খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

গানম্যান পায় কারা এবং কেন? আবেদন করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
গানম্যান পায় কারা এবং কেন? আবেদন করবেন যেভাবে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে একটি শব্দ— গানম্যান।

সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতা, আন্দোলনকর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। নির্বাচনের আগে এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আশঙ্কা ছিল। তার মধ্যে গানম্যান চাওয়া ও দেওয়ার খবর সেই উদ্বেগকে সামনে এনে দিয়েছে আরও স্পষ্টভাবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি নিজ নিজ নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন অনেকে। কেউ গানম্যান চেয়েছেন, কেউ আবার ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স।

এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের জন্য গানম্যান নিয়োগ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও কারা ঝুঁকিতে রয়েছেন, সেই বিষয়টি পুলিশের বিশেষ শাখা যাচাই করছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে গানম্যান নিয়োগ কিংবা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে কি না— সে প্রশ্নও উঠছে নানা মহলে।

অনেকে বলছেন, ব্যক্তি বিশেষকে গানম্যান দেওয়ার চেয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময় আপনি কয়জনকে নিরাপত্তা দেবেন? আমেরিকার মতো জায়গায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পর্যন্ত হিট করেছে। তার তো গানম্যান কম ছিল না।’

কীভাবে পাওয়া যায় গানম্যান

বাংলাদেশে গানম্যান বা বডিগার্ড পাওয়া কোনো ঢালাও অধিকার নয়। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের ওপর। সরকারের বিশেষ বিবেচনায় এটি অনুমোদিত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকে তার নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গানম্যান বরাদ্দ দিতে পারে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, গুরুতর হুমকি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে সরকার নিজ উদ্যোগেও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাধারণ নাগরিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি লিখিতভাবে পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন। আবেদন পাওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থা বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ যাচাই করে দেখে, আবেদনকারীর প্রকৃতপক্ষে নিরাপত্তা প্রয়োজন আছে কি না, নাকি এটি কেবল প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও কঠোর।

সাধারণত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রোটেকশন ইউনিট থেকে বডিগার্ড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বডিগার্ড সাধারণত প্রোটেকশন ইউনিট থেকে আসে, আর গানম্যান দেওয়া হয় বিশেষ শাখা থেকে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, সব যাচাই শেষে পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যকে গানম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যার জন্য নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তার মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘সরকার নিয়োগ দিলেও গানম্যান হিসেবে কাকে দেওয়া হবে—সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়। কারণ এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় থাকে।’

একজন গানম্যান সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক গুলি বরাদ্দ থাকে। গানম্যানের বেতন ও অন্যান্য খরচ বহন করে সরকার। তবে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গানম্যান পান

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি গানম্যান বা সশস্ত্র দেহরক্ষী পেয়ে থাকেন। এই তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা।

পুলিশের সাবেক প্রধান নুরুল হুদা বলেন, ব্যক্তি বিভিন্নভাবে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান বা বডিগার্ড দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তার ভাষায়, ‘নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার প্রকৃত ঝুঁকি যথার্থ হওয়া দরকার।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের কাছেও গানম্যান বা পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করা যায়।

তিনি বলেন, ‘কোনো নাগরিক যদি মনে করেন তার জীবন বিপন্ন, তবে তিনি গানম্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে কাকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে— সে সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’

ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় নিরাপত্তা

অনেকে নিজস্ব বেতনভুক্ত লোক দিয়েও গানম্যানের কাজ করান। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নিজের নামে অস্ত্রের লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা নিয়োগকর্তার অস্ত্রের লাইসেন্সে তাকে ‘রিটেইনার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সরকার অনুমোদিত বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি থেকেও নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে গানম্যান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আলাদা অনুমতি প্রয়োজন।

অতীতের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে অতীতেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশেষ বিবেচনায় গানম্যান নিয়োগের নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড ও হুমকির ঘটনায় সরকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। সে সময় ২৬২ বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যে এমনটাই জানা যায়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

 

 

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, আবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড

খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

শহর কিংবা গ্রামের ব্যস্ত মোড়ে গরম গরম সিঙাড়া, চপ, ঝালমুড়ি বা পরোটা খবরের কাগজে মুড়ে খাওয়ার দৃশ্য আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয় পক্ষই একে সস্তা ও সুবিধাজনক মনে করেন। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। খবরের কাগজে ব্যবহৃত কালির বিষাক্ত উপাদানগুলো কীভাবে নীরবে আপনার শরীরে প্রবেশ করছে, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজের সংস্পর্শে আসার মাত্রই তা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এই বিপদজনক প্রবণতা রুখতে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (FSSAI) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ল এখন সোচ্চার হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কঠোর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন কেবল অস্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খবরের কাগজে মুড়ে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত কালি

খবরের কাগজে মুদ্রণের জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে একাধিক বায়ো-অ্যাকটিভ (bioactive) উপাদান থাকে। যখন গরম বা তৈলাক্ত খাবার এই কাগজের সংস্পর্শে আসে, তখন কাগজের কালি খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এমনকি খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজে রাখার ফলে তা শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

২. রাসায়নিক ও রঞ্জক পদার্থের প্রভাব

মুদ্রণের কালিতে ক্ষতিকারক রং, পিগমেন্ট (pigments), বাইন্ডার এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া রিসাইকেল করা কাগজ বা কার্ডবোর্ড বক্সের ক্ষেত্রে ‘থ্যালেট’ (phthalate)-এর মতো রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা তীব্র বিষক্রিয়া এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩. জীবাণুর সংক্রমণ ব্যবহৃত

খবরের কাগজ বিভিন্ন হাত ঘুরে আসে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতে পারে। ফলে এতে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু বা প্যাথোজেনিক মাইক্রো-অর্গানিজম থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. ক্যানসারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, খবরের কাগজে রাখা খাবার দীর্ঘকাল খাওয়ার ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং FSSAI সাধারণ মানুষকে খবরের কাগজে মোড়ানো বা ঢাকা দেওয়া খাবার বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিক্রেতাদের এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের স্বার্থে খাবার পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফুড-গ্রেড কাগজ বা কলাপাতার মতো প্রাকৃতিক বিকল্প ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় কাগজের বদলে স্বাস্থ্যসম্মত মাধ্যম বেছে নিন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি