খুঁজুন
সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯ চৈত্র, ১৪৩২

চিকিৎসক দেখিয়ে বেরোনোর পর এই ভুলটা কি আপনিও করেন?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:২৮ এএম
চিকিৎসক দেখিয়ে বেরোনোর পর এই ভুলটা কি আপনিও করেন?

শরীর ভালো থাকলে আমরা সবাই যেন একটু বেশিই সাহসী হই। হালকা জ্বর, কাশি, পেটের গোলমাল—এসবকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজে নিজেই সামলে নেওয়ার চেষ্টা করি। অনেকের কাছেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া মানে অযথা সময় নষ্ট, লম্বা সিরিয়াল, আর সঙ্গে হাজার একটা পরীক্ষা ও ওষুধের ঝামেলা। এই ভয়েই অনেক সময় ডাক্তারখানা এড়িয়ে চলেন অনেকে।

কিন্তু সমস্যা যখন গুরুতর হয়ে ওঠে, তখন আর উপায় থাকে না—চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতেই হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক যখন প্রেসক্রিপশন দেন, তখন আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। মনে হয়, এবার বুঝি সব ঠিক হয়ে যাবে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়েই আমরা এমন কিছু ভুল করি, যেগুলোর কারণে রোগ সারার বদলে আরও জটিল হয়ে ওঠে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর কোন কোন ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করে বসেন মানুষ—

১. ওষুধ কেনার সময় পুরো ডোজ না নেওয়া

সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন অনেকেই ওষুধ কেনার সময়। চিকিৎসক যদি ৩০ দিনের জন্য ওষুধ খেতে বলেন, তাহলে অনেকেই ১৫ দিনের ওষুধ কিনেই বাড়ি ফেরেন। ভাবেন, ‘দেখি আগে কেমন কাজ করে’। কিন্তু এতে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং রোগ পুরোপুরি সারে না।

২. নিজের মতো করে ওষুধ বা চিকিৎসা চালানো

অনেকেরই নিজের মতো করে চিকিৎসা করার প্রবণতা রয়েছে। চিকিৎসক যে ওষুধ বা পরীক্ষা পরামর্শ দিয়েছেন, তার বদলে আগের কোনো ওষুধ খাওয়া বা পরিচিত কারও পরামর্শে ওষুধ বদলে ফেলা—এসব অভ্যাস বিপদ ডেকে আনে। এতে রোগের জটিলতা আরও বেড়ে যেতে পারে।

৩. ওষুধ ঠিক সময়ে না খাওয়া

চিকিৎসকের দেওয়া সময় মেনে ওষুধ না খাওয়াও একটি সাধারণ কিন্তু গুরুতর ভুল। অনেকেই সময়ের ওষুধ সময়মতো খান না, কখনো ভুলে যান, কখনো আলসেমি করেন। অথচ নিয়ম না মেনে ওষুধ খেলে শারীরিক সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

৪. একটু ভালো লাগলেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া

পুরো ডোজ শেষ না করাটা একধরনের খারাপ অভ্যাস। অনেকেই সামান্য শরীর ভালো লাগলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ডোজ সম্পূর্ণ শেষ না হলে রোগ পুরোপুরি সারে না এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই দ্রুত সুস্থ হওয়ার একমাত্র পথ। সামান্য অবহেলা বা নিজের মতো সিদ্ধান্তই বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ফরিদপুরে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১২ এএম
ফরিদপুরে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সংগঠনের গঠনতন্ত্র, নীতিমালা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহেল মুন্সিকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সোহেল মুন্সির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জেলা ছাত্রদল কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।

ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন (অনু) ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েসের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত বহিষ্কারের দিন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বহিষ্কারের পর থেকে সোহেল মুন্সির কোনো বক্তব্য, কার্যক্রম কিংবা সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার সংক্রান্ত দায়ভার ফরিদপুর জেলা ছাত্রদল বহন করবে না। সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ছাত্রদল একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। এখানে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠন বড়। কেউ যদি সংগঠনের শৃঙ্খলা ও নীতিমালা অমান্য করে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় আমরা সবসময় আপসহীন। যারা সংগঠনের নিয়মনীতি মেনে চলবে না, তাদের জন্য ছাত্রদলে কোনো স্থান নেই।”

ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক শেখ এনামুল করিম (রেজা) স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঈদ ভ্রমণে যে সতর্কতা না মানলে আনন্দ হতে পারে বিঘ্নিত?

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ এএম
ঈদ ভ্রমণে যে সতর্কতা না মানলে আনন্দ হতে পারে বিঘ্নিত?

এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের প্রধান উৎসব আর আনন্দের দিন হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আর এ সময়টাতে নাড়ির টানে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য দলে দলে মানুষের গ্রামের পথে ছুটে চলার প্রবণতা চিরন্তন।

ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ, উল্লাস, ফূর্তি আর নতুন সাজে সজ্জিত হওয়া। আমাদের ঈদ-সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অন্যতম আকর্ষণ হলো ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে আবালবৃদ্ধবনিতা সবার জন্যই নতুন পোশাক, একটু ভালো খাবারদাবার আর আনন্দ বিনোদন।

ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি, বুকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, ফ্রেমে বন্দি অসংখ্য স্থিরচিত্র, বন্ধুবান্ধব আর আত্মীয়ের বাসায় বাসায় ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া, মজা করা মুসলিমদের জন্য এক মহা আনন্দের। আর এসব ঈদের সংস্কৃতির অংশ। তবে ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সতর্কতা নিয়ে সবাইকে হতে হবে সচেতন। ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকির খুঁটিনাটি জানা থাকলে ভ্রমণটি হতে পারে আরও আনন্দময়।

যাত্রাপথে যারা দূরদূরান্তে যান, তাদের রাস্তাঘাটে পোহাতে হয় হাজারো দুর্ভোগ আর বিড়ম্বনা। তারপরও বাসায় ফেরার আনন্দে মন থাকে মাতোয়ারা। তাই কষ্টগুলো আর বড় হয়ে ওঠে না। এ সময়টাতে অনেককেই ভ্রমণ করতে হয় বাস, ট্রেন অথবা লঞ্চে। রাস্তায় যানজট, ফেরি স্বল্পতা ও পারাপারের সংকট, লঞ্চ-স্টিমারে গাদাগাদি-ঠাসাঠাসি। প্রচণ্ড ভিড় আর ঠেলাঠেলি করে ক্লান্তিকর ও দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বাড়ি পৌঁছাতে হয়, আবার ছুটি শেষে কাজে যোগদান করতে হয়। সবাই চায় নির্বিঘ্নে আর নিরাপদে ঘরে ফিরতে। তবে যাওয়া আসার ঝক্কিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে লম্বা যাত্রাপথের ধকল সহ্য করা খুব কঠিন হয় বৈকি। এ সময় আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শরীর খারাপ হতেই পারে। তাই যাত্রাপথে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় ঈদের আনন্দ আগেভাগেই মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই ঈদ ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়াটা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।

পরিকল্পনা : যাত্রা শুরুর আগে সুন্দরভাবে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে রওনা হবেন। একটু সতর্ক হলেই প্রতিরোধযোগ্য অসুখ-বিসুখ সহজে এড়ানো সম্ভব। শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লাগেজ গোছানো : গোছগাছের ব্যাপারটির সঙ্গে কোথায় যাওয়া হচ্ছে এবং কতদিন থাকতে হবে তা জড়িত। অবশ্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ এমনকি ছোট বাচ্চা বা বয়স্কদের জন্য যা যা দরকার, তা সঙ্গে রাখা উচিত। যতটা সম্ভব অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দেওয়া ভালো।

রোজা অবস্থায় ভ্রমণ : রোজা রেখে রওনা হলে নিজের ঘরের তৈরি প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় সঙ্গে রাখুন, যেন ইফতারের সময় বাইরের খাবার খেতে না হয়। বর্তমানে প্রচণ্ড গরম, তাই বেশি বেশি বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

পরিধেয় পোশাক : ভ্রমণে যত হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরা যায়, ততই সুবিধা, কারণ বাইরে প্রচণ্ড গরম। ছেলেরা টি-শার্ট পরতে পারেন। তবে নিজের আরামদায়ক হয়, এমন যে কোনো পোশাকই পরতে পারেন। বেশি টাইট জামাকাপড় পরিহার করা উচিত।

যাত্রাপথে পরনের জুতা : জুতার ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখুন। বিশেষ করে, নারীরা ভ্রমণের সময় হাইহিল জুতা এড়িয়ে চলুন। ভ্রমণক্ষেত্রে কমফোর্টেবল জুতা বা স্যান্ডেল হাঁটার জন্য আরামদায়ক।

যানবাহনে সতর্কতা : জানালা দিয়ে মাথা বা হাত বের করে রাখবেন না। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন। বাস বা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা খুবই বিপজ্জনক, তাই ছাদে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।

ফাস্টএইড বক্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ : ভ্রমণের প্যাকিং করার আগে অবশ্যই ফাস্টএইড বক্স নিয়ে নিন। ভ্রমণকালে যে কোনো সময় ছোটখাটো অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনার কাটা-ছেঁড়ায় প্রাথমিক সহায়তা হবে। বিশেষ করে যারা পাহাড়-পর্বত বা ট্র্যাকিং ট্রিপ দিতে পছন্দ করেন, তাদের ক্ষেত্রে অধিক কাজে দেবে। কারণ ট্র্যাকিং করার সময় কাটা-ছেঁড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ফাস্টএইড বক্সের সঙ্গে নিয়ে নিন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। জ্বর-ঠান্ডা, মাথাব্যথা ইত্যাদি সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। এছাড়া বমি, পেট খারাপের ওষুধ এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে অ্যান্টিবায়োটিক সঙ্গে রাখা জরুরি।

যারা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন : যারা বিভিন্ন রোগে ভোগেন, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, বাতরোগ, অ্যাজমা বা অ্যালার্জি, তারা অবশ্যই ঈদ ভ্রমণে প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সঙ্গে রাখুন ইনহেলার। ডায়াবেটিস রোগীরা ইনসুলিন বা ট্যাবলেট সঙ্গে রাখবেন এবং লজেন্স, সুগার কিউব সঙ্গে নেবেন। প্লেনে ভ্রমণ করলে ঘন ঘন পা ম্যাসাজ করতে হবে, না হলে পায়ে রক্ত জমাট বেঁধে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস হতে পারে। তারা পায়ে রক্তজমা প্রতিরোধকারী মোজা পরতে পারেন। যাদের ওজন বেশি তারাও এটা পরতে পারেন।

খাবার নিয়ে সতর্কতা : ভ্রমণে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজের ঘরের তৈরি খাবার এবং প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানি সঙ্গে রাখবেন। বাইরের খাবা, শরবত বা পানীয় পরিহার করবেন। অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় পান করবেন না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং বাচ্চাদেরও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাবেন। ভ্রমণে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে।

ভ্রমণের পূর্বে পর্যাপ্ত ঘুম : ভ্রমণের সময় দীর্ঘ দূরত্ব না থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই যানজটের জন্য দীর্ঘক্ষণ রাস্তাতেই কেটে যায়। এমতাবস্থায় শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তির জোগানের জন্য ভ্রমণের আগে পর্যাপ্ত ঘুম দরকার। এছাড়াও ট্রেনে মোশন সিকনেস থেকে রক্ষা পেতে যানবাহন চলাকালে কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রাখা অথবা সম্ভব হলে ঘুমিয়ে নেওয়া ভালো।

গর্ভবতী নারীদের ভ্রমণ : ভ্রমণের সময়ে গর্ভবতী নারীদের রোজা না রাখাই ভালো। কারণ এ সময়ে ঘন ঘন পানি না খেলে শরীরে পানির অভাব দেখা দিতে পারে। বাইরের খাবার একেবারেই খাওয়া উচিত নয় গর্ভবতী নারীদের। বাসা থেকেই শুকনো খাবার নিয়ে আসা উচিত সঙ্গে করে। বাসের একদম পেছনের দিকের সিট কিংবা ট্রেনের একেবারে পেছনের দিকের বগিতে অনেক বেশি ঝাঁকি অনুভূত হয়। তাই গর্ভবতী নারীদের উচিত টিকিট করার সময়ে নিজের অসুবিধার কথা জানিয়ে সামনের দিকের সিট নির্বাচন করা। গর্ভাবস্থায় অনেকক্ষণ এক স্থানে বসে থাকতে থাকতে পায়ে পানি এসে পা ফুলে যেতে পারে। এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ একস্থানে বসে থাকলে রক্তচলাচল কমে যায়। তাই সম্ভব হলে যাত্রাবিরতিতে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করে নিন। এতে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

শিশুদের নিয়ে বাড়তি সতর্কতা : ট্রেনে, বাসে কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময়ে শিশুরা সব সময়েই জানালার ধারের সিটটি পছন্দ করে। এ কারণে হঠাৎ করে অতিরিক্ত বাতাসের মুখোমুখি হয়। ফলে শিশুরা অনেকে ঠিক ভ্রমণের পর পরই আক্রান্ত হয় সর্দি-জ্বর কিংবা সাধারণ কাশিতে। এছাড়াও বাইরের পানীয় এবং খাবার খেয়ে বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই তারা যাতে যাত্রাপথে বাইরের খাবার না খায়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন। একেবারে ছোট দুগ্ধপোষ্য শিশু নিয়ে ভ্রমণ না করাই উচিত। প্রয়োজনে বের হতে হলে তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে হবে। চলার পথে শিশুকে অবশ্যই ধরে রাখবেন, ট্রেন, বাস বা লঞ্চ থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। খেয়াল রাখবেন কোনো বাচ্চা যেন জানালা দিয়ে হাত বাইরে না রাখে। এ বিষয়ে সতর্ক হোন।

বয়স্কদের সতর্কতা : দীর্ঘ ভ্রমণ বয়স্কদের জন্য বেশি কষ্টসাধ্য। বিভিন্ন রোগসহ অনেকেই বাতজ্বর বা আরথ্রাইটিসে ভোগেন। তাদের জন্য বাসে বা ট্রেনে ওঠাও সহজ নয়, সে সময় তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। যাত্রাপথে যেন তারা একই ভঙ্গিতে বেশিক্ষণ বসে না থাকে এবং মাঝেমধ্যে যানবাহনের মধ্যেই যেন কিছুক্ষণ চলাফেরা করেন, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। তা না হলে বাতের ব্যথা বাড়তে পারে, এমনকি পায়ে পানি জমে পা ফুলেও যেতে পারে।

অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান : যাত্রাপথে মলম পার্টি ও ছিনতাইকারীদের আনাগোনা বেশি থাকে তাই সতর্ক থাকুন। যানবাহনে অপরিচিত কেউ খাদ্য বা পানীয় দিলে খাবেন না। কারণ প্রায়ই শোনা যায়, এ ধরনের খাবার খেয়ে অনেকেই বড় দুর্ঘটনায় পড়েছেন। কাজেই এই বিপদ এড়াতে সচেতন থাকবেন।

জরুরি প্রয়োজনে : পরিচিত ডাক্তার এবং পুলিশের ফোন নাম্বার সঙ্গে রাখুন। অসুস্থ বা কোনো বিপদে পড়লে যেন সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ ও বিপদের সময় পুলিশের সাহায্য নিতে পারেন। পুলিশের সাহায্য নিতে যেকোন জায়গা থেকে ৯৯৯-এ ফোন করবেন।

বাড়তি সতর্কতা : ঈদে ঘরমুখো মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য খুবই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে চড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সফর করেন, এতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদের শিকার হন। অন্য সময়ের চেয়ে ঈদের সময় সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বাড়ে। এ জন্য সফরে সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে, কোনোভাবেই অসতর্কভাবে চলাফেরা করা যাবে না। যে কদিন গ্রামে থাকবেন, অযথা অপ্রয়োজনে রোদে এবং অন্য কোথাও বেশি ঘোরাফেরা করবেন না। এ সময় সাপে কামড়ের রোগীরও প্রচুর খবর পাওয়া যায়। বাচ্চাদের দিকে বেশি নজর রাখবেন যেন পুকুর, নদী বা জলাশয়ের পানিতে বাচ্চারা একা একা না নামে।

সবার ভ্রমণ সুন্দর ও নিরাপদ হোক। সর্বোপরি ঈদের ছুটিতে ভ্রমণের প্রস্তুতি, সতর্কতা ও নিরাপত্তা অব্যাহত থাকলে সুন্দর স্মরণীয় এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতার আশা করা যায়।

লেখক: ইমেরিটাস অধ্যাপক

সারা দেশের পেট্রোল পাম্প যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে!

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ এএম
সারা দেশের পেট্রোল পাম্প যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে!

যেকোনো সময় দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। লাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এ শঙ্কা জানিয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) রাতে জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ উল্লেখ করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। কারণ কোম্পানি থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় বিরামহীন দায়িত্ব পালনের অভ্যাস না থাকায় শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়ছেন পাম্পে কর্মরতরা। সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে যেকোনো সময় সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সংগঠনটির দাবি, ঈদের আগের দিন একটি জেলা শহরের একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। তাদের আরেকটি পাম্পে ছিল প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি। স্বাভাবিক হিসাবে এই মজুত কয়েকদিন বিক্রি করার কথা থাকলেও হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়।

এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে মব সৃষ্টি করে পেট্রোল পাম্প খুলিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহ চলাকালীন লাঠিসোঁটা নিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা সব পেট্রোল পাম্প মালিকদের ভাগ্যেই ঘটতে চলেছে। এখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই।

সংগঠনটির দাবি, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতির সঙ্গে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পেট্রোল পাম্পের নিরাপত্তাবিষয়ক ইস্যুগুলো আরও বেশি সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে; ট্যাংকারগুলো পথে লুট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থায় দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে শঙ্কা প্রকাশ করে সংগঠনটি।

সূত্র : কালবেলা