সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকরাও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। এর মাধ্যমে দেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

​অনুষ্ঠানে আলফাডাঙ্গা থানার তদন্ত কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি), বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফরিদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রতিনিধি, বাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, ভিলেজ ইলেকট্রিশিয়ান, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে অনশন, হামলায় জখম ৩

ফরিদপুরের কৈজুরী ইউনিয়নের মঙ্গলকোটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক তরুণী এবং তার মা ও ভাই। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঙ্গলকোট গ্রামের ওই শিক্ষকের বসতভিটায় এ ঘটনা ঘটে।

​পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​ভূক্তভোগী তরুণী জানান, পাশের গ্রামের তাজুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক শেষে গত বছরের ২৫ মার্চ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাজুল ইসলাম স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তার পরিবার অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড় শুরু করে। বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে তিনি তাজুলের বাড়িতে গেলে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে তরুণীসহ তার মা ও ভাইকে মারধর করে জখম করা হয়।

​এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপরও চড়াও হন ওই পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা। ভিডিও চিত্র ধারণ করতে গেলে তারা উগ্র মেজাজে হুমকি-ধমকি দেন এবং মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে ক্যামেরার সামনে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা।

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা শিক্ষক তাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

​তবে তাজুলের চাচা রহমতউল্লাহ বলেন, “আমরা ছেলের জন্য মেয়ে দেখছি। এই তরুণীর পক্ষ থেকে আগে কখনোই বিয়ের কথা জানানো হয়নি। হঠাৎ করে বাড়িতে এসে এভাবে বিয়ের দাবি করলে সামাজিকভাবে মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়। আমরা বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”

​হামলার শিকার ওই তরুণীর পরিবার জানায়, তারা এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত ডাকাত গ্রেপ্তার, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

পৃথক অভিযান চালিয়ে ফরিদপুরের ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও তালিকাভুক্ত অপরাধী সাইফুল ইসলাম ওরফে টাকী রিপনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১০)। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করা হয়।

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার।

​প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ২৬ মিনিটে এসআরবি-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্প এবং এসআরবি-৪, ঢাকার একটি যৌথ আভিযানিক দল রাজধানীর পল্লবী থানাধীন একটি আবাসিক ভবনে অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার একটি ডাকাতি মামলায় ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে রিপন ব্যাপারী ওরফে টাকী রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ফরিদপুর সদরের ঈশান গোপালপুর এলাকার মৃত আঃ হক বেপারীর ছেলে।

​পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামি রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টায় ফরিদপুরের ঈশান গোপালপুর এলাকায় অপর একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ২টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার করতে সক্ষম হয় আভিযানিক দলটি।

​পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১টি অস্ত্র মামলা, ২টি দস্যুতা মামলা, ১টি চুরি মামলা, ১টি এসিড অপরাধ দমন আইন মামলা এবং ১টি বিস্ফোরক আইনসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার বলেন,
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং সাজাপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ব্যাটালিয়নের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও জারি থাকবে।