খুঁজুন
, ,

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে ৮৭ শাখার ব্যবস্থাপকদের নিয়ে ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংকের কর্মশালা

মফিজুর রহমান শিপন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে ৮৭ শাখার ব্যবস্থাপকদের নিয়ে ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংকের কর্মশালা

মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংক পিএলসির উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) ফরিদপুর শহরতলীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে আয়োজিত এ কর্মশালায় সোনালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ম্যানেজার’স অফিস, ফরিদপুরের আওতাধীন ৮৭টি শাখার শাখা ব্যবস্থাপক, পাঁচটি প্রিন্সিপাল অফিসের মানিলন্ডারিং কর্মকর্তা এবং জেনারেল ম্যানেজার’স অফিসের নির্বাহী কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ম্যানেজার’স অফিস, ফরিদপুরের জেনারেল ম্যানেজার (ইনচার্জ) মো. তানজিমুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে প্রতিটি ব্যাংক কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ এবং সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত ও রিপোর্ট করার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নিরাপদ আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।”

সভাপতির বক্তব্যে মো. তানজিমুল ইসলাম বলেন, “গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), ঝুঁকিভিত্তিক গ্রাহক মূল্যায়ন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধসংক্রান্ত নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুনাম ও আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাদের দক্ষতা, পেশাগত সক্ষমতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

কর্মশালায় রিসোর্স পার্সন হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের মানি লন্ডারিং অ্যান্ড টেররিজম ফাইন্যান্সিং ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বিশ্বাস মোহাম্মদ মীজানুর রহমান এবং একই বিভাগের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রামপ্রসাদ দাস।

তারা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ আইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক পরিচিতি (KYC), গ্রাহকের ঝুঁকি মূল্যায়ন, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণ, রিপোর্টিং পদ্ধতি এবং ব্যাংকিং খাতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আয়োজকরা জানান, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা নিয়মিত আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে কর্মকর্তারা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবেন।

কর্মশালায় সোনালী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকালে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে তিনি প্রথমবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানালেও তারা কোনো সুরাহা না করায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী।

​পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন আসামি হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সাজা দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে তিন নির্মাণশ্রমিককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাজারপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০), একই উপজেলার কোদালকাঠি গ্রামের আশরাফুল (৪৫) এবং ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের বাবুল (৪৭)। তাঁরা সবাই এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও মৌলভীরচর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।