ফরিদপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা, স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাহিদ শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ক্ষোভের বশে তিনি নিজের সন্তানের বইখাতাও পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাহিদ শেখ ওই গ্রামের মৃত আকুব্বর শেখের ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করলেও তার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি। বরং বর্তমানে আরও সক্রিয়ভাবে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, সাহিদের বড় ছেলে আশিক শেখ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হওয়ায় সে বাবাকে এই পথ থেকে ফিরে আসতে বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু এতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সাহিদ। গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি বাড়িতে মাদক সেবনের সময় স্ত্রী ও ছেলে বাধা দিলে তাদের ঘরের বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় ছেলের পড়াশোনার সব বইখাতাও আগুনে পুড়িয়ে দেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নির্যাতনের শিকার সাহিদের স্ত্রী জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং সংসারের দায়িত্বও ঠিকভাবে পালন করেন না। মাদক ব্যবসা ও সেবনে বাধা দিলেই তিনি প্রায়ই স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। সর্বশেষ ঘটনায় তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি তাদের ছোট সন্তান জুনায়েদকেও আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে নিজের বাবার বিরুদ্ধে সালথা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশিক শেখ।
এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান রাসেল বলেন, “স্ত্রী-সন্তানকে নির্যাতনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন
Array