খুঁজুন
, ,

গানম্যান পায় কারা এবং কেন? আবেদন করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
গানম্যান পায় কারা এবং কেন? আবেদন করবেন যেভাবে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে একটি শব্দ— গানম্যান।

সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক নেতা, আন্দোলনকর্মী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। নির্বাচনের আগে এমনিতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নানা আশঙ্কা ছিল। তার মধ্যে গানম্যান চাওয়া ও দেওয়ার খবর সেই উদ্বেগকে সামনে এনে দিয়েছে আরও স্পষ্টভাবে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি নিজ নিজ নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন অনেকে। কেউ গানম্যান চেয়েছেন, কেউ আবার ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স।

এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের জন্য গানম্যান নিয়োগ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আরও কারা ঝুঁকিতে রয়েছেন, সেই বিষয়টি পুলিশের বিশেষ শাখা যাচাই করছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে গানম্যান নিয়োগ কিংবা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে কি না— সে প্রশ্নও উঠছে নানা মহলে।

অনেকে বলছেন, ব্যক্তি বিশেষকে গানম্যান দেওয়ার চেয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণার সময় আপনি কয়জনকে নিরাপত্তা দেবেন? আমেরিকার মতো জায়গায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পর্যন্ত হিট করেছে। তার তো গানম্যান কম ছিল না।’

কীভাবে পাওয়া যায় গানম্যান

বাংলাদেশে গানম্যান বা বডিগার্ড পাওয়া কোনো ঢালাও অধিকার নয়। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের ওপর। সরকারের বিশেষ বিবেচনায় এটি অনুমোদিত হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকে তার নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় গানম্যান বরাদ্দ দিতে পারে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, গুরুতর হুমকি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে সরকার নিজ উদ্যোগেও নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সাধারণ নাগরিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি লিখিতভাবে পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন। আবেদন পাওয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থা বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ যাচাই করে দেখে, আবেদনকারীর প্রকৃতপক্ষে নিরাপত্তা প্রয়োজন আছে কি না, নাকি এটি কেবল প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও কঠোর।

সাধারণত মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রোটেকশন ইউনিট থেকে বডিগার্ড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বডিগার্ড সাধারণত প্রোটেকশন ইউনিট থেকে আসে, আর গানম্যান দেওয়া হয় বিশেষ শাখা থেকে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, সব যাচাই শেষে পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যকে গানম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে যার জন্য নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তার মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘সরকার নিয়োগ দিলেও গানম্যান হিসেবে কাকে দেওয়া হবে—সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়। কারণ এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের বিষয় থাকে।’

একজন গানম্যান সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক গুলি বরাদ্দ থাকে। গানম্যানের বেতন ও অন্যান্য খরচ বহন করে সরকার। তবে প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

কারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গানম্যান পান

রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি গানম্যান বা সশস্ত্র দেহরক্ষী পেয়ে থাকেন। এই তালিকায় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, সচিব ও সমপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানরা।

পুলিশের সাবেক প্রধান নুরুল হুদা বলেন, ব্যক্তি বিভিন্নভাবে পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাইতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান বা বডিগার্ড দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তার ভাষায়, ‘নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার প্রকৃত ঝুঁকি যথার্থ হওয়া দরকার।’

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের কাছেও গানম্যান বা পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করা যায়।

তিনি বলেন, ‘কোনো নাগরিক যদি মনে করেন তার জীবন বিপন্ন, তবে তিনি গানম্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে কাকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে— সে সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।’

ব্যক্তিগত ব্যবস্থায় নিরাপত্তা

অনেকে নিজস্ব বেতনভুক্ত লোক দিয়েও গানম্যানের কাজ করান। সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নিজের নামে অস্ত্রের লাইসেন্স থাকতে হবে অথবা নিয়োগকর্তার অস্ত্রের লাইসেন্সে তাকে ‘রিটেইনার’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সরকার অনুমোদিত বেসরকারি সিকিউরিটি কোম্পানি থেকেও নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে গানম্যান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আলাদা অনুমতি প্রয়োজন।

অতীতের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশে অতীতেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশেষ বিবেচনায় গানম্যান নিয়োগের নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে মুক্তমনা লেখক, প্রকাশক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড ও হুমকির ঘটনায় সরকার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। সে সময় ২৬২ বিশিষ্ট ব্যক্তির নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যে এমনটাই জানা যায়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

 

 

‘নারীরা পারে’—কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ দিল ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
‘নারীরা পারে’—কথায় নয়, কাজেই প্রমাণ দিল ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা

নারীর অধিকার, স্বাস্থ্য, আইনি সচেতনতা ও নেতৃত্ব বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে ফরিদপুরের নারী উন্নয়নভিত্তিক সামাজিক সংগঠন নন্দিতা সুরক্ষা। তবে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব শুধু এর কার্যক্রমে নয়, বরং নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোতেও। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী থেকে মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মীই নারী, যাদের অধিকাংশই তরুণ।

দেশে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান কাজ করলেও নন্দিতা সুরক্ষা দেখিয়ে দিয়েছে, নারীরা শুধু উন্নয়ন কার্যক্রমের উপকারভোগী নন; পরিকল্পনা, নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপেও তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, অনেকেই জানতে চান—‘আপনাদের প্রতিষ্ঠানে সব কর্মী নারী কেন? এটি কি পুরুষদের প্রতি বৈষম্য নয়?’ বাস্তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়।

তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে সমাজে বারবার শুনে এসেছি—নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারে না, সিদ্ধান্ত নিতে পারে না কিংবা বড় দায়িত্ব সামলাতে পারে না। এসব নেতিবাচক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি সম্পূর্ণ নারী-নেতৃত্বাধীন দল গড়ে তোলা, যেখানে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”

রেমি আরও জানান, সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে কখনোই নারী বা পুরুষ—কোনো লিঙ্গকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। যোগ্যতাই একমাত্র বিবেচ্য। উদাহরণ হিসেবে তিনি ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার নিয়োগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই পদে নারী ও পুরুষ উভয়েই আবেদন করেছিলেন। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এটি কাকতালীয় হলেও তাদের জন্য গর্বের বিষয়।

বর্তমানে নন্দিতা সুরক্ষার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন RWVL-B প্রকল্পের ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌসী, প্রজেক্ট অফিসার তানিয়া আক্তার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার মমতাজ আক্তারী, চরাঞ্চলের নারী নেত্রী ও ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মনোয়ারা বেগম (ফিল্ড অর্গানাইজার) এবং অফিস সহকারী নিপা বেগম। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংস্থার কার্যক্রম দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

বর্তমানে RWVL-B, SPACE ও Shuchona প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি নারীর অধিকার, আইনি সচেতনতা, স্বাস্থ্যসেবা, নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে।

এছাড়া নারীদের মধ্যে সার্ভিক্যাল ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, লিগ্যাল লিটারেসি (আইনি সচেতনতা) এবং নেতৃত্ব বিকাশমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের ১৮টি গ্রামের প্রায় ৬০০ নারীকে নিয়ে দুই মাস অন্তর (বাই-মান্থলি) সার্কেল মিটিং আয়োজনের মাধ্যমে তাদের অধিকার, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে।

সংস্থার সভাপতি ফাইজা ফারজানা নিত্য বলেন, “যে সমাজে এখনও নারীর সক্ষমতা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়, সেখানে নন্দিতা সুরক্ষা একটি বাস্তব উদাহরণ। নারীরা সুযোগ, আস্থা ও নেতৃত্বের পরিবেশ পেলে শুধু নিজেদের জীবনই বদলে দিতে পারেন না, বরং সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন, “নন্দিতা সুরক্ষার গল্প কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প নয়; এটি নারীর সম্ভাবনা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তনের এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।”

ফরিদপুরে নারী নেতৃত্বের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীদের জন্য সমান সুযোগ ও নেতৃত্বের ক্ষেত্র তৈরি হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামে গভীর রাতে গরু চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে গরুর ডাকেই। গোহালে ঢুকে শিকল কেটে গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও গরুর অস্বাভাবিক ডাক ও শব্দে মালিকের ঘুম ভেঙে যায়।

পরে পরিবারের সদস্যদের ধাওয়ায় চোর গরু রেখেই পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের লাভলু শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিসিটিভির ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বড় আকারের লোহার কাটার দিয়ে গোহালের শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর গোহালের দরজার ছিটকিনি খুলতে গিয়ে বিকট শব্দ হয়। এতে গরুগুলো আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে এবং জোরে ডাকতে থাকে। একপর্যায়ে গরুর ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির মালিকের। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে চোর গরু ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গরুর মালিক লাভলু হোসেন জানান, বাড়ি ও গোহালজুড়ে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। রাতের অন্ধকারে চোর তিনটি গরু চুরির উদ্দেশ্যে আসে। প্রথমে একটি সাদা রঙের ছোট বাছুরকে টেনে-হিঁচড়ে গোহাল থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাছুরটির চিৎকার ও অন্য গরুগুলোর ডাকাডাকিতে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। পরে সবাই ‘চোর-চোর’ বলে চিৎকার করলে চোরের দল বাছুরটি রেখেই পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফলে খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, রাতের টহল জোরদার এবং গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই গৃহপালিত পশুর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরছেন। স্থানীয়দের আশা, ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও সাপ্লায়ারকে ৪ পিস ইয়াবা সহ আটক করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত অনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ ও জরিমানা প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ও জরিমানা কৃত নুর ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শ্রীরামদিয়া গ্রামের
আলামীন মাতুব্বরের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও ইয়াবা সাপ্লায়ারকে আটক করা হয়।

তল্লাশীকালে তার কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ এর ৫ ধারা মোতাবেক তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা বড়ি জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।