খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুর পৌরসভার অরক্ষিত ড্রেনেজে ঝুঁকিতে জনজীবন, অবহেলা চরমে

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
ফরিদপুর পৌরসভার অরক্ষিত ড্রেনেজে ঝুঁকিতে জনজীবন, অবহেলা চরমে

ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন নগরবাসী। খোলা ও ভাঙাচোরা ড্রেনেজে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল হয়ে উঠেছে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

পৌরসভার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—প্রায় সর্বত্রই দেখা যায় ঢাকনাবিহীন ড্রেনেজ। কোথাও কোথাও ড্রেনের ওপর থাকা স্ল্যাব ভেঙে পড়ে রয়েছে, আবার অনেক স্থানে পুরোপুরি উন্মুক্ত ড্রেন। সন্ধ্যার পর আলো স্বল্পতার কারণে এসব ড্রেন চোখে পড়ছে না, ফলে পথচারীরা হঠাৎ পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধ।

শহরের ঝিলটুলী, গোয়ালচামট, চরকমলাপুর, নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ও জেলা কারাগারের সামনের ড্রেনেজ সমস্যার চিত্র আরও ভয়াবহ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার পৌরসভায় জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেক স্থানে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে ড্রেন ঢেকে রাখা হলেও তা টেকসই নয় এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অরক্ষিত ড্রেনেজ শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। খোলা ড্রেনে জমে থাকা ময়লা ও নোংরা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটে, বাড়ছে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি। শিশুদের খেলাধুলার সময় এসব ড্রেনে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

এব্যাপারে ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, ‘পৌরসভার বর্তমান দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি কর্মকর্তারা। ওই কর্মকর্তারা অন্য জেলার মানুষ। ফরিদপুর শহর নিয়ে তারা খোঁজ খবর রাখেন না। অনেকে আগ্রহ দেখান না। পৌরসভার দায়িত্বে জনপ্রতিনিধিরা থাকলে তারা স্থানীয় লোক হিসেবে সব জায়গা চিনতেন, কাজও করতেন।’

তিনি বলেন, ‘আ.লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন, তারা পৌরসভার ফান্ড অনেকটা শূন্য করে দিয়ে গেছেন। তাইতো, ফান্ডের অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। ফলে, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে গেছে। তবে, আশা করি অতিশ্রীঘ্রই এ ব্যাপারে বর্তমানে থাকা পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখবেন।’

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে জানান, “ড্রেনেজ সংস্কার ও ঢাকনা বসানোর জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কাজ শুরু হবে।” তবে কবে নাগাদ নাগরিকদের এই দুর্ভোগের অবসান হবে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো সময়সীমা দিতে পারেননি।

সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত অরক্ষিত ড্রেনেজগুলো ঢেকে দেওয়া, ভাঙা স্ল্যাব মেরামত এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জননিরাপত্তা রক্ষায় পৌরসভার অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

 

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।