শিক্ষার্থী ২৩৩, খাবার ২৯০ প্যাকেট: ফরিদপুরে স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ
ফরিদপুর সদর উপজেলার ১৪৮ নম্বর ধোপাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেনা পারভীনের বিরুদ্ধে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে অনিয়ম, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে খাবার গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা আদায় এবং বিদ্যালয় চলাকালে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ফরিদপুর প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) ফরিদপুর প্রেসক্লাব বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক।
অভিযোগে বলা হয়, হেনা পারভীন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চালুর পর অনিয়মের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৩৩ জন হলেও IPMS সফটওয়্যারে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী দেখিয়ে ২৯০ পিস খাবার গ্রহণ করা হতো। অতিরিক্ত খাবার গোপনে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষকরা জানান, বিষয়টি তারা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোকলেসুর রহমানকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। পরে গত ২৫ জুন তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর হেনা পারভীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুরসালিন মৃধাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের ব্যবহার করে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি শিক্ষকদের।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আরেক সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা উজ্জল কুমার বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে পরিদর্শন খাতায় হেনা পারভীনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কিছু বিষয় লিপিবদ্ধ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই খাতার সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
এদিকে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে অনেক শিক্ষক মুখ খুলতে পারছেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে হেনা পারভীনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুশান্ত কুমার বাড়ৈর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগটি খতিয়ে দেখার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, লিখিত অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিংয়ের খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন
Array