খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

গণভোটে আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কি বদলে যাবে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম?

মুকিমুল আহসান
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১১ এএম
গণভোটে আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কি বদলে যাবে রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়ম?

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এইদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা যে গণভোটে ভোট দিবেন সেখানে সুনির্দিষ্ট করে খুব অল্প করে মাত্র চারটি বিষয় লেখা থাকবে। এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কী-না, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিবেন ভোটাররা।

গত বেশ কয়েকদিন ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সারাদেশে গণভোট নিয়ে প্রচারণা শুরু করে সরকার। প্রথমে সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র গণভোট নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রচারণা শুরু করে। পরে অবশ্য সেই অবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা শুরু করে।

কয়েকদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ নিয়ে রেডিও টেলিভিশনে প্রচারের জন্য একটি ভিডিও বার্তাও দেন।

যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে”।

সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট, দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথাও জানিয়েছে সরকার।

গণভোটের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও এর মধ্যে কোন কোনটিতে বিএনপি, কোনটিতে জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। প্রথমে প্রস্তাবনা ছিল যে যে সব প্রশ্নে যে রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে সেই দল ক্ষমতায় গেলে ওই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে না।

তবে, শেষ পর্যন্ত এই নিয়ে সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গণভোটের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদে এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি না জয় পায় তাহলে জুলাই সনদই কার্যকর হবে না।

গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিন বা নয় মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারে বাধ্য থাকবে। না করলে অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সংবিধান সংশোধনের বিল পাস বলে গণ্য করা হবে।

সরকার গণভোটের ব্যালটে যে চারটি বিষয় যুক্ত করেছে, তাতে ভোটারদের অনেকের পক্ষেই বোঝা সম্ভব নয় আসনে গণভোট ‘হ্যাঁ’ দিলে কি কি পরিবর্তন পাবেন আর না দিলে কোন কোন পরিবর্তন আসবে না।

তাই গণভোটে হ্যাঁ অথবা না জিতলে কি কি বিষয়ে পরিবর্তন আসবে কিংবা আসবে না, সেটি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

ভাষা, জাতি ও মৌলিক সংস্কার

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে বাংলা ছাড়া অন্য ভাষার স্বীকৃতি নেই। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অন্যসব মাতৃভাষাকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের নাগরিকরা এতদিন বাঙালি জাতি হিসেবে পরিচিত হলেও সংস্কারের পর পরিচয় হবে বাংলাদেশি।

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে, প্রয়োজন নেই গণভোটেরও। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- সংবিধান সংশোধনে সংসদের নিম্নকক্ষে দুই তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনা- ৮,৪৮, ৫৬ এবং ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনে গণভোট লাগবে।

বর্তমান সংবিধানে ৭ এর ক ও খ অনুযায়ী সংবিধান রহিত করলে, সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান ছিল, জুলাই সনদে সেটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্তমান সংবিধানের মূলনীতি। তবে গণভোটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের মূলনীতি হবে – সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতি।

বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। জুলাই সনদে সেই অনুচ্ছেদ যুক্ত হবে- সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।

সংবিধানে বর্তমানে ২২টি মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে- নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী: ক্ষমতা ও ভারসাম্য

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারি হয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরে। এর ফলে মৌলিক অধিকার স্থগিত হয়। সনদে নতুন যে প্রস্তাবনা আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে- জরুরি অবস্থা জারি করতে হলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। সেই সভায় বিরোধী দলীয় নেতা/উপনেতাও উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, জরুরি অবস্থার সময় সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকারসমূহ খর্ব করা যাবে না।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় সংসদ সদস্যদের ভোটে। এই ভোট দিতে হয় প্রকাশ্যে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গোপন ব্যালটে উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি তার নিজ ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্য নিয়োগ করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। যদিও এই প্রস্তাবে ভিন্নমত ছিল বিএনপির।

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে দুই তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন হয়। জুলাই সনদে সেখানে সংসদের উভয় কক্ষের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নিম্মকক্ষ ও উচ্চকক্ষ দুই কক্ষের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যাবে।

আগে সরকারের অনুমোদনে যে কোন অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার সম্মতি দিলে অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারবেন রাষ্ট্রপতি।

২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার শপথ নিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। বিদ্যমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ ছিল না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- এক ব্যক্তি এক জীবনে ১০ বছরের বেশি অর্থাৎ দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

অন্যদিকে, বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকতে পারেন। তবে জুলাই সনদে বাস্তবায়ন হলে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না প্রধানমন্ত্রী। যদিও এই বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমত জানিয়েছিল বিএনপিসহ পাঁচটি দল।

সংসদ, নির্বাচন ও সরকার ব্যবস্থা

বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নেই। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করার পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি দল, বিরোধীদল, দ্বিতীয় বিরোধীদলের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশের সংসদ এক কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও এবার জুলাই সনদে সেটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্য সংখ্যা হবে ১০০ জন। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারেই উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন করা হবে বলেও জুলাই সনদে বলা হয়েছে।

দেশের জাতীয় সংসদে বর্তমানে নারীদের সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। এটি বাড়ানোর কোন কথা বলা নেই বিদ্যমান সংবিধানে। সেটি ক্রমান্বয়ে ১০০তে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে জুলাই সনদে।

সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সরকারি দল থেকেই নির্বাচিত হয়ে থাকেন। গণভোটে সনদ কার্যকর হলে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন বিরোধী দল থেকে।

বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এমপিরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়। তবে, জুলাই সনদে বলা হয়েছে- বাজেট ও আস্থাবিল ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে।

এতদিন বিদেশের সঙ্গে সরকারের কোন চুক্তি করতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হতো না। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন চুক্তি করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে তা অনুমোদন করতে হবে।

সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে এতদিন নির্বাচন কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকলেও গণভোটে জুলাই সনদ পাশ হলে একক কর্তৃত্ব হারাবে ইসি। তখন ইসির সাথে বিশেষজ্ঞ কমিটিও এই দায়িত্ব পালন করবে।

এর আগে নানা নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি থাকলেও এর নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।

আইন ও বিচার ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন?

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রপতি যে কাউকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে পারেন। তবে, জুলাই সনদের এই অংশে বলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হবে আপিল বিভাগ থেকে।

আপিল বিভাগের বিচারক সংখ্যা সরকার নির্ধারণ করার কথা আছে বিদ্যমান সংবিধানে। তবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে প্রধান বিচারপতির চাহিদার ভিত্তিতে বিচারকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। আগে হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণেও থাকলেও জুলাই সনদে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেওয়া, প্রত্যেক বিভাগে হাইকোর্টের এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টে ন্যস্ত করার মতো বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে জুলাই সনদে।

এর আগে সংবিধানে থাকলেও কখনো ন্যায়পাল নিয়োগ হয়নি। জুলাই সনদে বলা হয়েছে- স্পিকারের সভাপতিত্বে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি এবং আপিল বিভাগের বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির মাধ্যমে ন্যায়পাল নিয়োগ হবে।

একইভাবে সরকারি কর্মকমিশন নিয়োগ, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ, দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ বিরোধী দলের সমন্বয়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে। যদিও এগুলো নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানিয়েছে বিএনপিসহ সাতটি দল।

সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা বিদ্যমান আইনে না থাকলেও জুলাই সনদে তা যুক্ত করা হয়েছে।

আইন সংশোধনে সংস্কার হবে ৩৭টি

৪৭টি সাংবিধানিক সংস্কারের বাইরে আর যে ৩৭টি সংস্কার প্রস্তাব আছে জুলাই সনদে সেগুলো সংশোধন করা যাবে ‘আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে।

আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণের অঙ্গীকার থাকছে জুলাই সনদে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমানা পুন:নির্ধারণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটালাইজ করা, আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয় রাখা হয়েছে ‘আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য।

এছাড়া জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।

অন্যদিকে, ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুইটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করার কথাও বলা হয়েছে জুলাই সনদে।

১২ই ফেব্রুয়ারির গণভোটের প্রশ্নের এসবের কিছুই উল্লেখ থাকবে না। সেখানে মাত্র ছোট ছোট চারটি পয়েন্টের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের কাছ থেকে হ্যাঁ অথবা না ভোট গ্রহণ করা হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।