খুঁজুন
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১ বৈশাখ, ১৪৩৩

দেড় বছর ধরে বন্ধ চিকিৎসা সেবা, ডাক্তারহীন সালথার আটঘর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
দেড় বছর ধরে বন্ধ চিকিৎসা সেবা, ডাক্তারহীন সালথার আটঘর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ৬ নম্বর আটঘর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে কোনো ডাক্তার, নার্স ও প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, মা ও শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২১ হাজার মানুষের বসবাস আটঘর ইউনিয়নে। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৩ সালে এখানে একটি ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এখানে কোনো ডাক্তার বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় কেন্দ্রটি প্রায় বন্ধের মতো অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদনও করেছেন। আবেদনে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় স্টাফ নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। অসুস্থ হলে দূরে গিয়ে চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে খুব কষ্টকর। আগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গর্ভবতী নারীরা নিয়মিত চেকআপ করাতে পারত, এখন সেই সুযোগও নেই।”

আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ফকির বলেন, “হাসপাতাল ভবন আছে, কিন্তু ডাক্তার কিংবা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নেই। কোনো সমস্যা হলে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ফরিদপুর শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে।”

গর্ভবতী নারী নাসিমা খাতুন বলেন, “আমাদের জন্য এই হাসপাতালটা খুব দরকার ছিল। নিয়মিত চেকআপ করাতে পারলে অনেক ঝুঁকি কমে যেত। এখন বাধ্য হয়ে দূরে যেতে হচ্ছে।”

এ বিষয়ে আটঘর ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মো. মাহফুজ খান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ইউনিয়নের প্রায় ২১ হাজার মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এখানে ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফ না থাকায় মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।”

সালথা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সমস্যা দেখা দেয়। আটঘর ইউনিয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।”

এদিকে এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

জানতে চাইলে এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কাজী ফরুক আহমেদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, ফরিদপুর জেলায় পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক/পরিদর্শিকা সংকট রয়েছে। প্রতি ১০ জনের বিপরীতে মাত্র ২ জন রয়েছে। যে কারণে সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনবল নিয়োগের ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। অচিরেই হয়তো এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ডাক্তার ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে আটঘর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা চালু করা হলে ইউনিয়নের হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন।

ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ২৩ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলেন- উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের মো. লিটন মোল্লা (৩৩), একই ইউনিয়নের কটুরাকান্দি গ্রামের সবুজ মোল্লা (২৩) ও টাবনী গ্রামের আলী শরীফ (২০)।

ভুক্তভোগী নারীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই তরুণীর সঙ্গে মো. লিটন মোল্লার গত দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে লিটন মোল্লা বিয়ের প্রলোভনে ওই তরুণীকে সবুজ মোল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে লিটন, সবুজ ও আলী শরীফ ওই তরুণীকে গণধর্ষণ করেন।

এদিকে ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে ওই তিন ব্যক্তিকে আসামি মামলা দায়ের করেন। পরে বিকেলের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে ‘

ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া তিন আসামিকে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হবে।

“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

শরিফুল ইসলাম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
“আধুনিকতার দূরত্ব মুছে ফিরে আসুক বিদ্যুৎহীন সন্ধ্যার উঠোনের আড্ডা”

একসময় গ্রামবাংলার সন্ধ্যা ছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার নেমে এলে মানুষ একে একে জড়ো হতো কারও বাড়ির উঠোনে। শুরু হতো গানের আসর – কখনও ভাটিয়ালি, কখনও পালাগান, আবার কখনও মুর্শিদী গানে। আপন মুর্শিদের প্রতি আবেগে ঝড়তো চোখের জল।

সেই আসর ছিল না শুধু বিনোদনের জায়গা, বরং ছিল ইহলৌকিক ও পারলৌকিক সংযোগস্থল। দিনভর ক্লান্তি, দুঃখ-কষ্ট, অভিমান – সব কিছু মিলিয়ে যেত একসাথে বসার আনন্দে।

আজ প্রযুক্তির যুগে আমরা অনেক এগিয়েছি, কিন্তু সেই উঠোনভরা সম্প্রীতি যেন হারিয়ে গেছে। বিদ্যুতের আলো আমাদের ঘর আলোকিত করেছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মন যান্ত্রিক ও স্বার্থের আখরা বানিয়েছে । এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ মোবাইল বা টেলিভিশনের পর্দায় ডুবে থাকে; পাশের মানুষের সাথে কথা বলার সময়ও যেন কমে গেছে।

গ্রামের সেই সন্ধ্যার গান আমাদের শিখিয়েছে – সম্পর্ক গড়তে বড় আয়োজন লাগে না, দরকার শুধু আন্তরিকতা আর একসাথে থাকার ইচ্ছা। সমাজে ভেদাভেদ, হিংসা, দূরত্ব কমাতে আবারও দরকার এমন ছোট ছোট উদ্যোগ।

হয়তো আমরা পুরোপুরি সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে পারব না, কিন্তু চেষ্টা করলে অন্তত মানুষের মাঝে হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আর ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলতে পারি।

লেখক: সাংবাদিক, ফরিদপুর

‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
‘ফেলো’ সম্মাননা পেলেন ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ দেশের সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। কোর্সটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ‘ফেলো অব দ্য ক্যাপস্টোন কোর্স’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন, যা দেশের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত।

রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সমাপ্ত হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা কোর্সটির গুরুত্ব ও মর্যাদাকে আরও স্পষ্ট করে।

এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল এমডি ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত সনদপত্রে উল্লেখ করা হয়, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নায়াব ইউসুফ জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত নেতৃত্ব, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিরাই বেশি থাকেন, ফলে এখানে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তব নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ক্যাপস্টোন কোর্সটি মূলত দেশের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।

এতে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সংকট ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কোর্স চলাকালে বিভিন্ন সেমিনার, কর্মশালা, গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। এছাড়া নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নায়াব ইউসুফ এই প্রশিক্ষণে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার নেতৃত্বগুণ, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং নীতি নির্ধারণের সক্ষমতা আরও সমৃদ্ধ করেছেন। সহপাঠী ও প্রশিক্ষকদের মূল্যায়নেও তিনি একজন মনোযোগী ও দক্ষ অংশগ্রহণকারী হিসেবে প্রশংসিত হন।

ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে নায়াব ইউসুফ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার এই নতুন অর্জন ভবিষ্যতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।