খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

রাতে ঠিকমতো না ঘুমালে বাড়ে যেসব ঝুঁকি

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৪ এএম
রাতে ঠিকমতো না ঘুমালে বাড়ে যেসব ঝুঁকি

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের বিকল্প নেই—এ কথা বারবারই বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ দেহ ও সতেজ মন বজায় রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু শারীরিক ক্লান্তিই বাড়ে না, বরং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে মানসিক চাপ, অবসাদ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

💤 ঘুমের মান উন্নত করে জৈবিক ঘড়ি:

মানবদেহের নিজস্ব একটি জৈবিক ঘড়ি রয়েছে, যা প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করে। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস এই জৈবিক ঘড়িকে সঠিকভাবে পরিচালিত করে। ফলে ঘুমের আরইএম (র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায় ঠিক থাকে, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভালো ও গভীর ঘুম মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়, স্মরণশক্তি উন্নত করে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

⚡ বাড়ায় এনার্জি ও কর্মক্ষমতা:

রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে সারাদিন শরীরে ক্লান্তি ভর করে। কাজে মনোযোগ কমে যায়, চোখ ঢুলতে থাকে এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

অন্যদিকে ৭–৮ ঘণ্টা পরিমিত ঘুম দেহের কোষগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর থাকে সতেজ ও প্রাণবন্ত, সারাদিন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও উদ্যম পাওয়া যায়।

⚖️ নিয়ন্ত্রণে রাখে হরমোন:

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা বেড়ে যায়। এতে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত ভালো ঘুম দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে হরমোনজনিত নানা সমস্যার পাশাপাশি ডিপ্রেশন ও ডায়াবেটিসের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

🔥 উন্নত করে মেটাবলিজম:

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু সঠিক খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়—এর সঙ্গে প্রয়োজন নিয়মিত ভালো ঘুম। পর্যাপ্ত ঘুম বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং অ্যাসিডিটি, ব্লোটিং ও রিফ্লাক্সের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

🌙 যেভাবে পাবেন গাঢ় ও আরামদায়ক ঘুম:

বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—

-ঘুমাতে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন বা স্ক্রিন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

-প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন

-বিকেলের পর চা, কফিসহ ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পরিহার করুন

-রাতে খুব ভারী খাবার ও ঘুমের আগে ভারী শরীরচর্চা এড়িয়ে চলুন

-ঘুমের আগে বই পড়া, হালকা গান শোনা বা মেডিটেশন করলে মন ও শরীর শান্ত থাকে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত ঘুম শুধু আরাম দেয় না, বরং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। তাই সুস্থ থাকতে ঘুমকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।