খুঁজুন
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াত-সে যেই হোক—দোষী হলে রেহাই নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জেলা প্রশাসনকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেছেন, আপনাদের দ্ল-মত দেখার দরকার নেই। কেউ যদি দোষী হয়—সে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত যেই হোক—তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এটিই আমাদের সরকারের স্ট্যান্ড। নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—আমি আপনাদের সহকর্মী হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি এখানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বসিনি। আমরা যদি টিমওয়ার্ক করতে পারি, তাহলেই ফরিদপুর জেলাকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারব। আপনারা আমাকে সহকর্মী হিসেবে বিবেচনা করবেন। বেশিরভাগের কাছেই আমার ফোন নম্বর আছে। যেকোনো সমস্যা সরাসরি আমাকে জানাতে পারেন।

রমজান মাস নিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, দ্রব্যমূল্য যাতে আর না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট আছে। কমার্স মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইতিমধ্যে সে বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। আপনারা যারা গ্রাউন্ড লেভেলে আছেন, আপনাদের কোনো বিশেষ পরামর্শ থাকলে অবশ্যই দেবেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনগণের মনে শান্তি রাখা, যাতে তারা সুন্দরভাবে রোজা পালন করতে পারে এবং ঈদ পালন করতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে একটি বিষয় দেখিয়ে দিয়েছেন। এই সরকার অনেক যুদ্ধের পরে, অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছে। জনগণেরও অনেক আকাঙ্খা এই সরকারের ওপর। সুতরাং এটাকে হেলাফেলা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিশেষ করে মাদক নিয়ে ঘরে বসে কথা বললে হবে না। আমাদের কিছু স্ট্র‍্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যারা মাদক সেবন করে, তারা অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম। কিন্তু যারা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। শর্ট টার্মে অ্যাকশন দেখাতে হবে, পাশাপাশি লং টার্মে সামাজিক সচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, রমজান মাসে সকল জনগণ দল-মত নির্বিশেষে সুন্দরভাবে রোজা ও ঈদ পালন করবে, দ্রব্যমূল্য সহনীয় থাকবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে না। কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় উপস্থিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা যে নানান পরিবর্তনের কথা বলছি, সেই পরিবর্তন অবশ্যই হবে। আপনারা ইতোমধ্যেই দেখেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পরিবর্তন নিজে থেকেই শুরু করেছেন। আমরাও চাই এই পরিবর্তনটা সর্বব্যাপী হোক। তবে মানুষের যেমন চাওয়া যে একটা সুইচ দিলে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে, এটা ঠিক না। তবে আবার পরিবর্তন যে হবে না, সেটাও না। পরিবর্তন অবশ্যই হবে। সবটুকু যদি অর্জন নাও করতে পারি, অন্তত কিছুটা ভালো অর্জন করতে পারব।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে এসময় বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এ.এস.এম. আলী আহসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ প্রমুখ।

সালথায় আগুনে পুড়ল কৃষকের ঘর, খোলা আকাশের নীচে পরিবার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫০ পিএম
সালথায় আগুনে পুড়ল কৃষকের ঘর, খোলা আকাশের নীচে পরিবার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মজিবুর মাতুব্বর নামে এক কৃষকের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় ঘরবাড়ি ও ঘরের সব আসবাবপত্র ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে রান্নার সময় চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো বসতঘরে। আগুনের তীব্রতায় ঘরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রীসহ সবকিছু পুড়ে যায়।

এলাকাবাসী প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ঘরের সবকিছু পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মজিবুর মাতুব্বর জানান, “আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরে যা ছিল সব আগুনে পুড়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আছি। কোথায় থাকব, কী খাব—কিছুই বুঝতে পারছি না।” তার এই অসহায় অবস্থায় স্থানীয়রা গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

সালথা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল জলিল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে রান্নাঘরে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা।

‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি হবে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫২ পিএম
‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি হবে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল ভিত্তি হবে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার পথ থেকে সরে এসে ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন কূটনীতি পরিচালনা করবে সরকার।’

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার প্রথম নিজ এলাকায় আগমন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি হবে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতির আধুনিক রূপ। আমরা কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভর না করে বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চাই। এতে করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।”

শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে। “আমরা চাই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, স্থিতিশীল এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশের মেরুদণ্ড সোজা রেখে কূটনীতি পরিচালনাই আমাদের লক্ষ্য,”—যোগ করেন তিনি।

ভিসা জটিলতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এ সমস্যার সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত বা জটিল হয়ে থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত চালু করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “বিদেশগামী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে আমরা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

এদিন সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে তিনি প্রথমে নগরকান্দায় পৌঁছান। সেখানে তাকে নগরকান্দা থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে তিনি লস্করদিয়ায় নিজ বাড়িতে গিয়ে তার পিতা, বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এরপর নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ভাঙ্গায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০০ পিএম
ভাঙ্গায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় কর্মরত দৈনিক কালবেলা–এর প্রতিনিধি ও ভাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ শামীমের (৪৭) ওপর সন্ত্রাসী হামলার মূল হোতাকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার ঈদগাহ মসজিদ সংলগ্ন সড়কে স্থানীয় সাংবাদিকেরা ও সচেতন সমাজ এ মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাতের শামিল। অবিলম্বে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

বক্তারা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন দৈনিক ইনকিলাবের ভাঙ্গা প্রতিনিধি ওবায়দুল আলম সম্রাট। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রাজশাহীর আলো পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক আজিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মুন্সী। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ মানববন্ধনে অংশ নেন।

আহত কালবেলার সাংবাদিক সাইফুল্লাহ শামীম বলেন, সাবেক আওয়ামী লীগের এমপি নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত তামিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তার প্রভাব খাটিয়ে তামিম এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এলাকায় জমি কেনাবেচা বা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে তার চাঁদা না দিয়ে কেউ কাজ করতে পারত না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান, ২৪-এর গণঅবস্থানের পর তামিম কিছুদিন এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকলেও ২৬-এর নির্বাচনের পর পুনরায় প্রকাশ্যে এসে চাঁদাবাজি শুরু করে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাইফুল্লাহ শামীম। তবে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মানববন্ধন শেষ ভাঙ্গা (থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ওসির নিকট হামলাকারীকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলিম জানান, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ শামীমের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত রামিম মুন্সির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য , গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভাধীন কাপুরিয়া সদরদী এলাকার হেলিপ্যাড সংলগ্ন গাজীরভিটা মসজিদের সামনে তামিম মুন্সির দেশীয় অস্ত্রের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন সাংবাদিক সাইফুল্লাহ শামীম।