খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে পেঁয়াজের বাজারে কৃষকের হাহাকার, লাভ তো দূরের কথা উঠছে না মূলধনও

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পেঁয়াজের বাজারে কৃষকের হাহাকার, লাভ তো দূরের কথা উঠছে না মূলধনও

দেশের অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে এবার পেঁয়াজের বাজারমূল্য নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচের তুলনায় অর্ধেকেরও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি। বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, সার, ডিজেল, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়ে গেলেও পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না তারা। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বৃদ্ধি পেলেও পেঁয়াজের দাম দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমুখী রয়েছে। এতে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার পেঁয়াজ চাষি আহম্মদ মাতুব্বর বলেন, “এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়। বীজ, সার, শ্রমিক ও সেচ খরচ যোগ করলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠছে না। এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে এখন এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যায় না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হব।”

একই উপজেলার পাইকারি ক্রেতা সুজন মাতুব্বর বলেন, “পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি আমাদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আমরা কম দামে কিনলেও অন্যান্য বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে ভালো মূল্য পাওয়া যায় না। দাম কিছুটা বাড়লে কৃষক যেমন লাভবান হতেন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও ব্যবসা সচল রাখতে পারতেন।”

বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক বক্কার মোল্যা বলেন, “ফসল ফলাতে যে পরিমাণ পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করতে হয়, সে তুলনায় বর্তমান বাজারদর খুবই হতাশাজনক। কৃষকরা বছরের পর বছর লোকসান গুনতে থাকলে একসময় পেঁয়াজ উৎপাদন কমে যাবে। তখন আবার বাজারে সংকট তৈরি হবে।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক কবির শেখ বলেন, “পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত হিমাগার বা আধুনিক গুদাম নেই। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সংরক্ষণের সুযোগ থাকলে আমরা ভালো সময়ের অপেক্ষা করতে পারতাম।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক হামজা মোল্যা বলেন, “এখন বাজারে যা দাম, তাতে শ্রমিকের মজুরিও ওঠে না। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। তারা এখন কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। সরকার যদি দ্রুত কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে কৃষকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

ফরিদপুর শহরের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাহজাহান বেপারি বলেন, “এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আসছে। সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়া এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবের কারণে প্রায় প্রতি বছরই পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করে। যখন দাম বেশি থাকে তখন ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, আর যখন দাম কমে যায় তখন ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “ফরিদপুরে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয় এবং কৃষকরা ভালো ফলনও পান। কিন্তু বাজারমূল্য নির্ধারণের বিষয়টি কৃষি বিভাগের হাতে নেই। আমরা কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। সরকার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তবে, আমরা পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১৪’শ ৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন পেঁয়াজ চাষিদের সরবরাহ করেছি। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭’শ টি বিতরণ করা হয়েছে। তবে, এ বছরে ২৫’শ এয়ারফ্লো মেশিন সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “পেঁয়াজ সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো গেলে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হবেন না। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও প্রকল্প গ্রহণ করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন বলে আমরা আশা করছি।”

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। জেলার হাজার হাজার কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই ফসলের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে পেঁয়াজ ক্রয়, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ এবং বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকলেও লাভের মুখ না দেখায় কৃষকরা ধীরে ধীরে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

একদিকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অন্যদিকে বাজারে মূল্যহীনতা—এই দ্বৈত সংকটে ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষিরা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন। কৃষকের ঘামঝরা শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে দেশের কৃষি অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফরিদপুরে পৃথক অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পৃথক অভিযানে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা সদরের ভাটি কানাইপুর এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ভাটি কানাইপুর গ্রামের বিল্লাল মিয়ার ছেলে মো. শামীম ইসলাম রাজু (২২) এবং একই এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে মো. রাজিবুল হাসান (৩৩)।

ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে ভাটি কানাইপুর এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথম অভিযানে ভাটি কানাইপুর গ্রামের বটতলা এলাকায় রেজাউল মাতুব্বরের চা-পানের দোকানের সামনে থেকে শামীম ইসলাম রাজুকে আটক করা হয়। তিনি কানাইপুর বাজার থেকে গোপালপুর ব্রিজগামী পাকা সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় তার কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, একই এলাকার নিজ বসতঘরে অভিযান চালিয়ে মো. রাজিবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, রাজিবুলের নিজ দখলীয় বসতঘরের উত্তর পাশের একটি কক্ষের ভেতর থেকে ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

দুটি অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবার মোট পরিমাণ ১ হাজার ১ পিস। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভাটি কানাইপুর এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুরে ফের ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান, উচ্ছেদ হলো শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ফের ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান, উচ্ছেদ হলো শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

ফরিদপুর শহরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ফের অভিযান চালিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান, স্থাপনা ও অন্যান্য অবৈধ দখল উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে রোববারও (৯ আগস্ট) শহরের কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালায় পৌর কর্তৃপক্ষ।

সোমবারের অভিযানে শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়, নিউমার্কেটের সামনে, চকবাজার, থানা রোড, মহাকালী পাঠশালার মোড়, বলাকা সুপার মার্কেটের সামনে, ময়রা পট্টিসহ আশপাশের এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জাকিরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ফুটপাত ও সড়কের ওপর বসানো বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দখলদারদের ভবিষ্যতে ফুটপাত বা সড়কের জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

পৌরসভা সূত্র জানায়, শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল এবং অস্থায়ী স্থাপনার দখলে থাকায় পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

অভিযানের ফলে কয়েকটি এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দৃশ্যমানভাবে উন্মুক্ত হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

ফরিদপুর পৌরসভা জানিয়েছে, শহরকে পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও পথচারীবান্ধব রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর পুনরায় যাতে কেউ ফুটপাত বা সড়ক দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হবে।

এদিকে পৌরসভার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না; উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দীর্ঘমেয়াদে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্তের প্রতিবাদে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১২

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদ্রাসাছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সানি ব্যাপারী (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত সানি ব্যাপারী ওই গ্রামের আতিয়ার ব্যাপারীর ছেলে।

আহতদের মধ্যে সবুজ ব্যাপারী, মনির ব্যাপারী, আরাফাত হোসেন, শাবানা বেগম ও আতিয়ার ব্যাপারীর নাম জানা গেছে। স্থানীয়রা ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৈডুবী সদরদী গ্রামের হযরত ফাতেমাতুজ যহুরা (রাযিঃ) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় একই এলাকার বশার মাতুব্বরের ছেলে জিহাদ মাতুব্বর বেশ কিছুদিন ধরে উত্ত্যক্ত করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার সকালে মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী প্রতিবাদ জানান।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বশার মাতুব্বর, বাক্কার মাতুব্বর, আলমগীর মাতুব্বর, হাসান মাতুব্বর ও জাহাঙ্গীর মাতুব্বরের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে মাদ্রাসার মোহতামিম মুফতি মনির ব্যাপারী, সবুজ ব্যাপারী, পলাশ ব্যাপারী ও আতিয়ার ব্যাপারীর পক্ষের লোকজনের বিরোধ দেখা দেয়। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। স্থানীয়রা পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। তবে প্রায় এক ঘণ্টা পর আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে লাঠি, ধারালো অস্ত্রসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহার করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী আছমত মাতুব্বর বলেন, ‘প্রথমে হাতাহাতি হলে আমরা দুই পক্ষকে শান্ত করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। পরে আবার সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।’

সংঘর্ষে গুরুতর আহত সানি ব্যাপারীকে প্রথমে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে স্বজনরা জানান।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’