খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফাল্গুনের সকালে শীতের প্রত্যাবর্তন: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
ফাল্গুনের সকালে শীতের প্রত্যাবর্তন: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর

আজ ১৮ ফাল্গুন, মঙ্গলবার (৩ মার্চ)। বসন্তের মাঝামাঝি সময়ে এসে হঠাৎ ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে ফরিদপুরের জনপদ। শীত বিদায় নিলেও ভোরের এই কুয়াশা যেন শীতের চিরচেনা রূপকেই আবারও ফিরিয়ে আনল।

মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন কুয়াশা দেখা যায়। সকাল ৮টা পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক এবং গ্রামীণ জনপদ—সবখানেই ছিল কুয়াশার সাদা চাদর। দূরের ভবন, গাছপালা এমনকি চলন্ত যানবাহনও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এতে করে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া ছিল বেশ উষ্ণ। দিনের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে বাড়ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ভোরের দিকে তাপমাত্রা কমে গিয়ে কুয়াশার সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভোরে ঘর থেকে বের হয়ে শীতের মতো অনুভূতি পান। কেউ কেউ আবার শীতের পোশাক বের করে পরেছেন।

কৃষকদের জন্য এই কুয়াশা কিছুটা স্বস্তির হলেও উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান ও সবজি চাষিরা বলছেন, অতিরিক্ত কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে স্বল্প সময়ের কুয়াশা জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে।

শহরের শ্রমজীবী মানুষদের কাজে যেতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। রিকশাচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা কম দৃশ্যমানতার কারণে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করেন। ভোরে নদীপথেও নৌযান চলাচলে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে এমন হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতার তারতম্যের কারণেই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কেটে গিয়ে স্বাভাবিক আবহাওয়া ফিরে আসে।

ফাল্গুন মানেই রঙিন প্রকৃতি আর বসন্তের আমেজ। কিন্তু আজকের সকালটি যেন স্মরণ করিয়ে দিল—ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা অস্বাভাবিক নয়। শীতের বিদায়ের পরও মাঝে মাঝে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল ফরিদপুরবাসীর কাছে এক ভিন্ন অনুভূতি এনে দেয়।

আলফাডাঙ্গায় ভুয়া স্বাক্ষরে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় ভুয়া স্বাক্ষরে জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অভিযুক্তের শাস্তি চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় জাল দলিল, ভুয়া স্বাক্ষর ও প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের জমি নিজের নামে নামজারি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাম কাজী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. শহিদুল ইসলাম।

বুধবার (৩ জুন) দুপুরে আলফাডাঙ্গা ডাকবাংলো সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহিদুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার বাবা অলিয়ার রহমান বৈধ দানপত্রের মাধ্যমে তাকে ৩ শতাংশ জমি প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে ওই জমির নামজারির আবেদন করতে গেলে তিনি জানতে পারেন, জমিটি ইতোমধ্যে শাম কাজী নামের এক ব্যক্তি নিজের নামে নামজারি করে নিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০০৮ সালের একটি দলিল (নম্বর-৭৯১) দেখিয়ে জমিটির নামজারি সম্পন্ন করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। সেখানে সংরক্ষিত মূল দলিলে তার বাবা অলিয়ার রহমানের কোনো নাম, ছবি কিংবা স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। ফলে এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা দলিল বলে প্রতীয়মান হয়।

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর উপস্থাপন করা হলে তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। পরে প্রশাসন অভিযুক্ত শাম কাজীর নামে করা নামজারি বাতিল করে। তবে নামজারি বাতিল হলেও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত পক্ষ তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে। ফলে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের কাছে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত মূল হোতা, সহযোগী এবং ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি তার পরিবারকে নিরাপত্তা প্রদান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) একেএম রায়হানূর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাঁশের খুঁটি গলায় ঢুকে প্রাণ গেল গাছ ব্যবসায়ীর

জাকির হোসেন, নগরকান্দা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাঁশের খুঁটি গলায় ঢুকে প্রাণ গেল গাছ ব্যবসায়ীর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে গাছ কাটার সময় দুর্ঘটনায় শেখ আকু (৬৫) নামে এক গাছ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

নিহত শেখ আকু নগরকান্দা উপজেলার কুঞ্জনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাছ কেনাবেচা ও কাটার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে কৃষ্ণপুর এলাকায় একটি বড় গাছ কাটার কাজ করছিলেন শেখ আকু। গাছের ওপর অবস্থান করে কাজ করার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। এ সময় নিচে থাকা একটি বাঁশের খুঁটির ওপর আছড়ে পড়লে খুঁটিটি তার গলার ভেতর ঢুকে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ ছিল না।

নিহতের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার বাড়িতে চলছে আহাজারি। দীর্ঘদিনের পরিচিত ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে এলাকায় তার সুনাম ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাবার সঙ্গে অভিমান, ঘাস মারা বিষ খেয়ে প্রাণ দিল যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাবার সঙ্গে অভিমান, ঘাস মারা বিষ খেয়ে প্রাণ দিল যুবক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বাবার সঙ্গে অভিমান করে ঘাস মারা বিষপান করা এক যুবকের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

মৃত যুবকের নাম রুবেল ফকির (২০)। তিনি উপজেলার বোড়ইপাড়া গ্রামের নুরু ফকিরের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় বাবা নুরু ফকির ছেলেকে বকাঝকা করেন। বিষয়টি নিয়ে অভিমান করে রুবেল বাড়িতে থাকা কৃষি জমিতে ব্যবহৃত ঘাস মারা বিষ পান করেন।

পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

পরে একই দিন দুপুর ১টা ১০ মিনিটে রুবেলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিষক্রিয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ হাসপাতাল মর্গে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”