খুঁজুন
, ,

সাফল্যের উচ্ছ্বাসে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সংবর্ধিত ১৮২ কৃতি শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সাফল্যের উচ্ছ্বাসে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সংবর্ধিত ১৮২ কৃতি শিক্ষার্থী

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ১৮২ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। কৃতি শিক্ষার্থীদের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য উৎসাহিত করেন অতিথিরা।

রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের ড্রিলশেডে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সংবর্ধনা পাওয়া ১৮২ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৬ জন, মাধ্যমিক পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪৯ জন এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৯৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের ধারাবাহিক এই সাফল্যে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), ফরিদপুরের সভানেত্রী শায়লা শারমীন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল কাদের পারভেজ, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফল কিংবা জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য। কৃতি শিক্ষার্থীদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফল ও ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সৎ, দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা জরুরি। এজন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অর্জিত সাফল্যকে ভবিষ্যতের আরও বড় অর্জনের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একটি ভালো ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অতিথিরা কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সম্মাননা জানান। ক্রেস্ট হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও সন্তানদের এমন অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ আয়োজন শুধু কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথে আরও উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার প্রত্যাশা—এই কৃতি শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সাফল্যের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘অর্থের অভাবে কোনো শিশু শিক্ষাবঞ্চিত হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
‘অর্থের অভাবে কোনো শিশু শিক্ষাবঞ্চিত হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গত ১৭ বছরে দেশে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই সময়ে শিক্ষা খাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদ হলরুমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করলেই হবে না; তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণও দিতে হবে। অর্থের অভাবে কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তানদের পড়াশোনায় যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ বিতরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদের পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় পাটজাত পণ্যের ব্যবহারও বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ দেশের পাটশিল্পকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোট ও সমর্থনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আগামী দিনের বাংলাদেশ শিক্ষা, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধনির্ভর হবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সচেতন, দক্ষ ও মানবিক নতুন প্রজন্মই দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানে সালথা উপজেলার আটটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ করা হয়। নতুন পোশাক, ব্যাগ ও জুতা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. শাহিনুর ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা-সালথা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ আল ফাহাদ, সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসানুল হাবিব আজাদ জনি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিন কুমার চাকী, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহা: তাশেম উদ্দিন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফ, এনায়েত হোসেন ও কামরুল ইসলামসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ভাঙ্গায় কুমার নদে নিখোঁজ কৃষকের লাশ ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় কুমার নদে নিখোঁজ কৃষকের লাশ ১৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মিঠু খলিফা (৬০) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের মনিরকান্দা এলাকার কুমার নদ থেকে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মিঠু খলিফা ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের বিবিরকান্দি গ্রামের মৃত রশিদ খলিফার জ্যেষ্ঠ ছেলে। তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বাড়ির পাশের কুমার নদে পাট ধোয়া শেষ করে সাঁতার কেটে তীরে ফিরছিলেন মিঠু খলিফা। নদীর পাড়ের কাছাকাছি এসে তিনি একটি বাঁশের খুঁটি ধরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই তিনি পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন নৌকা নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে ফরিদপুর থেকে ডুবুরি দল এসে নিখোঁজ কৃষককে উদ্ধারে নদীতে অভিযান শুরু করে।

উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা নদীতে তল্লাশি চালালেও মিঠু খলিফার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে ওই দিনের মতো উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। এদিকে স্বজনদের আহাজারিতে নদীর দুই পাড়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনসহ স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হয়ে তার সন্ধানের অপেক্ষায় থাকেন।

পরদিন রবিবার সকালে কুমার নদে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে মনিরকান্দা এলাকায় পানিতে ভাসমান অবস্থায় মিঠু খলিফার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে উদ্ধার করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, “কুমার নদ থেকে নিখোঁজ কৃষক মিঠু খলিফার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”

ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের ওপর ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ ৪ মাসেও সরেনি, ব্যাহত পাঠদান

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদ্যালয়ের ওপর ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছ ৪ মাসেও সরেনি, ব্যাহত পাঠদান

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেমি পাকা ঘরের ওপর কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়া বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছ প্রায় চার মাসেও অপসারণ করা হয়নি। এতে ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে গাছের ডালপালা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সেমি পাকা ঘরের ওপর বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ পড়ে রয়েছে। এতে ঘরটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা বিদ্যালয়ের মাঠের একটি বড় অংশজুড়ে পড়ে থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গাও সংকুচিত হয়ে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির চাম্বল গাছটি টিনশেড ঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে ঘরটির বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে ওই কক্ষে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও গাছটি এখনো অপসারণ করা হয়নি।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গাছটি সরকারি হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি ছাড়া তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ম্যানেজিং কমিটি চাইলেও নিজেদের উদ্যোগে গাছটি সরাতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি পড়ে থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেঙে পড়া ঘর ও গাছের কারণে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত গাছটি অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেমি পাকা ঘরটি মেরামতের দাবি জানান তারা।

সতের রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুর রহমান বলেন, গত মে মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে স্কুল ঘরের পেছনে থাকা বিশাল আকৃতির একটি চাম্বল গাছ ভেঙে পড়ে। ঘটনার দুই দিন পরই সরকারি বিধি মেনে গাছটি দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি। ওই ঘরে শিশু শ্রেনীর ক্লাস নেওয়া হতো এবং আমাদের অফিস রুমও ছিল।

তিনি জানান, গাছটি সরিয়ে ভেঙে পড়া টিনশেড ঘরটি মেরামত করা হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সহজ হবে। পাশাপাশি গাছের ডালপালা পড়ে থাকায় মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলাও করতে পারছে না।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, গাছটি ভেঙে পড়ার কয়েকদিন পরই সরকারি বিধি অনুযায়ী বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। আশা করছি, বন বিভাগ দ্রুত নিলামের কার্যক্রম শেষ করে গাছটি অপসারণ করবে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। ওই বিদ্যালয়ের সেমি পাকা ঘরের উপর যেখানে গাছ পড়েছে সেখানে পাঠদান করা হয়না। তাই শিক্ষা-কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছেনা। তবুও অচিরেই টেন্ডার দিয়ে গাছটি অপসারণ করার বিষয়টি দেখা হবে।