খুঁজুন
, ,

বক্তব্য চলাকালে স্লোগান-শোডাউন, কেন মাঝপথে বেরিয়ে গেলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
বক্তব্য চলাকালে স্লোগান-শোডাউন, কেন মাঝপথে বেরিয়ে গেলেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ?

ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম–এর উপস্থিতিতে দুই সংসদ সদস্যের অনুসারীদের স্লোগান ও হট্টগোলকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে বিরূপ পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হলরুমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ফরিদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

জানা গেছে, সকাল ১০টায় শহরের গোয়ালচামট এলাকার পুরোনো বাস টার্মিনালসংলগ্ন আজিজ ম্যানশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধনের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়েই সেখানে উপস্থিত হন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং অন্য দুই সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতেই ফিতা কেটে উদ্বোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্যায়ে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ এবং পরে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল সেখানে পৌঁছান। তবে এর আগেই প্রতিমন্ত্রী আলোচনা সভায় যোগ দিতে সদর উপজেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হলরুমে চলে যান।

পরে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন শামা ওবায়েদ। বক্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই সংসদ সদস্য অনুসারীদের নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে হলরুমে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মঞ্চে উঠে প্রধান অতিথির জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ এবং বিশেষ অতিথির আসনে বসেন শহিদুল ইসলাম বাবুল।

এ সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চেষ্টা চালান।

হট্টগোলের মধ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমি এখানে কোনো রাজনীতি করতে আসিনি। আমাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলীয়করণের কারণে প্রধান অতিথিকে আক্রমণ করা ঠিক না।”

তিনি আরও বলেন, “জনপ্রতিনিধিরা যদি এ ধরনের আচরণ করেন, তাহলে জনগণ কী শিখবে? আমরা যদি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে না পারি, তাহলে এ ধরনের আয়োজনের কোনো অর্থ থাকে না।”

বক্তব্য শেষে মঞ্চে বসার জন্য নির্ধারিত চেয়ার না পেয়ে কিছুটা বিব্রত অবস্থায় নিজের ব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে উঠে যেতে উদ্যত হন প্রতিমন্ত্রী। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের চেয়ার তাঁকে বসার জন্য দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে বক্তব্য দেওয়ার জন্য শহিদুল ইসলাম বাবুলকে আহ্বান করা হলে শামা ওবায়েদ তাৎক্ষণিকভাবে চেয়ার থেকে উঠে অনুসারীদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তখনও হলরুমজুড়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলতে থাকে। পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক শিক্ষকও হলরুম ছেড়ে বেরিয়ে যান।

পরে বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম বাবুল ঘটনাটিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের কয়েক মিনিট দেরি হয়েছিল। এ ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

অন্যদিকে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন,
“ফরিদপুরে আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের অবদান রয়েছে। শিক্ষার বিষয়ে আমরা কখনো রাজনীতি করিনি। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিবারের মানুষ, রাজনীতি তো করবই।”

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ বাশার মিয়া ওরফে চোরা বাশার (৫৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব বাকপুরা গ্রামে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার বাশার মিয়া পূর্ব বাকপুরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে বাশারের পরিহিত লুঙ্গির সামনের ডান দিকে গোজা একটি টিস্যু ব্যাগের ভেতর থেকে জীপারযুক্ত নীল রঙের পলিপ্যাকেটে রাখা কমলা বর্ণের মেথামফেটামিন (ইয়াবা) ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১১ গ্রাম। এ সময় মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে বাশার মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী ভাঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন ও আসামীকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চরভদ্রাসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পেন প্রবাসীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পেন প্রবাসীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী বিতরণ করেছে স্পেন প্রবাসী ল স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি আলী ইউনুছ আলী প্রামানিক।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিশ্বাস বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট ২ সেট জার্সি ও একটি ফুটবল উপহার হিসেবে বিতরন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্বাস বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বিশ্বাস জানান, এসব ক্রীড়া সরঞ্জাম হাতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী প্রামানিক বলেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিঘ্নিত না হয়, সে ভাবনা থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছি। আগামীতে আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ক্রিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষানুরাগী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, উপহার হিসেবে পাওয়া এসব সামগ্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় যুবকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় যুবকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় রুবেল খন্দকার (২০) নামে এক যুবককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি সোহেল মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থানাধীন একটি মাদ্রাসায় প্রায় ছয় মাস ধরে আবাসিক থেকে পড়াশোনা করছিল ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র হেদায়েত উল্লাহ। ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদ্রাসার সামনের পশ্চিম পাশে জুরদী বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার কথা বলে সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর মাদ্রাসায় ফিরে আসেনি।

শিশুটিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারী মো. ইউনুস আলী তার পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরে শিশুটির বাবা মো. কামাল খন্দকার নগরকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটি নিখোঁজের পরদিন ১৫ জানুয়ারি দুপুরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একই দিন রাতে আবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং শিশুটির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই মাদ্রাসার ছাত্র রুবেল খন্দকার ও সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলার নথিতে রুবেলকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার আদালত রুবেল খন্দকারকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি সোহেল মোল্লাকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী বলেন, শিশু অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রুবেল খন্দকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।