খুঁজুন
, ,

গরুর মাংস কার জন্য কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
গরুর মাংস কার জন্য কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

অনেকেরই ধারণা গরুর মাংস মানেই স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকর। প্রচুর কোলেস্টেরল থাকায় অনেকেই এটি এড়িয়ে চলেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, গরুর মাংসের যেমন কিছু ক্ষতিকর দিক আছে, তেমনি এতে এমন কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে যা অন্য অনেক খাবার থেকে পাওয়া কঠিন। তাই এই মাংস আপনার জন্য আশীর্বাদ হবে না কি ভয়ের কারণ, তা নির্ভর করবে আপনি কতটা নিয়ম মেনে এবং কী পরিমাণে খাচ্ছেন তার ওপর।

পুষ্টিগুণে অনন্য গরুর মাংস আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন বি২, বি৩, বি৬, বি১২ এবং জিংক, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের মতো খনিজের বড় উৎস হলো গরুর মাংস।

এই উপাদানগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, পেশি, দাঁত ও হাড়ের গঠনে ভূমিকা রাখে, ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, রক্তস্বল্পতা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে। পাশাপাশি মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে শরীরে কর্মোদ্যম বজায় রাখে।

কার জন্য কতটা প্রোটিন?

একজনের প্রতিদিন কতটা প্রোটিন প্রয়োজন তা নির্ভর করে তার ওজনের ওপর। সাধারণত সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ গ্রাম প্রোটিন দরকার। যেমন: কারো ওজন ৫০ কেজি হলে তিনি দৈনিক ৫০ গ্রাম প্রোটিন খেতে পারেন।

বিশেষ ক্ষেত্রে: গর্ভবতী বা মাসিক চলাকালীন নারীদের জন্য এই চাহিদা দ্বিগুণ হতে পারে।

সতর্কতা: তবে যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে, তাদের প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ হতে হবে স্বাভাবিকের অর্ধেক (প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৫ গ্রাম)। ব্রিটেনের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্যমতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও দিনে ৭০ গ্রামের বেশি এবং সপ্তাহে ৫০০ গ্রামের বেশি প্রোটিন খাওয়া উচিত নয়।

কতটুকু খাওয়া নিরাপদ?

পুষ্টিবিদ তাসনিম হাসিনের মতে, সপ্তাহে দুই দিন এবং সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচ বেলা গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ। এই দুই দিনে মোট ১৫৪ গ্রাম মাংস খাওয়া যেতে পারে। সহজ হিসেবে, প্রতি বেলায় ঘরে রান্না করা মাঝারি আকারের ২ থেকে ৩ টুকরার (১৬-২৬ গ্রাম) বেশি মাংস খাওয়া উচিত নয়।

অসুস্থ রোগীদের জন্য পরামর্শ

ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। সাধারণত তারা সপ্তাহে এক-দুই বেলা চর্বি ছাড়া মাংস খেলে বড় ঝুঁকি থাকে না, তবে চিকিৎসক সম্পূর্ণ নিষেধ করলে তা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

রান্নায় সতর্কতা

ঝুঁকি কমানোর উপায় রান্নার কৌশলের ওপর মাংসের গুণাগুণ ও নিরাপত্তা অনেকটা নির্ভর করে:

চর্বি ছেঁটে ফেলা: রান্নার আগে মাংসের গায়ে লেগে থাকা দৃশ্যমান চর্বি কেটে বাদ দিলে কোলেস্টেরল অনেক কমে যায়।

ছোট টুকরো: মাংস যত ছোট টুকরো করে কাটা হবে, চর্বির পরিমাণ তত কমবে। কিমা বা বাটা মাংসে চর্বি সবচেয়ে কম থাকে।

সেদ্ধ করে পানি ফেলা: মাংস কিছুক্ষণ ফুটিয়ে উপরের তেলের স্তরসহ পানি ফেলে দিলে চর্বি অনেকাংশেই দূর হয়।

তেল ও মসলা নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত তেল-মসলায় কষিয়ে ভুনা না করে ঝোল রান্না করা ভালো এবং খাওয়ার সময় ঝোল এড়িয়ে চলা উচিত। ভিনেগার, লেবুর রস বা টক দই দিলেও চর্বি কমে।

সবজি মেশানো: মাংসের পরিমাণ কমাতে এর সাথে পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, লাউ বা ফুলকপি মিশিয়ে রান্না করা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

ঝলসানো মাংস: শিক কাবাব বা গ্রিল করে খেলে মাংসের অধিকাংশ চর্বি পুড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।

অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ঝুঁকি অতিরিক্ত গরুর মাংস রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করে। এর কোলেস্টেরল ধমনীতে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রেড মিট খেলে ক্যানসার, টাইপ-টু ডায়াবেটিস এবং আরথ্রাইটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

পরিশেষে, গরুর মাংস মানেই উচ্চ ক্যালোরি বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নয়। সঠিক পদ্ধতিতে রান্না এবং পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে এটি আপনার সুস্বাস্থ্যের সহায়ক হতে পারে। তাই মাংস খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে পরিমাণ নির্ধারণ করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক মেয়েশিশুকে (১৩) ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ইসমাইল মোল্লা (৫৬) নামে এক বৃদ্ধকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের একটি গ্রামে মুদি দোকানের পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শিশুটি। এ সময় ইসমাইল মোল্লা তাকে দোকানঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

​ঘটনার পর শিশুটি বাড়িতে ফিরে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে ওই বছরের ২১ ডিসেম্বর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ইসমাইল মোল্লাকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

​মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইরানুল ইসলাম ২০২৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় দেন।

​রায়ের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

জীবনসঙ্গী কেমন চান, জানালেন সাফা কবির

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
জীবনসঙ্গী কেমন চান, জানালেন সাফা কবির

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাফা কবির। তার সমসাময়িক অনেকেই বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন।সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়ও চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। তবে বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশা আর নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সাফা কবিরকে।এসব প্রশ্নে বিরক্ত এই অভিনেত্রীর মতে, বিয়ে করা কিংবা একা থাকার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত।
সম্প্রতি এক আড্ডায় নিজের জীবনযাপন, অভিনয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাফা কবির।

সেখানে উঠে আসে বিয়ে ও একক জীবন নিয়ে তার ভাবনার প্রসঙ্গও।
মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, তারকারাও সাধারণ মানুষের মতোই।

তাদেরও রয়েছে ব্যক্তিগত জীবন, নিজস্ব সময় ও নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। বিষয়টি সবার বোঝা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
বিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখে পড়লেও নিজের বর্তমান জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট সাফা কবির। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিজের জীবন নিয়ে আমি বেশ সন্তুষ্ট। সৃষ্টিকর্তার কৃপায় সুন্দর একটি জীবন কাটছে আমার।’

তবে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। শিক্ষিত, রসবোধসম্পন্ন ও ভালো মনের একজন মানুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে চান তিনি।

অভিনয়জীবন নিয়েও নিজের উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সাফা কবির। নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে কখনোই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারেন না বলে জানান তিনি। তার মতে, একজন শিল্পীর মধ্যে নিজের কাজ নিয়ে এমন অতৃপ্তি থাকা প্রয়োজন। কারণ, এই অতৃপ্তিই আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।

সব মিলিয়ে বিয়ে নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার চেয়ে নিজের ভালো থাকা, আত্মনির্ভরশীলতা ও ব্যক্তিগত পছন্দকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান সাফা কবির।

জটিল রোগে আক্রান্ত নগরকান্দার সাংবাদিক বোরহান আনিসের পাশে মুফতি রায়হান জামিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
জটিল রোগে আক্রান্ত নগরকান্দার সাংবাদিক বোরহান আনিসের পাশে মুফতি রায়হান জামিল

ফরিদপুরের নগরকান্দার সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক সমকাল ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি এবং নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বোরহান আনিস দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর উভয় কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়ায় নিয়মিত ডায়ালিসিসসহ ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন সংকটময় মুহূর্তে অসুস্থ সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুনামধন্য সমাজসেবক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতি রায়হান জামিল। বোরহান আনিসের অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি নগরকান্দায় তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। সেখানে অসুস্থ সাংবাদিকের খোঁজখবর নেন, তাঁকে সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন। পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় বাজারসদাই কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন।

এ সময় মুফতি রায়হান জামিল বলেন, “সাংবাদিক বোরহান আনিসের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে আমি তাঁর বাড়িতে ছুটে এসেছি। তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছি। সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। দুদিন আগে কিংবা পরে আমাদের সবাইকে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো।”

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন মুফতি রায়হান জামিল। তাঁর উদ্যোগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হয়। এসব ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। এ ছাড়া গভীর রাতে অসহায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে এক বস্তা চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও প্রশংসা পেয়েছে।