খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ গাছের ব্যবসা, সবুজ স্বপ্নে মেতে উঠছেন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ গাছের ব্যবসা, সবুজ স্বপ্নে মেতে উঠছেন মানুষ

ফরিদপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণভাবে ফুল, ফল ও শৌখিন গাছ বিক্রির কার্যক্রম। একসময় এসব গাছ মূলত ভ্যানে করে বিক্রি হলেও এখন মিনি পিকআপে সাজিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের গাছের চারা। এতে যেমন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও সহজেই নিজের পছন্দের গাছ কিনে বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগান সাজানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের আলিপুর মোড়ে দেখা যায়, একটি মিনি পিকআপে করে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ বিক্রি করছেন মো. রোশন নামের এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। পুরো পিকআপজুড়ে ছিল রঙিন গোলাপ, ক্যাকটাস, বনসাই, ঝাউগাছ, মানিপ্ল্যান্ট, বারোমাসি ফুলগাছসহ নানা ধরনের শৌখিন গাছের সমাহার। পাশাপাশি ফলের চারার মধ্যেও ছিল পেয়ারা, মালটা, কমলা, সফেদা, পেঁপে, করমচা ও লেবুর গাছ।

গাছ বিক্রেতা মো. রোশন জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিনি গাছ বিক্রি করেন। মানুষের মধ্যে এখন গাছ লাগানোর আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অনেকে বাড়ির ছাদে বাগান করছেন, আবার কেউ কেউ শখ করে বাসার বারান্দা সাজাচ্ছেন। তাই ফুল ও ফলের গাছের চাহিদাও বাড়ছে।”

তিনি আরও জানান, তার কাছে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ গাছ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাসের দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, ঝাউগাছ ২০০ টাকা এবং গেলপ্রিনিয়া বারোমাসি ফুলগাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও ৭ থেকে ৮ প্রজাতির গোলাপের চারা রয়েছে, যেগুলোর দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্তমানে পরিবেশ দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষ গাছ লাগানোর গুরুত্ব বেশি উপলব্ধি করছেন। বিশেষ করে শহরের মানুষ এখন ছাদবাগান ও ইনডোর প্লান্টের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছের দোকান তাদের কাছে বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাজার করতে বেরিয়ে সহজেই প্রয়োজনীয় গাছ কিনে নিতে পারছেন।

ক্রেতা শাহিনুর রহমান বলেন, “আগে নার্সারিতে গিয়ে গাছ কিনতে হতো। এখন বাসার কাছেই বিভিন্ন ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময়ও বাঁচছে, আবার পছন্দমতো গাছও সহজে পাওয়া যাচ্ছে।”

তবে বিক্রেতাদের দাবি, মানুষের আগ্রহ বাড়লেও বর্তমানে শহরে লোকসমাগম কিছুটা কম থাকায় বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তারপরও প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

পরিবেশবিদদের মতে, শহরে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছ বিক্রির উদ্যোগ সবুজায়ন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের পরিবেশও ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শেখ সামাদ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুদ্দিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সামাদ ওই গ্রামের মৃত শেখ ইয়াজউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে শেখ সামাদ গরুর জন্য নিজ জমিতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তার স্ত্রী ছাহেরা বেগমের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে উপ-পরিদর্শক (নি:) মো. মিনারুল কাজী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।