খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৪ পিএম
শতবর্ষের ঐতিহ্যকে শ্রেষ্ঠত্বের তকমা: ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ উপলক্ষে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজকে গৌরবময়ভাবে “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” ঘোষণা করা হয়েছে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করে রাজেন্দ্রকে এ বছর শ্রেষ্ঠ কলেজ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

দীর্ঘ ঐতিহ্য, শিক্ষাগত উৎকর্ষতা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের কারণে এই স্বীকৃতি পেয়ে কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম এর নেতৃত্বে কলেজটি নতুন দিকনির্দেশনা ও অগ্রগতির দিকে আরও দৃঢ় পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠান আর সমাজসেবীর দৃঢ় প্রেরণা:

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পুরনো ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খ্যাত। এর ইতিহাস ১৯১৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত ফিরে যায়, যখন বিখ্যাত কংগ্রেস নেতা ও আইনজীবী বাবু অম্বিকাচরণ মজুমদার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এই কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি ফরিদপুরে উচ্চশিক্ষার সুব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন।

কলেজের স্থপনা তহবিল সংগ্রহে ফরিদপুর জেলার বাইশরশির জমিদার রমেশ চন্দ্র রায় চৌধুরী উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা করেন। তিনি তাঁর পিতা রাজেন্দ্র চন্দ্র রায় চৌধুরীর নামে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০,০০০ টাকা অর্থদানে সম্মত হন, যার ফলে কলেজের নামকরণ ‘রাজেন্দ্র কলেজ’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাধ্যমিক পাশ শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজটি খোলা হলেও দ্রুতই এটি সমগ্র অঞ্চলের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ফজলুল হক, দেবেন্দ্র নাথ দত্তসহ বরেণ্য শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন।১৯২১ সালে বিএ (BA), ১৯২৩ সালে আই‌এস‌সি ও পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ চালু করা হয়।

সরকারী কলেজে রূপান্তর:

১৯৬৮ সালে কলেজটি সরকারিভাবে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ হিসেবে ঘোষিত হয়। এরপর থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রী ও অনার্স পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে কলেজে প্রায় ৩০,০০০ শিক্ষার্থী ও ১৬০ জন শিক্ষক বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি:

কলেজের বিভিন্ন বিভাগ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষা প্রদান করছে। বিশেষ করে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আরও উচ্চ পর্যায়ের গবেষণা ও অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্থাপত্য হিসেবে কলেজ শহর ও বায়তুল আমান নামে দুটি ক্যাম্পাসে বিস্তৃত।

নায়ক—অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম:

বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিমের দক্ষ নেতৃত্বে, কলেজের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন জীবনীশক্তি প্রবাহিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নতুন নতুন শিক্ষা উদ্যোগ, কর্মশালা, সেমিনার ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রেক্ষাপট:

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ একটি সবার সম্মিলিত উদ্যোগ, যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শিক্ষা কার্যক্রমের সাফল্য, কাযর্ক্রম ও সমাজকল্যাণমূলক অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হয়। এ বছর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হওয়া এই সপ্তাহকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। শিক্ষা সপ্তাহে কলেজটি বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী ও সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

সমাজসেবা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড:

শুধু পাঠ্যক্রমেই নয়, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সমাজসেবায়ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ভূমিকা প্রতিভাবান। রক্তদান শিবির, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি, সমাজসেবা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো কর্মকাণ্ডে কলেজের ক্লাব ও সংগঠনগুলি সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা:

এ কলেজ ভবিষ্যতে আরও উন্নত মানের শিক্ষা প্রদান, নতুন নতুন গবেষণা ক্ষেত্রসহ শিক্ষার আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আত্মপ্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও প্রযুক্তি শিক্ষার উন্নয়নে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি শিক্ষা, ঐতিহ্য ও অনুপ্রেরণার এক অনন্য সংমিশ্রণ। দীর্ঘ শতবর্ষের ইতিহাসে আজও এটি শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে যাচ্ছে, আর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এ “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ” নির্বাচিত হয়ে সেই গৌরব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ফরিদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হওয়া আমাদের জন্য অসাধারণ গৌরবের বিষয়। কলেজটির শতবর্ষের ঐতিহ্য, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এই অর্জনের মূল ভিত্তি। আমরা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান দিই না, বরং শিক্ষার্থীদের মননশীল, দায়িত্ববান এবং সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করি।”

তিনি বলেন, “জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ‑২০২৬ এর এই স্বীকৃতি আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল করেছে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে। আমার আশা, এই অর্জন আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে, যাতে তারা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও শিক্ষার মান ও মর্যাদা তুলে ধরে।”

ফরিদপুরে আ.লীগ নেতাকে জেলগেটে মালা পরালেন বিএনপির এমপি বাবুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:০১ পিএম
ফরিদপুরে আ.লীগ নেতাকে জেলগেটে মালা পরালেন বিএনপির এমপি বাবুল

ফরিদপুরে ১৭৫ দিন কারাগারে থাকার পরে রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হলেন আওয়ামী লীগ নেতা, ইউপি চেয়ারম্যান ও ভাঙ্গায় ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ম. ম. সিদ্দিক মিঞা (৫৭)।

মুক্তির পরে তাকে ফুলের মালা পড়িয়ে জেলগেটে স্বাগত জানান বিএনপির মনোনয়ন নির্বাচিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় জেলগেটে একে অপরকে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দেন।

ম. ম. সিদ্দিক মিঞা ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) সংসদীয় আসনে কেটে নেওয়ার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।

এ নিয়ে এলাকাবাসীর আন্দোলনের এক পর্যায়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে তাকে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রবিবার (৮ মার্চ) জেলমুক্তির পরে চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞাকে জেলগেটে স্বাগত জানান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় জেলগেটে তারা একে অপরকে ফুলের মালা গলায় পরিয়ে দেন।

কারামুক্তির পরে ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা বলেন, আমার জেলমুক্তির জন্য নবনির্বাচিত এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

অন্যদিকে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল রবিবার বিকালে তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃত আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করবো। আলহামদুলিল্লাহ আজকে সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হলো। আমি নিজে জেলগেটে থেকে তাকে রিসিভ করলাম।’

উল্লেখ্য, ভাঙ্গা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন) থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। গত ৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি এলাকাবাসী। এরপর থেকে ভাঙ্গায় প্রথমে দুই দফায় ৪ দিন মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নবাসী। এ আন্দোলনে সমর্থন জানায় ভাঙ্গার অন্যান্য ইউনিয়নের বাসিন্দারা। সমর্থন জানায় ভাঙ্গার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। পুরো আন্দোলনের নেতৃত্বের প্রথম সারিতে ছিলেন আলগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা।

চার দিন অবরোধ চলার পরে আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দিন সকাল-সন্ধ্যা ভাঙ্গায় মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে ওই দুই ইউনিয়ন পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনে ফিরে আসে। এবং গত নির্বাচনে এ দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা ফরিদপুর-৪ আসনেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমলের বিধান

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫১ এএম
শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমলের বিধান

লাইলাতুল কদর বা শবে কদর বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। এই রাত হাজার বছরের চেয়ে উত্তম। রমজানের শেষ দশকের কোনো এক রাতে এই পবিত্র রজনী। নির্দিষ্ট করে লাইলাতুল কদর চিহ্নিত করা হয়নি। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করো।’ (বোখারি : ২০১৭)

মহিমান্বিত এই রজনী ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ‘শবে কদরের বিশেষ নামাজ ও আমল’। বিভিন্ন পুস্তিকায় এই নামাজ ও আমল নিয়ে বিভিন্ন নিয়মের কথাও লেখা থাকে।

আবার কেউ কেউ দাবি করেন, বিশেষ সুরা দিয়ে নামাজ পড়া বা নির্ধারিত রাকাত নামাজ বিশেষ সুরা দ্বারা আদায় করতে হয়। তাই প্রশ্ন জাগে, হাদিস শরিফে এই রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ বা আমল আছে কি? থাকলে এ ব্যাপারে শরয়ি বিধান কী?

এ প্রসঙ্গে রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, কোরআন-হাদিসে শবে কদর বা শবে বরাতের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ নেই। সবসময় যেভাবে নামাজ পড়া হয়, সেভাবেই পড়বেন। অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবেন এবং যে সুরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বেন। তদ্রূপ রোজা বা অন্যান্য আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই।

এই দুই রাতে কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয়, আদায় করবেন। তবে নফল নামাজ দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা উচিত, যা হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়।

বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাজে যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন লেখা আছে, অর্থাৎ এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সুরা এতবার পড়তে হবে- এগুলো ঠিক নয়। হাদিস শরিফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা।

নফল আমল আদায়ের পদ্ধতি কী?

বিশুদ্ধ মতানুসারে, শবে বরাত ও শবে কদরের নফল আমলগুলো একাকী করণীয়। ফরজ নামাজ তো অবশ্যই মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বেন। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদিস শরিফে নেই , এমনকি সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না। তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায়, তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না। (ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম : ২/৬৩১-৬৪১ ও মারাকিল ফালাহ : পৃ. ২১৯)

সূত্র : কালবেলা

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী নির্ধারণ করল সরকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৫ এএম
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী নির্ধারণ করল সরকার

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ।

রোববার (৮ মার্চ) মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাবিউল্লাহ জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার এবং খাদেম ২ হাজার করে টাকা পাবেন। আর প্রতিটি মন্দিরের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, এ থেকে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। এ ছাড়া প্রতি খ্রিস্টান চার্চের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা, সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসবে মসজিদে কর্মরতদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা করে বছরে ২ বার এবং দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ইসমাইল জাবিউল্লাহ। তবে যেসব মসজিদ সরকারি ও দেশি বা বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার বাইরে থাকবে।

তিনি আরও জানান, এ সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মার্চ-জুনে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। সম্মানীগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেওয়া হবে।