খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৩:২১ পিএম
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে আহাদ শেখ (৩০) নামে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আহাদ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত আহাদ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী গ্রামের মৃত বাদশা শেখের ছেলে।

এ মামলার অপর দুই আসামি মাহিন শেখ ও সরুজ শেখকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কাগদী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. রোমেছা বেগমের মেয়ে রুবাইয়া বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বল্লভদী গ্রামের আহাদ শেখের কয়েক বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আরো তিন লাখ টাকা দাবি করে স্বামী আহাদ শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে এক লাখ টাকা দিলেও বাকি দুই লাখ টাকার জন্য রুবাইয়া বেগমের ওপর নিয়মিত চাপ ও নির্যাতন চালানো হয়। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট যৌতুকের টাকা নিয়ে স্বামী আহাদ শেখের সঙ্গে রুবাইয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আহাদ শেখ স্ত্রীকে মারধর করে এবং পরিকল্পিতভাবে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে দেয়। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর নিহতের মা রোমেছা বেগম বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে সালথা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিয়ার রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত প্রধান আসামি আহাদ শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভুইয়া রতন বলেন, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যার বিষয়টি আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আদালত আসামির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করেছেন। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

ফরিদপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান: ১৯ জন নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
ফরিদপুরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান: ১৯ জন নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কৃষাণ হাটায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা প্রশাসন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ রয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে গোয়ালচামট এলাকার কৃষাণ হাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়।

এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সাজা ঘোষণার পর তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলে এলাকার পরিবেশ আরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হবে।

প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদকে ঘিরে মহাসড়কে কড়া নজরদারি, মাঠে হাইওয়ে পুলিশ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২:২৪ পিএম
ঈদকে ঘিরে মহাসড়কে কড়া নজরদারি, মাঠে হাইওয়ে পুলিশ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে মহাসড়কে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) থেকে হাইওয়ে পুলিশ মাদারীপুর রিজিয়ন, ফরিদপুরের উদ্যোগে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানজট কমানো, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিন মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পরিদর্শন করেন হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (দক্ষিণ) সরকার মোহাম্মদ কায়সার, হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোমতাজুল এহসান আহাম্মদ হুমায়ন। এ সময় তাদের সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের মাদারীপুর রিজিয়নের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে তারা দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোর গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং সড়কের নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। তাই সম্ভাব্য যানজটপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত টহল, চেকপোস্ট এবং মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ধরনের সমস্যায় যাত্রীদের পাশে থাকতে প্রস্তুত রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে সড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত স্থানে যানবাহন থামানো এবং নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে করে ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।  

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য মেজর হাফিজ উদ্দিন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে তিনি স্পিকার নির্বাচিত হন।

বিএনপির সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল স্পিকার পদে মেজর হাফিজ উদ্দিনের নাম প্রস্তাব করেন।

 এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অধিবেশন শুরু হয়।

১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর এবারই প্রথম নতুন সংসদের অধিবেশন স্পিকার ছাড়া শুরু হলো। প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর কার্যক্রম শুরু হবে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সাতবারের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা-৩ আসন থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ উপাধি লাভ করেন। এক সময়কার তারকা ফুটবলার হাফিজ উদ্দিন বিএনপি সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।