খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

দুপুর গড়িয়েছে, অফিসের ফাইল টেবিলে জমে উঠছে। কেউ চুপচাপ কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ একটু পরপর মোবাইল স্ক্রল করছে কিংবা চা-আড্ডায় ব্যস্ত। তাই প্রশ্নটা প্রায়ই ওঠে, আসলে কে বেশি কাজে ফাঁকি দেয়? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এতটা সরল নয়। বরং এর পেছনে আছে সামাজিক বাস্তবতা, কর্মসংস্কৃতি, এবং ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্বের জটিল মিশেল।

গবেষণা কী বলছে?

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ফাঁকি দেওয়া বা কাজ পেছানো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে; তবে এর ধরন ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ‘non-work activities’-এ ব্যয় করেন। সেটা হতে পারে অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা আড্ডা।

অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এ প্রকাশিত একাধিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নারীরা কাজ ফাঁকি কম দিলেও অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে ‘burnout’ বা মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন, যা তাদের কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

মনস্তত্ত্বের দিক থেকে পার্থক্য

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ছেলেদের মধ্যে ‘risk-taking behavior’ বা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে তারা অনেক সময় কাজ শেষ মুহূর্তে করার ঝুঁকি নেয়।

অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পারফেকশনিজম বেশি থাকায় তারা কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা কম দেখায়, তবে অতিরিক্ত নিখুঁত করতে গিয়ে সময় বেশি নেয়।

বাংলাদেশি বাস্তবতায় চিত্রটা কেমন?

বাংলাদেশের অফিস-সংস্কৃতি, বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, এই প্রশ্নের উত্তর আরও ভিন্ন হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষ কর্মীরা অফিস সময়ের মধ্যে বাইরে যাওয়া, ধূমপান বিরতি, কিংবা আড্ডায় বেশি সময় দেন। আবার নারী কর্মীরা অফিসের পাশাপাশি ঘরের কাজ, রান্না, সন্তান দেখাশোনা; সব সামলাতে গিয়ে অফিসে তুলনামূলকভাবে বেশি ফোকাসড থাকতে বাধ্য হন।

ঢাকার মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এইচআর কর্মকর্তা মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা দেখেছি, নারী কর্মীরা সাধারণত সময় মেনে কাজ শেষ করতে বেশি সচেতন। তবে চাপ বেশি হলে তারা চুপচাপ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পুরুষরা আবার কাজের ফাঁকে একটু বেশি ‘breather’ বা সংক্ষিপ্ত বিরতি নেয়।

সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারূফ জাকির বলেন, কোনো ক্ষেত্রে নারীকর্মীরা বেশি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ খুঁজেন, আবার কোনো ক্ষেত্রে পুরুষকর্মীরাও এই সুযোগের আশায় থাকেন। তাই বিষয়টি একদম নির্ধারণ করে বলা মুশকিল। তবে এটা সত্য যে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি ভারী কাজ করতে পারেন।

ডিজিটাল যুগে নতুন ফাঁকি

বর্তমানে কাজ ফাঁকি দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, ইউটিউব দেখা এবং অপ্রয়োজনীয় চ্যাটে লিপ্ত হওয়া। এই অভ্যাসগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সমানভাবে বাড়ছে। ফলে ‘কে বেশি ফাঁকি দেয়’, এই প্রশ্ন এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

তাহলে আসল সত্যটা কী?

সব গবেষণা ও বাস্তবতা মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার, কাজ ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিগত অভ্যাস, কাজের পরিবেশ ও মানসিক অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ দায়িত্বশীল হলে সে ছেলে হোক বা মেয়ে, ফাঁকি কম দেবে। আর কেউ যদি অনুপ্রেরণাহীন বা চাপগ্রস্ত হয়, তাহলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়বেই।

শেষ কথা

‘ছেলেরা বেশি ফাঁকি দেয়’ বা ‘মেয়েরা বেশি সিরিয়াস’; এমন একপাক্ষিক ধারণা আসলে পুরো সত্যকে তুলে ধরে না। বরং কাজের সংস্কৃতি, পারিবারিক চাপ, এবং ব্যক্তিগত মানসিকতা; এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় একজন কর্মীর কাজের ধরন।

ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লোকসংগীত শিল্পী লাইলী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবহার অনুপযোগী বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম। 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের বাংলোবাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইলী আক্তারের হাতে আর্থিক সহায়তার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “লাইলী আক্তার আমাদের জেলার গর্ব। তার কণ্ঠে গ্রামীণ সংস্কৃতির যে আবেগ ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে, তা ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। একজন শিল্পীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, লাইলী আক্তারের বসতবাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক জানান, লাইলীর বিষয়টি সরকারের সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দুষ্টিগোচর হয়েছে। ঈদের পরে যে কোন সময়ে তার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লাইলী আক্তার জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি আমার গান এত মানুষের ভালোবাসা পাবে। জেলা প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমি অনেক খুশি।”

এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে একটি তাবুর নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে গাছচাপায় জিয়াউর রহমান বাঘা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মহিষা গ্রামের আমির হোসেন বাঘার ছেলে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাইশরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান বাঘা জাকের পার্টির সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের সঙ্গে থাকা হাজী মো. মনির হোসেন জানান, সকালে তারা দুজন একসঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী তাবুর নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে পাশের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে তাবুর ওপর পড়ে। এতে জিয়াউর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ধারাবাহিকতায় জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও এসব এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে ঈদ উদযাপন করছেন।

সহস্রাইল দায়রা শরীফে নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন মসজিদ কমিটি। সেখানে জামায়াতে ইমামতি করেন ধলেরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।”

তিনি আরো বলেন, বোয়ালমারীর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের কিছু মানুষও এ জামায়াতে অংশ নেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার জানান, আগে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে আলাদা জামায়াত হতো। কিন্তু ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর সেখানে আর জামায়াত হচ্ছে না। এখন ধলেরচরের কয়েকজন মুসল্লি সহস্রাইল দায়রা শরীফে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা বহু বছরের পুরোনো। সংখ্যায় কম হলেও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করেই তারা প্রতি বছর আলাদা দিনে ঈদ পালন করে থাকেন।