খুঁজুন
, ,

ফিলিস্তিনে বয়ে যাক ন‍্যায়ের নতুন ভোর

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
ফিলিস্তিনে বয়ে যাক ন‍্যায়ের নতুন ভোর

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য এটি তৃতীয় রমজান। বিধ্বস্ত গাজা শহরের ধ্বংসস্তূপ আর ভেঙে পড়া ভবনের মাঝেও রাস্তায় টাঙানো ছোট ফানুস ও রঙিন বাতির মালা, যা তাদের ক্লান্ত  মনে একটুখানি স্বস্তি ও আশার আলো জ্বালিয়েছে। শিবিরের জরাজীর্ণ তাঁবুর ভেতর দেয়ালে ঝুলছে শিশুদের আঁকা কিছু ছবি।

ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম মাসকে স্বাগত জানাতে সীমিত সামর্থ্যেও ফিলিস্তিনিরা চেষ্টা করছে উৎসবের আবহ ফিরিয়ে আনতে। সীমিত সামর্থ্যে শিশুদের মুখে হাসিটাই বড় কথা। গত দুই বছরের শোক আর বিষণ্নতা থেকে একটু মুক্তি পেতেই এই আয়োজন। গাজায় অন্যবারের তুলনায় এবারের রমজান মাসের বৈশিষ্ট্য হল, এবার পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত।

যদিও এই শান্তি মোটেও নিষ্কণ্টক নয়। এখনও কয়েক দিন আগের ইসরায়েলি ড্রোনের গুলির চিহ্ন স্পষ্ট। তবে যুদ্ধের চরম পর্যায়ের তুলনায় তীব্রতা এখন কিছুটা কম। ঐতিহাসিক ওমারি মসজিদে কয়েক ডজন মুসল্লি প্রথম রমজানের ফজরের নামাজ আদায় করেন। শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে ভারী জ্যাকেট গায়ে দিয়েই তারা নামাজে শরিক হন। দখলদারিত্ব, মসজিদ-স্কুল ধ্বংস আর ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরেও আল্লাহর ইবাদতের জন্য তারা সমবেত হন। গত দুই বছরে ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকাটিতে ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

একটি নড়বড়ে ‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যে এবারের রমজান শুরু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত নয়। মাঝেমধ্যে গোলা বর্ষণ হচ্ছে। পবিত্র রমজানের প্রথম দিন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়েছেন । ভোর থেকেই পূর্ব খান ইউনিস এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান থেকে ভারী গুলিবর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে দক্ষিণ গাজার রাফাহর উত্তরে একটি এলাকায়ও গুলি চালানো হয়।

এ ছাড়া মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বাংশে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।এছাড়াও গাজা শহর ও উত্তরাঞ্চলেও ইসরাইলি যানবাহন থেকে পূর্ব বেইত লাহিয়ার দিকে গুলি ছোড়া হয়। দক্ষিণ-পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকার আল সিক্কা সড়কের আশপাশেও কামান থেকে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে তাঁবুর চারপাশের প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে দুঃখ ভাগাভাগি করেই তারা বেঁচে আছেন।

গাজাবাসীর মনে গত রমজানের দুঃসহ স্মৃতি আজও টাটকা। গত বছরের ১৯ মার্চ, অর্থাৎ রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সব সীমান্ত পথ। ফলে দেখা দিয়েছিল চরম মানবিক বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ আর যুদ্ধের সংমিশ্রণ। গত অক্টোবরে গাজায় নতুন করে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতি এখনো বজায় থাকলেও তা বেশ ভঙ্গুর। আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

বাজারে কিছু খাবার পাওয়া গেলেও দাম আকাশচুম্বী। অধিকাংশ মানুষের হাতে অর্থ নেই। ফলে তাঁরা ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। ত্রাণ হাতে পাওয়ার পর এ খুশির আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ক্ষত। গ্যাসের সিলিন্ডার তাদের কাছে ‘গুপ্তধন’। গাজায় রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট। দুই বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে লাকড়ির আগুনে রান্না করছেন তারা ।

অনেক কষ্টে জমানো কিছু টাকা দিয়ে রমজানের প্রথম দিন ইফতার কিনেছেন তারা। গাজাবাসীর কাছে এবারের রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, বরং টিকে থাকার এক কঠিন পরীক্ষা। গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আল-মাওয়াসি এলাকায় হাজার হাজার মানুষ এখনো ত্রিপল ও অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হতে সময় লাগছে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সহায়তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সীমিত পণ্য প্রবেশ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে অধিকাংশ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বাজারদর না কমায় জীবনযাত্রা এখনও অনিশ্চিত।

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও রমজান গাজাবাসীর জন্য হয়ে উঠেছে আশা, সংহতি ও অটুট বিশ্বাসের প্রতীক। গাজার প্রতিটি তাঁবুতে এখন একটাই প্রার্থনা, এই রমজান যেন সবার জন্য কল্যাণকর আর শান্তির হয়…সবাই যেন নিজ গৃহে ফিরতে পারেন,যেন শান্তি নিয়ে আসে, যেন আবার সেই দুর্ভিক্ষ ও যুদ্ধের কবলে পড়তে না হয়।

বিশ্বে  মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও সহমর্মিতার সুর বয়ে যাক এবং পৃথিবীতে শান্তি বর্ষিত হোক। ফিলিস্তিনিদের চোখের জল মুছে যাক, আর প্রতিটি হৃদয়ে আল্লাহর রহমতের আলো জ্বলে উঠুক। আমরা প্রার্থনা করি, তাদের কষ্টের দিন শেষ হোক, আর ভালোবাসা ও ন্যায়ের নতুন ভোর আসুক।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এজাজুল মিয়া (২০) ও স্বাধীন সরকার (২০) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

​সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত এজাজুল মিয়া ভাঙ্গা পৌরসভার হাজরাহাটি গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং স্বাধীন সরকার নগরকান্দা উপজেলার জিয়াকুলি গ্রামের শাহাদাৎ সরকারের ছেলে।

​আহতরা হলেন—নগরকান্দার জিয়াকুলি গ্রামের রহমান মাতুব্বরের ছেলে নাসিম মাতুব্বর (২০) এবং ভাঙ্গা পৌরসভার ভারইডাঙ্গা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে রাজন আলী (২১)। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার যুবক বিশ্বরোড গোলচত্বর এলাকায় ঘুরতে বের হন। পথিমধ্যে বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই মোটরসাইকেল চালক নিহত হন।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদ আহম্মেদ জানান, ভাঙ্গা গোলচত্বর এলাকায় দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শিক্ষায় শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষায় শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার পেলেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ‘শেরে বাংলা এ,কে ফজলুল হক স্মৃতি’ পুরস্কার পেলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দীর নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান। সম্প্রতি ‘স্বাধীনতা সংসদ’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও দক্ষ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এর আগেও বিভিন্ন পর্যায়ে সম্মাননা পেয়েছেন অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক মূল্যায়নে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। সালথা উপজেলায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা পর্যায়েও শ্রেষ্ঠ কলেজপ্রধানের স্বীকৃতি অর্জন করেন তিনি।

নবকাম পল্লী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে উৎসাহিত করা, ঝরে পড়া রোধ এবং প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন ওবায়দুর রহমান। তার নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশের উন্নয়নে নানা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অধ্যক্ষের এ পুরস্কার অর্জনের খবরে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, ‘যেকোনো স্বীকৃতি কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠা বাড়িয়ে দেয়। এ সম্মাননা আমার একার নয়; এটি নবকাম পল্লী কলেজ, সহকর্মী শিক্ষক এবং সালথাবাসীর ভালোবাসার ফসল।’

তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসার ও সমাজকল্যাণে ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চান। এ জন্য তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।

শীতের আগমনী

সোহানুর রহমান
প্রকাশিত: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
শীতের আগমনী

তাপমাত্রা আজ ২৯, আগামীকালও ২৯,আর কয়েকদিন পরেই তা নেমে আসবে ২৩-২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

ঊষালগ্নে আমাদের বিছানার দক্ষিণ পাশের জানলার থাই গ্লাসে শিমুল তুলার মতো স্বচ্ছ কুয়াশা জমবে,
সাথে বইবে উত্তরের ঝিরিঝিরি বাতাস।

​তোমার কপালের কালো টিপের দিব্যি—
তাতে আমি এতটুকু শিহরিত নই;
বরং আমি তো কল্পনায় বিভোর,
২৩-২৪ তাপমাত্রায় তোমার নিঃশ্বাসের হালকা উষ্ণ বাতাস আমার দাড়ির লোমকূপকে শিহরিত করবে!

​আমাদের বাসার ছাদে গাঁদা, চামেলি, চন্দ্রমল্লিকা ফুটবে,
অফিসের প্রান্তর ভরে উঠবে ক্যালেন্ডিলা, জারবেরা, কসমস আর অ্যাস্টার ফুলে।

​তোমার চোখের কাজলের দিব্যি—
তাতে আমার কোনো আগ্রহ নেই;
বরং আমি তো ভেবেই ব্যাকুল,
২০-২১ তাপমাত্রায় তোমার নিঃশ্বাসের কুয়াশার স্নিগ্ধতা আমার চোখের সুপারসিলিয়াকে ছুঁয়ে যাবে!

​ভেড়ামারা রেলস্টেশন, ফারাকপুর দক্ষিণ রেলগেটসহ অসংখ্য মোড়ে মোড়ে সরিষা বাটা, ধনিয়া পাতার ভর্তা আর চিতই পিঠার সাথে মিলবে গরম কালাই রুটি;

আর ভাপাপিঠা তো কমন!
​তোমার চুলের খোঁপার দিব্যি—
তাতে আমার সামান্য মনোযোগ নেই;
বরং আমি তো পরিকল্পনায় ব্যস্ত,
১৬-১৭ তাপমাত্রায় তোমার মুখের ভাপ ছড়িয়ে তুমি ড্রাগন হবে,
আর আমি হব মনস্টার!