খুঁজুন
, ,

হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে ৬ করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে ৬ করণীয়

বর্ষার দিনে আবহাওয়া প্রায়ই আমাদের সাথে লুকোচুরি খেলে। সকালে রোদ দেখে বের হলেও হুট করে নামা বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটে। এভাবে বৃষ্টিতে ভেজার ফলে খুব সহজেই আমাদের শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

তাই হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে সুস্থ থাকতে যে ছয়টি কাজ করা জরুরি, তা নিচে দেওয়া হলো।

১. দ্রুত চুল ও শরীর শুকিয়ে নিন

বৃষ্টিতে ভেজার পর যদি সাথে সাথে কাপড় বদলানোর সুযোগ না থাকে, তবে দ্রুত মাথা ও চুল মুছে নিন। ভেজা কাপড় যতটা সম্ভব দ্রুত শুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন যাতে শরীরে ঠান্ডা বসে না যায়।

২. বাড়ি ফিরে দ্রুত ভেজা কাপড় ত্যাগ করুন

বাসায় ফেরার সাথে সাথেই শরীরের ভেজা কাপড়, মোজা এবং জুতো খুলে ফেলুন। বেশিক্ষণ ভেজা কাপড় পরে থাকলে সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে [২]। এছাড়া ভেজা কাপড় জীবাণুর বংশবিস্তারেও সহায়তা করে।

৩. কুসুম গরম পানিতে গোসল

বৃষ্টির পানিতে ধুলিকণা এবং নানা ধরণের ব্যাকটেরিয়া থাকে। তাই বাড়ি ফিরে দ্রুত পরিষ্কার পানিতে শরীর ও চুল ধুয়ে নিন। এ সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো, কারণ এটি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৪. পায়ের বিশেষ যত্ন

বৃষ্টির জমে থাকা ময়লা পানি দিয়ে হাঁটার ফলে পায়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা অ্যাথলেটস ফুট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সাবান দিয়ে পা খুব ভালো করে ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে স্ক্রাব বা লবণ ব্যবহার করে পা পরিষ্কার করতে পারেন।

৫. পা ভিজিয়ে রাখা ও পাউডার ব্যবহার

শরীরকে শিথিল করতে এবং উষ্ণতা পেতে কিছুক্ষণ কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এরপর পা খুব ভালো করে মুছে শুকনো করে নিন এবং আরামদায়ক অনুভূতির জন্য ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

৬. ভেষজ চা বা উষ্ণ পানীয় পান

বৃষ্টিতে ভেজার পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে এক কাপ আদা চা বা পুদিনা চা পান করুন। ভেষজ চায়ের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আপনাকে বিভিন্ন জীবাণুর হাত থেকে সুরক্ষা দেবে।

সতর্কতা

বৃষ্টির দিনে সুস্থ থাকতে নিয়মিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিন। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা সাথে রাখুন এবং খুব বেশি বৃষ্টি হলে কোনো নিরাপদ স্থানে অপেক্ষা করুন যাতে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা এড়ানো যায়।

তথ্যসূত্র: এবিপি লাইভ ও রাচাসিমা হাসপাতাল

ফরিদপুরে মশলা চাষে আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, কৃষকদের মাঝে গোলমরিচের চারা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মশলা চাষে আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ, কৃষকদের মাঝে গোলমরিচের চারা বিতরণ

দেশে মশলা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের লাভজনক চাষাবাদে উৎসাহিত করতে ফরিদপুরে কৃষকদের নিয়ে “মশলা জাতীয় ফসলের আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল” বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত জাত বারি গোলমরিচ-১ এর চারা বিতরণ করা হয়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় ফরিদপুরের বাহিরদিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মশলা গবেষণা উপ-কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বারির মহাপরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল কাদির। এ সময় তিনি উন্নত জাতের দারুচিনি চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

মশলা গবেষণা উপ-কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মো. আশিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সেলিম আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিএসও), ডাল গবেষণা কেন্দ্র, মাদারীপুর; মো. কামরুল ইসলাম, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, খুলনা; মো. মাহমুদুর রহমান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, ফরিদপুর এবং ড. এইচ এম খায়রুল বাসার, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা।

প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের মশলা জাতীয় ফসলের আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, উন্নত জাত নির্বাচন, মানসম্মত চারা উৎপাদন, সঠিক সময়ে রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও আগাছা নিয়ন্ত্রণ, রোগ-বালাই দমন এবং ফলন বৃদ্ধির কার্যকর কৌশল সম্পর্কে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই মশলা চাষের বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশে গোলমরিচ, দারুচিনি, আদা, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন মশলার চাহিদা প্রতিবছর বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত এবং বৈজ্ঞানিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে উৎপাদন বাড়বে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন। এজন্য মাঠ পর্যায়ে বারির উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাত সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে বারি উদ্ভাবিত বারি গোলমরিচ-১ এর চারা বিতরণ করা হয়। কৃষকরা এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও উন্নত জাতের চারা সরবরাহ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠে পৌঁছালে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকের আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

ফরিদপুরে পদ্মার গর্জনে মুখর মদনখালী স্লুইসগেট, নিরাপত্তাহীনতায় শঙ্কিত দর্শনার্থীরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পদ্মার গর্জনে মুখর মদনখালী স্লুইসগেট, নিরাপত্তাহীনতায় শঙ্কিত দর্শনার্থীরা

ফরিদপুর শহরের কোলাহল থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্ব। পদ্মা নদী থেকে কুমার নদের উৎসমুখে অবস্থিত মদনখালী স্লুইস গেট। একসময় এটি ছিল মূলত পানি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে ফরিদপুরবাসীর অন্যতম জনপ্রিয় অবকাশ ও বিনোদন কেন্দ্রে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পদ্মার উত্তাল ঢেউ, স্লুইস গেট খুলে দেওয়ার সময় প্রবল বেগে কুমার নদে পানি প্রবেশের গর্জন, নদীর শীতল বাতাস আর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রতিদিনই টেনে আনে শত শত দর্শনার্থী। আর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এখানে মানুষের ঢল নামে।

স্থানীয়দের ভাষায়, ফরিদপুরে পরিবার নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মতো উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে বিনোদনের জায়গা খুবই সীমিত। সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করছে মদনখালী স্লুইস গেট এলাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেলের পর থেকেই পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে মানুষ ভিড় করছেন এখানে। কেউ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ বসে গল্পে মেতে উঠেছেন। শিশুদের হাসি, তরুণদের আড্ডা আর নদীর পানির গর্জন মিলিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।

স্লুইস গেট দিয়ে পানি প্রবাহের দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। গেট খুলে দিলে পদ্মা নদীর পানি প্রবল স্রোতে কুমার নদে প্রবেশ করে। পানির সেই গর্জন আর সাদা ফেনার দৃশ্য মুহূর্তেই মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের। নদীতে ছোট ছোট নৌকার চলাচল এবং ভাসমান ভেলার দৃশ্য যেন গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা সৌন্দর্যকে নতুন করে ফিরিয়ে আনে।

এই দর্শনার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অস্থায়ী ব্যবসা। ঝালমুড়ি, বাদাম, চটপটি, আইসক্রিম, ভুট্টা, কোমল পানীয়সহ নানা ধরনের খাবারের দোকান বসে প্রতিদিন। ভাসমান নৌকাতেও বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। ফলে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকাও এখন এই পর্যটকসমাগমের ওপর নির্ভরশীল।

তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি চোখে পড়ে নানা অব্যবস্থাপনাও। এত মানুষের সমাগম হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা। নেই কোনো স্থায়ী বেঞ্চ। দর্শনার্থীদের বিশ্রাম নেওয়ার মতো কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুরো এলাকায় নেই পর্যাপ্ত ডাস্টবিন। ফলে বাদামের খোসা, ঝালমুড়ির প্যাকেট, প্লাস্টিক বোতল ও বিভিন্ন খাবারের উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র ফেলে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। এতে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনি নদীর পানিও দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো নিরাপত্তার অভাব। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে এই এলাকায় পানিতে ডুবে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরপরও এখানে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বসানো হয়নি। এমনকি স্লুইস গেটের দুই পাশের অনেক নিরাপত্তা রেলিং ভেঙে থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হয়নি। অসাবধানতাবশত যে কেউ নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।

ফরিদপুর শহরের সরকারি চাকরিজীবী আক্কাস মিয়া বলেন, “পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসার জন্য জায়গাটি খুবই সুন্দর। নদীর বাতাস আর পরিবেশ মনকে প্রশান্ত করে। তবে এখানে বসার ব্যবস্থা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।”

ভাসমান ঝালমুড়ি বিক্রেতা মাজেদ মোল্লা বলেন, “প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। ছুটির দিনে তো দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। এই জায়গার কারণে আমাদের মতো অনেকের সংসার চলছে।”

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা এনায়েত হোসেন বলেন, “ফরিদপুরে এমন খোলামেলা প্রাকৃতিক পরিবেশ খুব কম। সন্তানদের নিয়ে এখানে আসতে ভালো লাগে। কিন্তু নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।”

দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অন্তরা ইসলাম, যে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঘুরতে এসেছে, সে বলে, “নদীর পানি আর নৌকা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে আবার আসতে চাই।”

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, “ফরিদপুরে তেমন কোনো বিনোদনের জায়গা নেই। তাই সপ্তাহজুড়ে কর্মব্যস্ত মানুষ ছুটির দিনে এখানে এসে কিছুটা স্বস্তি খোঁজেন। কিন্তু প্রতিবছরই এখানে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। গত বছরও তিনজন তরুণ সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাই দ্রুত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, ভাঙা রেলিং সংস্কার এবং স্লুইস গেটের ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পানিতে নামা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “দর্শনার্থীদের জন্য স্থায়ী বেঞ্চ নির্মাণ, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং বর্ষা মৌসুমে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলে মানুষ আরও নিরাপদে এখানে সময় কাটাতে পারবেন। এতে ছিনতাই, ইভটিজিং কিংবা অন্য অপরাধও কমবে।”

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান বলেন, পর্যটন বা বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে কোনো স্থান জনপ্রিয় হয়ে উঠলে সেখানে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, বিশ্রামাগার, আলোকসজ্জা এবং দর্শনার্থীদের সচেতনতা—সবকিছুই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নজর দিবেন এমনটাই আশা রাখছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “মদনখালী স্লুইস গেট এলাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরের মানুষের কাছে মদনখালী স্লুইস গেট এখন শুধু একটি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা স্বস্তি খোঁজার একটি প্রিয় ঠিকানা। তবে এই সৌন্দর্যকে টেকসই করতে হলে প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তা নিশ্চিত করা গেলে মদনখালী স্লুইস গেট শুধু ফরিদপুর নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় নদীকেন্দ্রিক বিনোদনস্থল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত রোগী ৪ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামে আক্রান্ত রোগী ৪ হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ২১

ফরিদপুর জেলায় হাম (মিজলস) সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০৬ জনে।

তবে স্বস্তির খবর হলো, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা রয়েছে ২১ জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বোয়ালমারীতে, যেখানে নতুন আক্রান্ত ২৮ জন। এছাড়া আলফাডাঙ্গায় ২৫ জন, সালথায় ২৩ জন, চরভদ্রাসনে ১৭ জন, সদরপুরে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, মধুখালীতে ৬ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৯৯ জন রোগী। এর মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন ভর্তি রয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৫ জন এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আরও ১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে এবং জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”