খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে খুচরা সার বিক্রেতাদের মানববন্ধন

সার বিক্রয় সংক্রান্ত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা বাতিল করে ২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন খুচরা সার বিক্রেতারা। নতুন নীতিমালার কারণে সারা দেশের হাজার হাজার খুচরা বিক্রেতা তাদের ব্যবসা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে ফরিদপুর জেলা খুচরা সার বিক্রেতা অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা খুচরা সার বিক্রেতারা অংশ নেন এবং নতুন নীতিমালার প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক আশরাফ জোমাদ্দার, ক্রীড়া সম্পাদক আফতাব হোসেন বাবুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব শিকদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ২০০৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী সারা দেশে সরকার অনুমোদিত প্রায় ৪৪ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এই নীতিমালার আওতায় তারা কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ করে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের নীতিমালা বাতিল করে ২০২৫ সালে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এর ফলে পূর্বের অনেক খুচরা বিক্রেতার লাইসেন্স বাতিল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তাদের দাবি, নতুন নীতিমালার কারণে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হঠাৎ করেই ব্যবসা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। এতে করে প্রায় ৪৪ হাজার বিক্রেতা এবং তাদের পরিবার জীবিকা সংকটে পড়েছে। অনেকেই ব্যাংক ঋণ ও দেনার বোঝা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

তারা আরও বলেন, খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের নিকটতম পর্যায়ে সার সরবরাহ করে থাকেন। ফলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে কৃষকরাও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহে সমস্যায় পড়তে পারেন, যা কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত ২০২৫ সালের নতুন নীতিমালা বাতিল করে ২০০৯ সালের নীতিমালা পুনর্বহালের দাবি জানান। একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতাদের লাইসেন্স পুনরায় বহাল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে খুচরা সার বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জীবিকা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

চরভদ্রাসন প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আসামীদের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য আহত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে আসামি গ্রেপ্তার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের পদ্মা নদীবেষ্টিত চরশালেহপুর এলাকার ছোরমান খাঁর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক রিপন হোসেন, মোজাম্মেল হক, মো. রফিকুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক গাজী সোহেল এবং কনস্টেবল উজ্জল হোসেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরশালেহপুর এলাকার বাসিন্দা এবং চরহরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির খাঁর বিরুদ্ধে থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে আটক করতে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ পোশাকে এলাকায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে বাজার এলাকা থেকে কবির খাঁকে আটক করা হলে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কবির খাঁকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, আহত চার পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আরেকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লাবলু দাবি করেন, কয়েকজন ব্যক্তি লুঙ্গি ও ট্রাউজার পরে এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন এবং কবির খাঁকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে চান। এ সময় উপস্থিত স্বজনরা বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়া ফেরত দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার (ওসির দায়িত্বপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রফিকুজ্জামান বলেন, কবির খাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে তার লোকজন হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান।

তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি চরাঞ্চলে প্রভাবশালী হওয়ায় তাকে ধরতে ছদ্মবেশে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ পোশাকে গেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারতেন।

এদিকে, সম্প্রতি কবির খাঁর বিরুদ্ধে চরাঞ্চলের শতাধিক মানুষের ভুট্টাখেত ও জমি দখলের অভিযোগ তুলে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে ‘গুলির মতো’ আঘাত, ভাঙল কাঁচ—চরম আতঙ্ক

ফরিদপুরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষকদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসে ‘শর্টগানের গুলির মতো’ আঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ ভেঙে যায় এবং কাঁচের টুকরো ভেতরে থাকা শিক্ষকদের ওপর ছিটকে পড়ে। যদিও কেউ গুরুতর আহত হননি, তবে আকস্মিক এই ঘটনায় শিক্ষকরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর শহরের চাঁনমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মাইক্রোবাসটিতে রাজেন্দ্র কলেজের একাধিক শিক্ষক শহর ক্যাম্পাস থেকে বায়তুল আমান ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, চাঁনমারি ঈদগাঁ মোড় অতিক্রম করার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই মাইক্রোবাসটির পেছনের কাঁচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। পরে কাঁচে গুলির মতো একটি চিহ্ন দেখা যায়, যা দেখে তারা ধারণা করছেন এটি কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি হতে পারে।

মাইক্রোবাসে থাকা এক শিক্ষক বলেন, “ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাঁচ ভেঙে ভেতরে পড়ে। আমরা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। প্রথমে মনে হয়েছিল বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

আরেকজন শিক্ষক জানান, “আমরা নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করি। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। এটি পরিকল্পিত নাকি আকস্মিক—তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

এ বিষয়ে রাজেন্দ্র কলেজ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক মো. শাহিনুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জরুরি বৈঠক ডেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।”

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস.এম. আব্দুল হালিম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে শর্টগানের গুলির মতো মনে হচ্ছে। তবে নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এদিকে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানান, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

দেলোয়ার হোসেন বাদল
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: বাড়তি চাপে মধ্য-নিম্নবিত্ত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণার পরপরই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনজীবনে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর একদিন পরেই আবার গ্যাসের দাম বাড়ানোয় নতুন করে চাপে পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।

অন্যদিকে পরিবহন খাতের চালকরা বলছেন, খরচ সামলাতে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয়ের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপের কারণে সরকার তেলের দাম সমন্বয় করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তাছাড়া জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির চাপ বাড়ছিল।

সেই চাপ সামাল দিতে মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কথা হয় নানা পেশার মানুষের সঙ্গে।

তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই প্রথমে বাড়ে পরিবহন ভাড়া, এরপর ধাপে ধাপে বাড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। কিন্তু সেই তুলনায় আয় বাড়ে না।
রাজধানীর দোলাইপাড় এলাকার স্থানীয় মোটর পার্টস বিক্রেতা রুবেল বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির খবর আসতেই নিত্যপণ্যের দামসহ নানা রকম জিনিসের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ইচ্ছে করলেই আমরা আমাদের পণ্যের দাম বা কাজের মূল্য হঠাৎ করে বাড়াতে পারি না। ফলে আমাদের মতো মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে।

ওয়ারী এলাকার এক শিক্ষার্থী বলেন, তেলের দাম যদি বাড়াতেই হতো তাহলে এখন কেন? এখন তো বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানো হয়েছে। আগে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে পর্যাপ্ত তেল বাজারে ছাড়লে সরকারের আয় হতো। হাজার হাজার মানুষকে দীর্ঘ লাইনে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেলের জন্য কষ্ট করতে হতো না। এটা জনগণের সঙ্গে মশকরা ছাড়া কিছু না।

মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের মতো চাকরিজীবীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিবার তেলের দাম বাড়লে অফিসে যাতায়াত খরচ বাড়ে, বাজার খরচ বাড়ে। কিন্তু বেতন তো বাড়ে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর জুরাইন আশ্রাফ মাস্টার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানা আক্তার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ার পরই আমরা চাপে ছিলাম। এখন আবার তেলের দাম বাড়ানোয় দৈনন্দিন খরচ কীভাবে সামলাবো, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

শ্যামপুর জুরাইন বাজারে সবজি কিনতে আসা গৃহিণী মুসফিকা সুলতানা বলেন, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়ে আর পরিবহন খরচ বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়ে। বাজারে এলেই এখন ভয় লাগে।

এদিকে কৃষি খাতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জের কৃষক মো. সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ খরচ বাড়ে, জমি চাষের খরচ বাড়ে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী ফসলের দাম পাই না।

অন্যদিকে পরিবহন চালকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তাদেরও খরচ বেড়ে যায়, ফলে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া উপায় থাকে না।

রাজধানীতে চলাচল করা রাইদা বাসের চালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তেলের দাম বাড়লে আমাদের দৈনিক খরচ অনেক বেড়ে যায়। মালিককে জমা দিতে হয় আগের মতোই। তাই ভাড়া না বাড়ালে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।

অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালক মো. সোহেল রানা বলেন, তেলের দাম বাড়লে আমাদের আয় কমে যায়। যাত্রীরা যদি ভাড়া বাড়াতে না চান, তাহলে আমরা কীভাবে গাড়ির খরচ চালাব?

একই ধরনের কথা বলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. হেলাল উদ্দিন। তার ভাষ্য, গ্যাস আর তেলের দাম বাড়লে আমাদের ওপর চাপ পড়ে। তখন যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া না নিলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি ধাপে ধাপে কৃষি, শিল্প ও নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর।

তারা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি গণপরিবহন ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি জোরদার এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানো জরুরি। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমতে পারে।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের মতে, মুক্তবাজার অর্থনীতির এই সময়ে সরকার এখনো নিজ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে দেশে সরবরাহ করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমেছে, ফলে দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশের সার কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ শিল্প খাতের উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এই বিশ্লেষক বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামাল দিতে সরকার উন্নয়ন সহযোগী ও বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ঋণ সহায়তা চেয়েছে। তবে দ্রুত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পথে হাঁটতে হয়েছে।

মোবাশ্বের হোসেন টুটুলের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় ও পণ্য পরিবহন খরচ বাড়বে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারে পণ্যের দামে। এতে নির্দিষ্ট আয়ের সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়লে মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমে যেতে পারে, যা ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট তৈরি করতে পারে। এতে বিনিয়োগের গতি কমে গিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশীয় উৎপাদনের প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতে পারলে তা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

মোবাশ্বের হোসেন টুটুল বলেন, স্বল্পমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলায় সরকার যদি কার্যকর অর্থনৈতিক নীতি সমন্বয় করতে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে এই মূল্য সমন্বয়ের ধাক্কা সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।