খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

আলোর দিশারী যুব সংঘের উদ্যোগে ফরিদপুরে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, উপকৃত শতাধিক মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
আলোর দিশারী যুব সংঘের উদ্যোগে ফরিদপুরে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, উপকৃত শতাধিক মানুষ

ফরিদপুর শহরের সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের জন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আলোর দিশারী যুব সংঘ। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে শতাধিক মানুষ চোখের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছেন।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) ফরিদপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বগঙ্গাবর্দী এলাকার গনীর মোড়ে অবস্থিত আলোর দিশারী যুব সংঘের অস্থায়ী কার্যালয়ে দিনব্যাপী এ ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকেই ক্যাম্পে রোগীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন, কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। আলোর দিশারী যুব সংঘের এই উদ্যোগ তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।

ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চোখে ঝাপসা দেখা, চোখে পানি পড়া, জ্বালাপোড়া, ছানি সংক্রান্ত সমস্যা ও অন্যান্য চক্ষু রোগ পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়। যেসব রোগীর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, বিনামূল্যে এমন সেবা তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এক বয়স্ক রোগী বলেন, “চোখে অনেকদিন ধরে সমস্যা ছিল। টাকা না থাকায় ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজ এখানে এসে ফ্রি চিকিৎসা পেলাম। আল্লাহ আলোর দিশারী যুব সংঘের সবাইকে ভালো রাখুক।”

এ বিষয়ে আলোর দিশারী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, “আলোর দিশারী যুব সংঘ সবসময় সমাজের কল্যাণ ও মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। প্রায় শতাধিক মানুষের মাঝে এ সেবা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মহলের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা সহায়তা ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।”

উল্লেখ্য, আলোর দিশারী যুব সংঘ দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর এলাকায় সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনটি নিয়মিত শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্য সচেতনতা কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে। স্থানীয়দের মতে, অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সমাজসেবামূলক কাজে মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

আলোর দিশারী যুব সংঘের এই ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সংগঠনটি আরও বৃহৎ পরিসরে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আয়োজিত এই ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প এলাকাবাসীর ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সমাজসেবায় তরুণদের এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।