খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ গাছের ব্যবসা, সবুজ স্বপ্নে মেতে উঠছেন মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ গাছের ব্যবসা, সবুজ স্বপ্নে মেতে উঠছেন মানুষ

ফরিদপুর শহর ও আশপাশের এলাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণভাবে ফুল, ফল ও শৌখিন গাছ বিক্রির কার্যক্রম। একসময় এসব গাছ মূলত ভ্যানে করে বিক্রি হলেও এখন মিনি পিকআপে সাজিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের গাছের চারা। এতে যেমন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও সহজেই নিজের পছন্দের গাছ কিনে বাড়ির আঙিনা কিংবা ছাদবাগান সাজানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ফরিদপুর শহরের আলিপুর মোড়ে দেখা যায়, একটি মিনি পিকআপে করে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ বিক্রি করছেন মো. রোশন নামের এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা। পুরো পিকআপজুড়ে ছিল রঙিন গোলাপ, ক্যাকটাস, বনসাই, ঝাউগাছ, মানিপ্ল্যান্ট, বারোমাসি ফুলগাছসহ নানা ধরনের শৌখিন গাছের সমাহার। পাশাপাশি ফলের চারার মধ্যেও ছিল পেয়ারা, মালটা, কমলা, সফেদা, পেঁপে, করমচা ও লেবুর গাছ।

গাছ বিক্রেতা মো. রোশন জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিনি গাছ বিক্রি করেন। মানুষের মধ্যে এখন গাছ লাগানোর আগ্রহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অনেকে বাড়ির ছাদে বাগান করছেন, আবার কেউ কেউ শখ করে বাসার বারান্দা সাজাচ্ছেন। তাই ফুল ও ফলের গাছের চাহিদাও বাড়ছে।”

তিনি আরও জানান, তার কাছে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ গাছ ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ক্যাকটাসের দাম ১০০ থেকে ৫০০ টাকা, ঝাউগাছ ২০০ টাকা এবং গেলপ্রিনিয়া বারোমাসি ফুলগাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও ৭ থেকে ৮ প্রজাতির গোলাপের চারা রয়েছে, যেগুলোর দাম ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় কয়েকজন ক্রেতা জানান, বর্তমানে পরিবেশ দূষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে মানুষ গাছ লাগানোর গুরুত্ব বেশি উপলব্ধি করছেন। বিশেষ করে শহরের মানুষ এখন ছাদবাগান ও ইনডোর প্লান্টের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছের দোকান তাদের কাছে বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাজার করতে বেরিয়ে সহজেই প্রয়োজনীয় গাছ কিনে নিতে পারছেন।

ক্রেতা শাহিনুর রহমান বলেন, “আগে নার্সারিতে গিয়ে গাছ কিনতে হতো। এখন বাসার কাছেই বিভিন্ন ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সময়ও বাঁচছে, আবার পছন্দমতো গাছও সহজে পাওয়া যাচ্ছে।”

তবে বিক্রেতাদের দাবি, মানুষের আগ্রহ বাড়লেও বর্তমানে শহরে লোকসমাগম কিছুটা কম থাকায় বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না। তারপরও প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

পরিবেশবিদদের মতে, শহরে এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ গাছ বিক্রির উদ্যোগ সবুজায়ন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে যেমন মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে শহরের পরিবেশও ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের নগরকান্দায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কহিনুর বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী লিটন মিয়া ওরফে লিটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ফরিদপুরের একটি আদালত। একই সাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

​এছাড়া মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে লুকানোর অভিযোগে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তাকে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের পারিবারিক আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, আসামির উভয় সাজা একসাথে কার্যকর হবে।

​সাজাপ্রাপ্ত লিটন মিয়া ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার শশা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে।

​মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে শশা উত্তরপাড়া এলাকার লিটন মিয়ার সাথে কহিনুর বেগমের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কহিনুরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন লিটন ও তার পরিবারের সদস্যরা। যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে।

​একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রীকে কিছু না জানিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন লিটন। এরপর কহিনুর ও তার সন্তানদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাপ দিতে থাকেন তিনি। এমনকি বাড়ি না ছাড়লে কহিনুরকে মেরে মরদেহ গুম করারও হুমকি দেওয়া হয়।

​পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৭ আগস্ট রাতে কহিনুর তার মেয়েকে নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়ের ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা ভাইকে জানায়। ভোরে স্বজনেরা বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরের উত্তর পাড়ে কহিনুরের নিথর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

​এ ঘটনায় নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আজিজুর রহমান পিকু বলেন, “আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির বিরুদ্ধে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সার্বিক বিচার বিশ্লেষণ শেষে বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি।”

ভাঙ্গায় বাসচাপায় প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় বাসচাপায় প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হয়েছেন।

​বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহনে’র একটি বাস একই লেনের একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।

​খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

​ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল মিয়া জানান, দুর্ঘটনা কবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

যে ৭ খাবার ফুড পয়জনিং-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
যে ৭ খাবার ফুড পয়জনিং-এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে?

বর্ষার ঝিরিঝিরি বৃষ্টি যেমন আমাদের মনে স্বস্তি এনে দেয়, তেমনই এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য নিয়ে আসতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ষাকালে বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ফুড-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, আর্দ্র আবহাওয়া ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষতিকর অণুজীবের দ্রুত বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত অনুকূল, যার ফলে খাবার খুব দ্রুত নষ্ট বা পচে যায়।

এই বিষয়ে বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ রূপালী দত্ত বলেন, ‘বর্ষাকালে আমাদের পরিপাকতন্ত্র তুলনামূলকভাবে ধীরগতির হয়ে পড়ে। যার কারণে পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং বদহজমের মতো অস্বস্তিকর লক্ষণগুলো সহজেই দেখা দেয়’। তাই সারা বছর খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বর্ষার মৌসুমে কিছু নির্দিষ্ট খাবারের ক্ষেত্রে আমাদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

ফুড পয়জনিং-এর সাধারণ লক্ষণসমূহ

অসাবধানতাবশত বর্ষাকালে জীবাণুযুক্ত খাবার খেয়ে ফেললে শরীরে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে:

বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া

পেটে মোচড় দেওয়া এবং তীব্র পেট ব্যথা

পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া (কিছু ক্ষেত্রে মল দিয়ে রক্তও যেতে পারে)

জ্বর এবং শরীর কাঁপানো ঠাণ্ডা লাগা

অতিরিক্ত শারীরিক ক্লান্তি ও সারা শরীরে ব্যথা হওয়া

ঝুঁকিপূর্ণ সেই ৭টি খাবার

বর্ষার দিনগুলোতে সুস্থ থাকতে নিচের ৭টি খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি:

১. কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ মাংস

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর মতে, মুরগি, টার্কি কিংবা গরুর মাংস যদি সঠিকভাবে এবং পুরোপুরি রান্না করা না হয়, তবে তাতে সালমোনেলা (Salmonella) এবং ই. কোলাই (E. coli)-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। তাই মাংস ভালোভাবে সেদ্ধ করে রান্না করা নিশ্চিত করুন।

২. কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ডিম

কাঁচা ডিম দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার যেমন—ঘরে তৈরি মেয়োনিজ কিংবা বেশ কিছু ডেজার্ট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার এই সময়ে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি বা ফুড পয়জনিং-এর আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৩. সামুদ্রিক মাছ ও শামুকজাতীয় খাবার

অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ‘ফুডসেফটি’-এর তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা মাছ, সুশি এবং বিভিন্ন খোলসযুক্ত সামুদ্রিক খাবার-এ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি টক্সিন থাকতে পারে, বিশেষ করে যদি সেগুলো দূষিত পানি থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।

৪. অপাস্তুরিত দুধ ও নরম পনির

কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ এবং তা থেকে তৈরি পনিরে লিস্টিরিয়া (Listeria)-এর মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিডিসি। বর্ষায় এগুলো পরিহার করাই শ্রেয়।

৫. কাঁচা ফলমূল ও শাকসবজি

ভালোভাবে না ধুয়ে কাঁচা ফল, পাতাযুক্ত সবজি কিংবা শাক খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এগুলোতে ক্ষতিকর জীবাণু, মাটির কণা কিংবা সেচের পানি থেকে আসা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকতে পারে।

৬. রান্না করা ভাত ও পাস্তা

রান্না করা ভাত, নুডলস বা পাস্তা যদি ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া হয়, তবে সেখানে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

৭. কাটা মাংস ও রেডি-টু-ইট সালাদ

দোকানের প্যাকেটজাত সালাদ, কোলস্লো, আলুর সালাদ বা স্লাইস করা মাংস (Deli Meats) যদি সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষিত না থাকে, তবে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া হাত দিয়ে নাড়াচাড়ার কারণেও এগুলো সহজেই দূষিত হতে পারে।

বর্ষায় ফুড পয়জনিং এড়াতে করণীয়

বাড়িতে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের সময় কিছু সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুলুন:

ফল ও সবজি ধোয়া এবং হাত পরিষ্কার করা: যেকোনো ফলমূল ও সবজি রান্নার আগে বা কাঁচা খাওয়ার আগে প্রবাহিত পানির নিচে রেখে খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। খাবার তৈরির আগে, মাঝে ও পরে এবং খাওয়ার ঠিক আগে সাবান ও পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিন।

কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা: কাঁচা মাংস, ডিম, হাঁস-মুরগি বা সামুদ্রিক খাবারকে রান্না করা এবং সরাসরি খাওয়ার উপযোগী খাবার থেকে সর্বদা আলাদা রাখুন, যাতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রান্নাঘরে বা অন্যান্য খাবারে ছড়িয়ে না পড়ে।

খাবার ভালো করে রান্না করা: জীবাণু ধ্বংস করতে খাবার সবসময় নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা পৌঁছানো পর্যন্ত ভালোভাবে রান্না করুন। মাংসের ক্ষেত্রে সেদ্ধ হওয়া নিয়ে নিশ্চিত না হলে ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারেন।

খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখা: ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় খাবার ফেলে রাখলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই পচনশীল এবং রান্না করা খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪০° ফারেনহাইট (৪° সেলসিয়াস) বা তার নিচে এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা ০° ফারেনহাইট (-১৮° সেলসিয়াস) বা তার নিচে রাখা উচিত। রান্না শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে খাবার ফ্রিজে রাখা জরুরি।

একটু সচেতনতা এবং সঠিক নিয়মে খাদ্য গ্রহণ ও রান্নার অভ্যাসই পারে বর্ষার এই মনোরম ঋতুতে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ফুড