খুঁজুন
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২

নিঃশব্দে থাইরয়েড ক্যানসার বাড়ছে না তো? জেনে নিন ৫ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
নিঃশব্দে থাইরয়েড ক্যানসার বাড়ছে না তো? জেনে নিন ৫ লক্ষণ

গলার ঠিক নিচে প্রজাপতির মতো দেখতে ছোট গ্রন্থিটিকে থাইরয়েড বলা হয়। শরীরের হার্ট রেট, রক্তচাপ, তাপমাত্রা থেকে শুরু করে মেটাবলিজম; সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে এই ক্ষুদ্র অঙ্গটি। কিন্তু এ গ্রন্থির কোষগুলো যখন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে, তখনই দেখা দেয় থাইরয়েড ক্যানসার।

সমস্যাটি হলো, এই ক্যানসারের লক্ষণগুলো এতটাই অস্পষ্ট আর সাধারণ অসুস্থতার মতো যে বহু মানুষ মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছরও টের পান না যে শরীরের ভেতরে একটি ‘নীরব শত্রু’ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের মাঝে লক্ষণ দেখা দেয়, তাদের ক্ষেত্রেও বেশিভাগ সময় এগুলোকে অ্যাসিডিটি, ভাইরাল সংক্রমণ, থাইরয়েড ইনফ্লামেশন বা সাধারণ গলার সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। ফলে রোগ নির্ণয় পেছায়, আর চিকিৎসাও দেরিতে শুরু হয়।থাইরয়েড ক্যানসার সার্জন ড. ন্যান্সি পেরিয়ের জানিয়েছেন, ঠিক এ কারণেই অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তাদের শরীরে থাইরয়েড ক্যানসার নিঃশব্দে বাড়ছে। তবে সময়মতো নজর দিলে রোগটি খুব সহজেই শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়।আজ দেখে নিন সেই ৫টি মূল লক্ষণ, যেগুলো দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

১) গলার সামনে গাঁট বা ফোলাভাব

থাইরয়েড ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণের একটি হলো গলার ঠিক সামনের দিকে একটি গাঁট বা অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেওয়া। এটি ব্যথাহীন হতে পারে, ফলে অনেকে সর্দিজনিত লিম্ফ নোড ভেবে ভুল করেন। গাঁটটি শক্ত, স্থায়ী এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হলে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

২) গলায় বা কানের দিকে ব্যথা

গলার সামনে ধরা ধরা ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি, যা কখনো কানের দিক পর্যন্ত টেনে যায়। এটিও থাইরয়েড ক্যানসারের একটি সূক্ষ্ম লক্ষণ। পেশিতে টান লাগার মতো অস্থায়ী ব্যথার সঙ্গে এটি মিলবে না, বরং থাকবে দীর্ঘসময় ধরে।

৩) স্বরভঙ্গ বা কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়া

থাইরয়েড গ্রন্থি স্বরযন্ত্রের খুব কাছেই থাকে। ফলে কোনো টিউমার তৈরি হলে তা স্নায়ুর ওপর চাপ ফেলতে পারে এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। তাই সাধারণ ঠান্ডা বা চিৎকার ছাড়া টানা তিন সপ্তাহের বেশি স্বরভঙ্গ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

৪) গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা

খাবার গিলতে বারবার কষ্ট হওয়া, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি বা শ্বাস নিতে হালকা সমস্যা; সবই হতে পারে থাইরয়েড টিউমারের কারণে। টিউমার বড় হলে খাদ্যনালি বা শ্বাসনালির ওপর চাপ ফেলে এ ধরনের অসুবিধা তৈরি করে। অনেকে এটিকে অ্যাসিডিটি বা গলার প্রদাহ ভেবে বাদ দেন, যা ঝুঁকি আরও বাড়ায়।

৫) স্থায়ী শুকনো কাশি

কোনো সর্দি-কাশি বা অ্যালার্জি ছাড়াই টানা শুকনো কাশি থাকা থাইরয়েড ক্যানসারের আরেকটি লুকানো লক্ষণ। টিউমার শ্বাসনালির ওপর চাপ দিলে বা থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে এ কাশি সৃষ্টি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণগুলো যতই সূক্ষ্ম ও বিভ্রান্তিকর হোক, তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, সময়মতো পরীক্ষা করালে থাইরয়েড ক্যানসার খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, আর জীবনের ঝুঁকিও কমে যায় বহু গুণ।

সূত্র :  দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস

সপ্তাহে কত ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, জানাল গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সপ্তাহে কত ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়, জানাল গবেষণা

দ্রুতগামী এই যুগে আমরা প্রায় সবাইই ছুটে চলেছি ডেডলাইন, অফিসের চাপ, টার্গেট, মিটিং, অনলাইন-অফলাইন সমন্বয়। প্রতিদিন যেন আরও একটু বেশি কাজ করার তাড়া।

আজকের কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা যেন সবাই একটা অদৃশ্য দৌড়ে নেমেছি। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে নিয়ে রাতের ক্লান্ত শরীর বিছানায় পড়া পর্যন্ত সময় যেন থেমে থাকার অবকাশই নেই। অফিস, টার্গেট, ডেডলাইন, পরিবারের দায়িত্ব; সব মিলিয়ে দিন শেষে মনে হয় ২৪ ঘণ্টা যেন যথেষ্ট নয়।

অনেকে মনে করেন, বেশি কাজ মানেই বেশি সাফল্য। কিন্তু সত্যিকারে কি তা-ই? ব্যস্ততার এই দৌড়ে আমরা কি বুঝতে পারছি কতটা ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে আমাদের শরীর, বিশেষ করে মস্তিষ্ক?গবেষণা কিন্তু বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা শুধু ক্লান্তিই আনে না, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্য ও হৃদযন্ত্র; সবকিছুর ওপরই ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে।তাহলে দিনে ও সপ্তাহে সর্বাধিক কত ঘণ্টা কাজ করা উচিত? অতিরিক্ত কাজের চাপ মস্তিষ্কে কী প্রভাব ফেলে? বিজ্ঞান আমাদের কী সতর্ক করছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

১. কাজের আদর্শ সময়কাল

বিশ্বের বহু দেশে কর্মদিবসের আদর্শ সময় হিসেবে স্বীকৃত ৮ ঘণ্টা, যাকে বলা হয় Eight-Hour Day। এই ধারণার মূল এসেছে ১৮০০ সালের শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে, আর এখনো এটি শ্রম আইন ও কর্মীদের সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি।

প্রতিদিন কেন ৮ ঘণ্টা?

৮ ঘণ্টা কাজ + ৮ ঘণ্টা ব্যক্তিগত জীবন + ৮ ঘণ্টা ঘুম; এই ভারসাম্য মস্তিষ্ক ও শরীরকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণা বলছে, দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে উৎপাদনশীলতা দ্রুত কমে যায়। কারণ, মস্তিষ্কের ফোকাস ধরে রাখার ক্ষমতা নির্দিষ্ট সময়ের পর কমতে থাকে।

২. কত ঘণ্টার বেশি কাজ করলে মস্তিষ্কে খারাপ প্রভাব পড়ে?

গবেষণা দেখায়, দৈনিক সময়সীমা ৮ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেলে এবং বিশেষ করে সপ্তাহে ৫০-৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে শুরু করে।

ক. জ্ঞানীয় ক্ষমতা হ্রাস

লম্বা সময় কাজ করলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় Prefrontal Cortex—যা সিদ্ধান্ত, মনোযোগ ও সমস্যা সমাধানের জন্য দায়ী। ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, ভুল বাড়া ও চিন্তাভাবনায় ধীরগতি দেখা দেয়।

খ. মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি

অতিরিক্ত কাজ কর্টিসল হরমোন বাড়ায়, যা লিম্বিক সিস্টেমে ক্ষতি করতে পারে। কর্টিসল দীর্ঘসময় বেশি থাকলে উদ্বেগ, বার্নআউট ও বিষণ্নতা বাড়ে।

গ. স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি

WHO ও ILO-এর যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫% আর হৃদরোগের ঝুঁকি ১৭% বেড়ে যায়। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি চাপ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং হৃদযন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

ঘ. ঘুমের ব্যাঘাত

চাপ বাড়লে শরীর ও মস্তিষ্কের শিথিল হওয়ার সময় কমে যায়। ফলে অনিদ্রা, হালকা ঘুম ও ঘুমের মান কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৩. সপ্তাহিক আদর্শ কর্মঘণ্টা কত?

সমগ্র গবেষণা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজই আদর্শ। প্রতি ৪৫-৬০ মিনিট কাজের পর ৫-১০ মিনিট বিরতি নিলে ফোকাস ও উৎপাদনশীলতা বাড়ে। একটানা অনেক ঘণ্টা কাজের বদলে ছড়িয়ে কাজ করাই মস্তিষ্কের জন্য ভালো।

সংক্ষেপে

দিনে ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা- এই সীমা মেনে কাজ করলে আমরা থাকি কার্যকর, উৎপাদনশীল ও মানসিকভাবে সুস্থ। এর বেশি কাজ হয়তো সাময়িকভাবে ফল দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা শরীর থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক ও জীবনযাত্রার মান; সবকিছুর ওপরই খারাপ প্রভাব ফেলে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

ফ্যানের বাতাস নাকি এসির বাতাস, শরীরের জন্য কোনটি বেশি নিরাপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
ফ্যানের বাতাস নাকি এসির বাতাস, শরীরের জন্য কোনটি বেশি নিরাপদ?

গ্রীষ্ম এলেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে শুরু হয় ‘ফ্যান বনাম এসি’ লড়াই। মধ্যবিত্তের ঘরে ফ্যানই ভরসা, আর শহুরে জীবনে এসি যেন স্বস্তির আরেক নাম। প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরতে ঝরতে যখন ঘরে ফেরা, তখন এক ঝলক ঠাণ্ডা বাতাস যেন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। কিন্তু সেই স্বস্তির আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু প্রশ্ন, এই বাতাস কি শরীরের জন্য ভালো? ফ্যানের বাতাস কি বেশি স্বাস্থ্যকর, নাকি এসির ঠাণ্ডা হাওয়া শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?

আসলে বিষয়টি শুধু আরাম বা খরচের নয়, বরং সরাসরি জড়িত আমাদের শ্বাসযন্ত্র, ত্বক, এমনকি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে। বিশেষ করে শহরের বদ্ধ ঘর, ধুলাবালি, দূষণ আর অতিরিক্ত তাপমাত্রার এই সময়ে ফ্যান ও এসি ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি না জানলে ছোট সমস্যা থেকে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ফ্যানের বাতাস

ফ্যান মূলত ঘরের বাতাসকে ঘুরিয়ে দেয়, নতুন বাতাস তৈরি করে না। ফলে ঘরের ভেতরে যদি ধুলাবালি বা জীবাণু থাকে, তা আরও ছড়িয়ে পড়ে। সরাসরি শরীরে লাগলে অনেকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা বা পেশীতে টান ধরতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরমে (৩৫°C এর বেশি) ফ্যান অনেক সময় শরীরকে পর্যাপ্ত ঠাণ্ডা করতে পারে না। তবে সুবিধা হলো, ফ্যান বাতাস শুষ্ক করে না। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম এবং সর্দি-কাশিরও ঝুঁকি কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক বায়ু চলাচল থাকলে ফ্যান তুলনামূলক নিরাপদ।

এসির বাতাস

এসি ঘরের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়, যা তীব্র গরমে স্বস্তি দেয়। তবে, দীর্ঘ সময় এসিতে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, ঠাণ্ডা-গরমের হঠাৎ পরিবর্তনে সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে এবং ফিল্টার পরিষ্কার না করলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জমে শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের হাঁপানি বা অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে অপরিষ্কার এসি ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী

১. ঘরের বাতাসের মান (indoor air quality) ঠিক রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

২. এসি ব্যবহার করলে নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করতে হবে

৩. তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখা স্বাস্থ্যসম্মত

৪. ফ্যান ব্যবহার করলেও জানালা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা উচিত

কোনটি বেশি নিরাপদ?

সোজা কথায় কোনোটিই এককভাবে ‘বেশি নিরাপদ’ নয়, বরং ব্যবহার পদ্ধতিই নির্ধারণ করে নিরাপত্তা। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ফ্যানই ভালো। আর তীব্র গরমে এসি কার্যকর, তবে নিয়ম মেনে সেটি ব্যবহার করা জরুরি।

নিরাপদ ব্যবহারের কিছু টিপস

১. ফ্যান সরাসরি শরীরে না লাগিয়ে ঘুরিয়ে দিন

২. এসির ফিল্টার প্রতি ১৫-৩০ দিনে পরিষ্কার করুন

৩. এসি থেকে বের হয়ে সঙ্গে সঙ্গে গরমে না যান

৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

উপসংহার

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফ্যান এখনো সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ বিকল্প। তবে শহুরে তীব্র গরমে এসির প্রয়োজন অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মূল কথা একটাই, যন্ত্র নয়; সঠিক ব্যবহারই নিরাপত্তার চাবিকাঠি।

সূত্র : মায়ো ক্লিনিক, সিডিসি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মানুষ হিসেবে আপনি কেমন? বসার ভঙ্গিই বলে দিতে পারে উত্তর

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মানুষ হিসেবে আপনি কেমন? বসার ভঙ্গিই বলে দিতে পারে উত্তর

আধুনিক মনোবিজ্ঞানে (সাইকোলজি) শরীরের ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের অজান্তেই শরীর অনেক সংকেত দেয়, যা সরাসরি আমাদের মানসিক অবস্থা, আত্মবিশ্বাস, চিন্তার ধরন এমনকি জীবনদৃষ্টিকেও প্রতিফলিত করে। আর সেই বডি ল্যাঙ্গুয়েজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বসার ভঙ্গি।

অফিসে, বাসায়, আড্ডায় কিংবা অপেক্ষার সময়; আপনি কীভাবে বসেন, তা কেবল আরামের বিষয় নয়; বরং সেটি আপনার ভেতরের মানুষটিকেও প্রকাশ করে। অবচেতনভাবে নেওয়া এই ভঙ্গিগুলোই বলে দিতে পারে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী, কতটা চিন্তাশীল, কিংবা কতটা সংযত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভ  ও টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানুষের বসার ভঙ্গি থেকে তার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক—

১। ছবিতে ১নং বসার ভঙ্গি অনুযায়ী, যদি কেউ হাঁটু একসঙ্গে কিন্তু পায়ের দুই পাতায় দূরত্ব রেখে বসে, তবে সে ব্যক্তি চিন্তাহীন হয়ে থাকেন। আর এ কারণে কঠিন সময়েও তিনি স্বাভাবিক হয়েই তাকতে পারেন। পরিকল্পনাহীন জীবনযাপনে তারা অভ্যস্ত।

২। ছবিতে ২নং বসার ভঙ্গি অনুযায়ী, যদি কাউকে পায়ের উপর পা তুলে বসতে দেখেন, তবে তিনি বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী। হাসিখুশি হয়ে জীবন কাটানোতেই প্রাধান্য দেন তারা।

৩। ছবির ৩নং মানুষ অনুযায়ী, যারা হাঁটু ফাঁক করে পায়ের পাতা একসঙ্গে করে সোজা হয়ে বসেন তারা সহজে কাউকে বিশ্বাস করেন না। কথা বলতে পছন্দ করেন। সময়ের অপচয় করে এমন মানুষ তাদের অপছন্দ।

৪। ছবির ৪নং মানুষ অনুযায়ী, যারা হাঁটু এবং পায়ের পাতা একসঙ্গে করে সোজা হয়ে বসেন তারা নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। এরা বেশ ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের হয়ে থাকে।

৫। ছবির ৫নং মানুষ অনুযায়ী, যারা হাঁটু এবং পায়ের পাতা একসঙ্গে করে সোজা হয়ে একটু হেলিয়ে বসেন তারা জীবনের কাজে বেশি মনোযোগী। স্পষ্টভাষী হওয়ার পাশাপাশি এরাও বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকেন।

এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র গবেষণা ও প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে। তাই কোনো তথ্য বা অনুমান প্রয়োগ করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সঙ্গ পরামর্শ করুন।