খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: বাংলাদেশকে কি সতর্ক বার্তা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ এএম
ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার: বাংলাদেশকে কি সতর্ক বার্তা?

বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ও তাদের অন্য মিশনগুলো থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হবে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে মূলত বাংলাদেশকে এক ধরনের কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে।

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দেড় বছরের বেশি সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে।

দুই পক্ষে ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দুই দেশেরই রাজনীতিবিদদের একাংশের বক্তব্য পাল্টা বক্তব্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। এমনকি দুই দেশেই হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় হাইকমিশনারদের পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনাও ঘটেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, সবশেষ ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতে আইপিএলে খেলতে না দেওয়া এবং এর প্রতিক্রিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে আরো জটিল করেছে।

এরইমধ্যে ভারতের কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার যে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে–– তাতে দুই দেশের সম্পর্ক আরেক দফা অবনতির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে আসলেই এরকম কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনের অন্তত দুইজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, অফিসিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই সিদ্ধান্ত পাননি তারা।

তবে একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সতর্কতা হিসেবে ভারতীয় মিশনগুলোয় কর্মরতদের উপর নির্ভরশীলদের ভারতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে।

বিবিসি হিন্দির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন বাংলাদেশকে ‘পরিবার-ছাড়া’ বা ‘নন ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এছাড়াও, তারা তাদের কূটনীতিকদের পরিবারের প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দিয়েছে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশ এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা সুদানের সমান শ্রেণীতে রয়েছে।

বাংলাদেশ কেন ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না–– এই প্রশ্নে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ‘পুরোপুরি দ্বিমত’ পোষণ করে বলেছেন, “আমরা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছি, এমন কোনো এভিডেন্স (প্রমাণ) নেই।”

নন-ফ্যামিলি পোস্টিং কী?

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনসহ মোট পাঁচটি মিশন থেকে দেশটির কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে ভারতের সহকারী হাইকমিশন অবস্থিত।

বিবিসি হিন্দিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে একটি ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং হিসেবে ঘোষণা করে ভারতের সিদ্ধান্ত পহেলা জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

ভারতীয় মিশনগুলোর কর্মকর্তাদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের আট জানুয়ারির মধ্যেই ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো।

যেসব কর্মকর্তাদের সন্তানরা স্কুলে পড়ে তাদের জন্য অতিরিক্ত সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছিলো।

অর্থাৎ পনেরই জানুয়ারির মধ্যে ভারতীয় পাঁচটি মিশনের কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা ত্যাগ করেছে।

যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, “নির্দেশনার ব্যাপারে এখনও আমি কিছু অবগত নয়। মানে এ বিষয়ে কোনো ডিসিশন নেওয়া হলে সেটাতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের যেটা দিল্লিতে তারাই নেবে তো তাদের পক্ষ থেকেই জানানো হবে। যদি কিছু এ বিষয়ে জানানোর থাকে মিডিয়াকে বা সেগুলো এনে প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে সেখান থেকেই।”

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো দেয়নি।

ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নন-ফ্যামিলি পোস্টিং ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি।

এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশকে এখন পাকিস্তান, আফগানিস্তান অথবা সুদানের কাতারে রাখা হচ্ছে।

এই বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মি. হোসেন বিবিসির সংবাদদাতা ইশাদ্রিতা লাহিড়ীকে বলেছেন, “যদি ভারত বাংলাদেশকে পাকিস্তানের সমান স্তরে রাখে, তাহলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। অবশ্যই এটা দুঃখজনক। কিন্তু আমি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবো না।”

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ভারত অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

‘বন্ধুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নয়’

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেড় বছরে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

দেশ দুটির সম্পর্কের এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ করে আসছে; তা অস্বীকার করছে বাংলাদেশ।

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবকের হত্যার প্রতিবাদ এবং সামগ্রিকভাবে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন অভিমুখে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বিক্ষোভও করেছে।

সর্বশেষ বাংলাদেশের খেলোয়ার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল থেকে বাদ দেওয়া এবং তার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে আইপিএল’এর ম্যাচ না দেখানোর সিদ্ধান্তও এসেছে।

ক্রিকেট ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কের অস্থিরতার পটভূমিতে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলোতে ‘নন-ফ্যামিলি’ পোস্টিং নিয়ে খবর নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, “এটা খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নয়, এটা বোঝা যাচ্ছে। তারপরেও সত্যি সত্যি যদি তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করে তবে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু এটা প্রথম নয়।”

বাংলাদেশ ছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে নানা রকম রাজনৈতিক উত্থান-পতন বা নানা কারণে ভারতের কূটনৈতিক মিশন সরিয়ে নেওয়ার নজির রয়েছে।

মি. আহমেদ জানান,এ ধরনের পরিস্থিতির পেছনে দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির বিষয়টি নিশ্চিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

একইসাথে, এমন সিদ্ধান্তে ভারত বাংলাদেশকে সম্পর্কের বিষয়ে নেতিবাচক একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে করেন তিনি।

“ভারতের পক্ষ থেকে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বাংলাদেশকে যে তোমাদের সাথে সম্পর্ককে আর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি না। বরং আরো সংকুচিত করার চিন্তাভাবনা করছি, এরকম একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে হয়তো। একটা এক ধরনের চাপ তৈরি করা” বলেন এই কূটনীতিক।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, কেবল যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা নয়। বরং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় যখন কূটনীতিকরা নানা নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসে।

ভারত – বাংলাদেশ দুইপক্ষই একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য এবং কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক কূটনীতিক মি. আহমেদ।

“সবসময় যে সত্যি সত্যি নিরাপত্তার অভাব হয়, তা নাও হতে পারে। অনেক সময় এটা একটা কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্যও করা হয়” বলেন মি. আহমেদ।

তিনি মনে করেন, দুই দেশের স্বার্থেই সম্পর্ক উন্নয়ন ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা উচিত।

“বাংলাদেশের এখানে যেটা করা উচিত ভারতের সাথে আলোচনা করে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা উচিত” বলেন মি. আহমেদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের সম্পর্কে ভারতের কূটনীতিকদের আগ্রহ থাকলেও কট্টরপন্থী অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে পরিবর্তিত পরিস্থিতি বুঝতে দিচ্ছে না।

“দিল্লিতে পলিসি মেকারদের মধ্যে আগ্রহ আছে। কিন্তু তাদের চিন্তাধারা প্রকাশ পাচ্ছে না। তাদের মধ্যে কট্টরপন্থী যারা আছে, তারা এটা হতে দিচ্ছে না” বলেন মিজ ইয়াসমিন।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে রাজ্জাক মাতুব্বর (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কেন্দ্রটির মালিক মিজানুর রহমানসহ সেখানে কর্মরত সবাই পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার জেরে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামের ‘আলোর দিশা’ নামের ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের মৃত ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে তাকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্জাকের স্বজনদের ফোন করে জানানো হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে স্বজনরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে রাজ্জাকের মরদেহ দেখতে পান।

খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা কেন্দ্রের ভেতরে জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, রোগীদের স্বজন এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা রাজ্জাককে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তারা দাবি করেন, রাজ্জাক সুস্থই ছিলেন, কিন্তু শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর কেন্দ্রের মালিক ও কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

তাফসীর বাবু
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২১ পিএম
নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

বাংলাদেশে বরাবরই কোনো একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল বা জোটকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এবার সেভাবে কাউকে সামনে রাখা হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২২শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং দলগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে।

এই নির্বাচনে প্রার্থী প্রায় দুই হাজার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি বড় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে। একদিকে আছে বিএনপি এবং দলটি যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে তারা। অন্যদিকে জামায়াত ও ও তার সঙ্গে সমঝোতায় আসা দলগুলো।

বিএনপি, গণতন্ত্রমঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদসহ যে জোট হয়েছে, সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি এবং এই জোটের নেতৃত্বেও আছেন তারেক রহমান।

বিপরীতে জামায়াতসহ ১০ দলের যে জোট হয়েছে, সেখানে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। বরং জোটটি চলছে যৌথ নেতৃত্বে।

এই জোটে ১০ দলের মধ্যে জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন––এই পাঁচটি দল ইসলামপন্থি।

বাকি পাঁচটি দল হলো–– জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

বিভিন্ন ধরনের ১০টি দল একসঙ্গে এলেও কীসের ভিত্তিতে ঐক্য হলো সেটা স্পষ্ট নয়। এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কী, আদর্শিক ভিত্তি কী সেটা নিয়েও কোনো রূপরেখা নেই, বক্তব্য নেই।

এছাড়া এই জোট নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন কিংবা নির্বাচনে বিরোধী দলে বসলে বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন, সেটাও নির্ধারিত হয়নি। ফলে অস্পষ্ট নেতৃত্ব এবং দলীয় রূপরেখা নিয়ে এই জোট নির্বাচনের মাঠে বিএনপির কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় আছে অনেকের মধ্যে।

নেতা সামনে রেখে প্রচারণার রীতি

বাংলাদেশের রাজনীতির দল বা জোটগুলো অনেকটা ঐতিহ্যগতভাবেই একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখেই ভোটের যুদ্ধে মাঠে নামে।

একসময় আওয়ামী লীগ সামনে রেখেছে শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরে যখন শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন, তখন তার নেতৃত্বেই দল এগিয়েছে। জোট হলে সেই জোটের নেতৃত্বে থেকেছেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তীকালে বিএনপির ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত একই চিত্র দেখা গেছে।

এমনকি জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও দলটি নির্বাচনের সময় সামনে রেখেছিলো হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামনে রেখেছে তারেক রহমানকে। কিন্তু ১০ দলীয় ঐক্যে এভাবে একক কোনো নেতৃত্ব সামনে রাখা হচ্ছে না।

এতে করে যে প্রশ্ন উঠছে–– এই জোট যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?

দশ দলের নির্বাচনী ঐক্য গঠনের আগেই অবশ্য এই প্রশ্ন উঠেছিলো। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জোট গঠনের আগেই এর সুরাহা করার কথা তোলা হয়। যদিও সেটা নিয়ে পরে আর আলোচনা এগোয়নি।

পরবর্তীকালে ইসলামী আন্দোলন অবশ্য আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকেও বেরিয়ে যায়

তবে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটে জামায়াতের গুরুত্ব এবং প্রভাব আরো বেড়েছে। দলটি এককভাবে ২১৫টি আসন নেওয়ার পর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে জোটের মূল শক্তি জামায়াত।

ফলে, ঘোষণা না হলেও এই জোটে জামায়াতই এখন অঘোষিত নেতৃত্বে, যেটা দলগুলোর বক্তব্যেও পরিষ্কার হয়।

তাহলে কি জামায়াতের শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী–– এমন প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, শীর্ষ নেতা, প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা -এসব নিয়ে দলগুলার মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।

“এখানে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার বা এ ধরনের পদ পেলে সেখানে কে বসবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণত, ধরে নেওয়া হয় যে দলের বেশি সংসদ সদস্য জয়ী হোন, তারাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান,” তিনি বলেন।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াত একাই লড়ছে ২১৫টি আসনে। এরপরেই আছে এনসিপি, দলটির প্রার্থী মাত্র ৩০টি আসনে।

১০ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় শেষ সময়ে যুক্ত হয়েছে এনসিপি। নিজ আগ্রহে জোটে যুক্ত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্ব কিংবা নির্বাচনে জিতলে কে কোন পদে বসবে, সেসব নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ পায়নি। আবার এসব ইস্যুতে নিজেদের চাহিদা জানানোর মতো অবস্থাতেও নেই দলটি।

অন্য দলগুলোও বাস্তবতা দেখে জামায়াতের নেতৃত্বের কথাই বলছে।

“জামায়াত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নির্বাচন করছে। কাজেই এখানে প্রধান্য বা মুখ্য ভূমিকা তাদেরই। যদি আপনি বিএনপি জোটে বড় দল হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ধরেন, তাহলে আমাদের জোটেও বড় দল আছে। সেই দলের নেতাও তো একজনই আছে,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

কিন্তু জামায়াত এক্ষেত্রে কী বলছে?

দলটি অবশ্য নেতৃত্বের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বিশেষ করে জামায়াতের একক নেতৃত্ব বা প্রাধান্য নিয়ে এর আগে ইসলামী আন্দোলনের আপত্তির নজির থাকায় জামায়াত চায় নির্বাচনের পরই এর সুরাহা হবে।

“নির্বাচন হয়ে গেলে পরে যাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, তারা কে কতটি আসন পেয়েছে সেটা দেখা যাবে। তখন সেটার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দলের পক্ষ থেকে আমরা তো আমাদের শীর্ষ নেতাকেই সামনে রাখবো,” বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

১০ দলের আদর্শিক ভিত্তি কী?

বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোটের প্রক্রিয়া শুরু হয় বছরখানেক আগে, মূলত এই দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা বলে।

শুরুতে ইসলামপন্থি পাঁচটি দল জোটের প্রক্রিয়া শুরু করলেও পরে সেখানে ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়।

শেষপর্যন্ত গত সপ্তাহে জানানো হয় ১০ দলের এই নির্বাচনী ঐক্যের কথা যেখানে ইসলামী আন্দোলন যোগ দেয়নি।

তবে নির্বাচনী ঐক্য হওয়ার পর গত একসপ্তাহে দলগুলো ব্যস্ত থেকেছে মূলত আসন ভাগাভাগি নিয়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামপন্থি এবং ইসলামপন্থি নয় এরকম বিভিন্ন দল নিয়ে এই যে জোট গঠিত হলো, তার আদর্শিক ভিত্তি আসলে কী?

এক্ষেত্রে দলগুলো জুলাই স্পিরিটের কথা বলছে।

“আমাদের ঐক্যের সূচনাটা হয় মূলত ঐকমত্য কমিশন থেকে। সেই সময় এই দলগুলোর বক্তব্য ছিল অনেকটা একই রকম। আমরা সবাই সংস্কার চেয়েছি, বিচার চেয়েছি, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছি। এই বিষয়গুলোতেই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় থাকা সব দল একমত। কোনো ভেদাভেদ নেই,” বলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও বলেন, এই জোটের ঐক্যে সূত্র হচ্ছে “জুলাই স্পিরিট ধারণ, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান”।

শরিয়া আইন নিয়ে অবস্থান কী?

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা যখন উঠেছিল, তখন সেই দলগুলোর কোনো কোনো নেতা ইসলানি বা শরিয়া আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের কথাও বলেছেন।

কিন্তু পরবর্তীকালে এই জোটে এনসিপি, এবি পার্টির মতো ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়। ফলে জুলাই সনদে একমত থাকলেও এই জোট শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে, নাকি প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই গ্রহণ করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অবশ্য দাবি করেন, শরিয়া রাষ্ট্র গঠন করা হবে এমন কথা জামায়াত বা অন্য দলগুলো বলছে না।

তিনি বলেন, “ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যে ইসলামি রাষ্ট্র করবে এমনটা তারা কিন্তু বলেনি। কারণ তারা সেই জায়গা থেকে বের হয়ে সবগুলো দল মিলে কিন্তু গণতান্ত্রিক জায়গায় এসেছে, জোট করেছে”।

কিন্তু তাহলে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কি শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শ থেকে বের হয়ে এসেছে?

এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ গত সপ্তাহে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার আগে এই কারণটিকেই সামনে এনেছিলো ইসলামী আন্দোলন।

যদিও জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো অবশ্য সেটা নাকচ করছে।

“যার যার আদর্শ, যার যার রাষ্ট্রকল্প, যার যার রাজনৈতিক দর্শন, তার তার কাছে অটুট আছে, অক্ষুণ্ন আছে। আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশটাকে সবার আগে ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

ইসলামপন্থি দলগুলো বলছে, তাদের শরিয়া বা ইসলামি আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন তারা হঠাৎ করে করতে চান না। “জনগণকে প্রস্তুত করে ধাপে ধাপে এটা হবে” বলেন মামুনুল হক।

একই রকম কথা বলছে জামায়াতও। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এখন তো দেশে বিদ্যমান একটা আইন আছে। যে দলই জিতুক, কালকে গিয়েই তো সে সব আইন বদলাতে পারবে না। তার জন্য একটা প্রসিডিউর (প্রক্রিয়া) এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সংসদ লাগবে।

“যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে তাদের মধ্যে একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্টান্ডিং দরকার হবে। মানুষের জন্য কল্যাণকর, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় -এমন সকল বিধান আমরা অ্যালাউ করবো। তো এটাতো ইসলামও অ্যালাউ করে” বলেন মি. পরওয়ার।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।