খুঁজুন
, ,

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর

সকালে হাঁটার সেরা সময় কোনটি, জানুন প্রস্তুতির নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
সকালে হাঁটার সেরা সময় কোনটি, জানুন প্রস্তুতির নিয়ম

কারও জন্য ভোরের সময়টি আরামদায়ক, আবার কারও জন্য সূর্য ওঠার পরের সময়টি বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তাই নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হাঁটার সময় নির্ধারণ করাই ভালো।
ভোরের সময়

নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটতে পছন্দ করলে সূর্যোদয়ের আগের সময়টি বেছে নিতে পারেন। এ সময় সাধারণত চারপাশ শান্ত থাকে এবং যানবাহনের ব্যস্ততাও তুলনামূলক কম থাকে।

ফলে অনেকের কাছে এই সময়ের হাঁটা মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
তবে ভোরে বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত আলো না থাকলে নির্জন রাস্তায় হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।

সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা

যারা খুব ভোরে উঠতে পারেন না, তাদের জন্য সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে হাঁটা সুবিধাজনক হতে পারে। এ সময় দিনের আলো পর্যাপ্ত থাকে এবং অনেক দিনেই তাপমাত্রা তুলনামূলক সহনীয় থাকে।

সকালের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু হাঁটার সময়কে ভিটামিন ডি পাওয়ার প্রধান উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়; প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

অফিস বা অন্যান্য কাজে বের হওয়ার আগে এই সময়টুকু হাঁটার জন্য নির্ধারণ করা গেলে নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হয়।

সকাল ৮টা থেকে ১০টা

যারা রাতে দেরিতে ঘুমান কিংবা সকালে তুলনামূলক দেরিতে ঘুম থেকে ওঠেন, তারাও দিনের শুরুতে হাঁটার অভ্যাস করতে পারেন। খুব ভোরে উঠতে না পারলেও নিয়মিত হাঁটা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করার প্রয়োজন নেই।

যাদের ভোরের ঠান্ডা বা ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি বেশি হয়, তারা কিছুটা রোদ ওঠার পর হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারেন। তবে দিনের তাপমাত্রা বেশি হলে অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় হাঁটা এড়িয়ে চলা উচিত।

আরেকটি বিষয় হলো—ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই দ্রুত হাঁটতে বের হওয়া ঠিক নয়। খাবারের পর পর্যাপ্ত সময় রেখে হালকা হাঁটা তুলনামূলক আরামদায়ক হতে পারে।

হাঁটার আগে প্রস্তুতি জরুরি

ঘুম থেকে উঠেই দ্রুত হাঁটা বা দৌড় শুরু করা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় বিশ্রামের পর শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করে নেওয়া দরকার। এ জন্য হাঁটার আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট হালকা ওয়ার্ম-আপ করা যেতে পারে।

প্রথমে ঘাড় ধীরে ডানে-বাঁয়ে হেলিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখতে পারেন। এরপর কাঁধ সামনে ও পেছনে বৃত্তাকারে ঘোরানো যেতে পারে। এতে শরীরের ওপরের অংশের জড়তা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

শরীরের নমনীয়তা বাড়াতে এক হাত মাথার ওপর তুলে শরীর সামান্য বিপরীত দিকে বাঁকানো যায়। একইভাবে দুই পায়ের পেশি প্রস্তুত করতে এক পা সামনে রেখে হালকা স্ট্রেচ করা যেতে পারে।

হাঁটার আগে গোড়ালিও কিছুক্ষণ ঘোরানো ভালো। এতে পায়ের গোড়ালি ও আশপাশের জয়েন্টগুলোকে নড়াচড়ার জন্য প্রস্তুত করা যায়।

পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ

হাঁটতে বের হওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো অভ্যাস। ঘুম থেকে উঠে কিছুটা পানি পান করে ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর হাঁটতে বের হতে পারেন। তবে কতটা পানি প্রয়োজন, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

হাঁটার সময়ও শরীরের সংকেতের প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি। মাথা ঘোরা, বুকব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা দুর্বলতা অনুভূত হলে হাঁটা বন্ধ করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত থাকা। একদিন অনেকক্ষণ হাঁটার চেয়ে প্রতিদিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। নিজের ঘুম ও কাজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপযুক্ত সময় বেছে নিয়ে হাঁটাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তুললেই ধীরে ধীরে শরীর ও মন দুটিই সক্রিয় রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় জলাশয়ের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

ফরিদপুরের সালথায় বাড়ির পাশের জলাশয়ের পানিতে ডুবে নাদিয়া নামে দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের মধ্যবালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নাদিয়া মধ্যবালিয়া গ্রামের মো. মিন্টু বেপারী ও মোসা. সাজেদা বেগমের মেয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক মিয়া জানান, সকালে নাদিয়ার মা বাড়ির উঠানে মেয়েকে রেখে পাশে বাঁশের কঞ্চি কাটছিলেন। একপর্যায়ে নাদিয়া সেখান থেকে সরে গিয়ে বাড়ির পাশের একটি নিচু জলাশয়ের পানিতে পড়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
মিথ্যা মামলা দায়ের: ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড

মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতের সময় নষ্ট এবং বিবাদীকে হয়রানির অভিযোগে ফরিদপুরে এক নারী ও তার স্বামীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মামলার বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারী। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী.

​আদালত সূত্রে জানা যায়, অদ্য ০৭/১০/২০২৬ তারিখে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উল্লেখিত মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বাদী রিনা আক্তার এবং তার স্বামী মাসুদ বেপারী বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে বিবাদী/আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীদের বিশদ জেরা করেন।

​জেরার একপর্যায়ে বাদী রিনা আক্তার ও ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারীর প্রদত্ত জবাবে পরস্পরবিরোধী ও অসত্য তথ্যের প্রমাণ মেলে। তাদের জবানবন্দি ও জেরার জবাব বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ বিচারক শামীমা পারভীন নিশ্চিত হন যে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও বিবাদীকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

​আদালত সূত্র আরও নিশ্চিত করে, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলাটি যে সম্পূর্ণ বানোয়াট তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিবাদীকে অন্যায্য হয়রানি এবং আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করার অপরাধে বিচারক শামীমা পারভীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানে বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে ৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

​রায় ঘোষণার পরপরই আদালত কক্ষে অবস্থানরত দুই আসামিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং সাজা পরোয়ানা মূলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন জানান,মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে আদালতের এই কঠোর অবস্থান সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে।