খুঁজুন
, ,

ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ডিম ছোড়া কেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রতীক?

কোনো ব্যক্তির ওপর ডিম নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রকাশের বা প্রতিবাদ জানানোর উদাহরণ কেবল বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের বহু দেশেই রয়েছে।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

ডিম নিক্ষেপের মতো কাজকে অনেকে অশোভন বা অন্যায় আচরণ মনে করলেও এর পেছনে রয়েছে অনেক পুরোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস।

প্রতিবাদের এই রূপ, যা ‘এগিং’ নামেও পরিচিত, তা কেবল ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং কখনো কখনো রাজনীতিতে বার্তা পৌঁছে দিতেও ব্যবহৃত হয়।

ভিন্নমত প্রদর্শন এবং কাউকে অপমান, অবমাননা, অশ্রদ্ধা, অসম্মান করার হাতিয়ার হিসেবেও ডিম নিক্ষেপের মতো পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

রাজপরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এমন ব্যক্তিদের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতেও ডিম ছোঁড়ার ইতিহাস রয়েছে।

আর কেবল ডিমই নয়, বরং পচনশীল খাদ্যদ্রব্য ছোঁড়ার প্রচলনও মধ্যযুগ থেকেই।

প্রতিবাদ করতে কোনো ব্যক্তির মুখে বা গায়ে ডিম ছাড়াও শালগম বা টমেটোর মতো সবজি, কেক বা চকলেটও ছুঁড়ে মারার ইতিহাস রয়েছে।

ডিম ছোঁড়া ঠিক কবে থেকে প্রতিবাদের অংশ?

প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম বা যে কোনো সবজি বা পচনশীল বস্তু ছুঁড়ে মারার যে ইতিহাস পাওয়া যায় সেটা বেশ পুরোনো।

প্রাচীন যুগে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হতো বা প্রতিবাদ জানানো হতো বিভিন্ন খাবার ছুঁড়ে।

রোমান শাসক ভেসপাসিয়ানের কঠোর নীতির কারণে ৬৩ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুব্ধ জনগণ তার ওপর শালগম ছুঁড়ে মেরেছিল বলে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যযুগে ঘৃণা ও শাস্তির অংশ হিসেবে কারাবন্দিদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারার নজির রয়েছে। বন্দিদের একটি নির্দিষ্ট কাঠের ফ্রেমে বেঁধে রাখা হতো এবং বিক্ষুব্ধ জনগণ তাদের ওপর ডিম ছুঁড়ে মারতো।

ক্ষোভ, ঘৃণা বা প্রতিবাদের এই রীতি একপর্যায়ে থিয়েটার জগতেও ছড়িয়ে পড়ে। এলিজাবেথীয় যুগে থিয়েটারে অভিনেতাদের অভিনয়ে সন্তুষ্ট না হলে বা খারাপ অভিনয়ের প্রতিবাদে তাদের ওপর পঁচা ডিম ছুঁড়তো দর্শকরা।

ইংরেজ লেখিকা জর্জ এলিয়ট ১৮৩০ এর দশকের পটভূমিতে লেখা উপন্যাস ‘মিডলমার্চ’ এও ডিম ছোঁড়ার ঘটনা রয়েছে।

এই উপন্যাসের চরিত্র মি. ব্রুক নির্বাচনী ভাষণের সময় ‘অপমানকর’ এই ঘটনার শিকার হন।

“অপ্রত্যাশিতভাবে একটি ডিম এসে মি. ব্রুকের কাঁধে ভাঙলো…. এরপর যেন ডিমের শিলাবৃষ্টি নামলো। মূলত তার ছবিকে লক্ষ্য করেই ছোঁড়া হচ্ছিলো। কিন্তু মাঝে মাঝে অনেকটা কাকতালীয়ভাবে যেন আসল ব্যক্তিকেও আঘাত করা হচ্ছিলো,” মি. ব্রুককে ডিম নিক্ষেপ করে কীভাবে অপমান করা হয়েছিলো তা মিজ এলিয়টের বইয়ে ঠিক এভাবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

রাজা থেকে রাজনৈতিক কর্মী, বাদ নেই কেউ

ব্রিটেনে প্রতিবাদ জানাতে ডিম ছুঁড়ে মারার ইতিহাস দীর্ঘ।

ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস এবং কুইন কনসর্ট ক্যামিলা ২০২২ সালের নয়ই নভেম্বর ইয়র্কের মিকলগেট বারে এক রাজ সফরের সময় ডিম ছুঁড়ে মারার মতো ক্ষোভের মুখে পড়েন।

প্যাট্রিক থেলওয়েল নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক রাজাকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ডিম ছুঁড়ে মারেন। সেসময় তিনি ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

তবে একটি ডিমও রাজার গায়ে লাগেনি। সবগুলো ডিমই তার আশেপাশে পড়েছিলো অর্থাৎ লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিলো।

পরে ইয়র্কের এক ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মি. থেলওয়েলের বিচার হয়।

রাজার দিকে ডিম ছুঁড়ে মারার কথা স্বীকার করে তিনি দাবি করেছিলেন, এটা ছিল “লফুল ভায়োলেন্স বা আইনি সহিংসতা”।

পরে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন মি. থেলওয়েল।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এবং তার আগে ছাত্র আন্দোলনের সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজর ১৯৯২ সালের মে মাসে সাউদাম্পটনে একটি নির্বাচনী প্রচারণার সময় এমন ঘটনার শিকার হন।

ক্ষুব্ধ একজন ব্যক্তির ছোঁড়া ডিম সরাসরি তার মুখে এসে লাগে।

২০০১ সালে নর্থ ওয়েলসে ব্রিটেনের তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার জন প্রেসকটকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়েন একজন খামার শ্রমিক।

একেবারেই নিখুঁত ছিল ওই শ্রমিকের নিশানা। এই ঘটনায় মি. প্রেসকটও সরাসরি ওই শ্রমিকের মুখে ঘুষি মারেন।

ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির নেতা নিক গ্রিফিন ২০০৯ সালের নয়ই জুন সংসদের বাইরে এক সংবাদ সম্মেলন করার সময় ডিম হামলার শিকার হন। পরে ওই সংবাদ সম্মেলনটি আর করেননি তিনি।

২০১০ সালের ২১শে এপ্রিল বিবিসি নিউজে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায়, কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরনও ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

সেসময় একজন কিশোর নির্মাণ শ্রমিকের ছোঁড়া ডিম তার কাঁধে লেগেছিলো।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ডও এমন ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন।২০১৩ সালে সাউথ লন্ডনের ওয়ালওয়ার্থ মার্কেটে হাঁটার সময় ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্যের ইনডিপেনডেন্স পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ নটিংহামে নির্বাচনী এক সমাবেশে ২০১৪ সালে এমন ডিম হামলার শিকার হন।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নজির

অন্যান্য দেশেও ডিম ছুড়ে প্রতিবাদের নজির আছে অনেক।

যুক্তরাষ্ট্রে হলিউড তারকা থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার ২০০৩ সালে এমন প্রতিবাদের শিকার হন। ক্যালিফোর্নিয়ায় গভর্নর পদে নির্বাচনের প্রচারণার সময় এক জনসভায় এক ব্যক্তি তার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ২০০৪ সালে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ এমন আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন। প্রথমে অনেকেই ইট ছোঁড়া হয়েছে ভেবে তাকে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরে দেখা যায় সেটা ডিম ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারণা চলাকালীন সময়ে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়েছিলেন এক ব্যক্তি। ডিমটি মি. মরিসনের মাথায় লাগলেও সেটি ভাঙেনি।

বিবিসির সেসময়ের এক খবরে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করেছিলো।

২০২২ সালে উত্তর ফ্রান্সে প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনী প্রচারণার সময় ক্ষোভের মুখে পড়েন অতি ডানপন্থি দল ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন লে পেন। ডিমটি মিজ পেনের গায়ে পড়ার আগেই দেহরক্ষী তা ধরে ফেলেন।

হুদাকে ঢাকায় তার বাসা থেকে ধরে নিয়ে হেনস্তা করে একদল লোক।

ওই সময় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নানাভাবে হেনস্তাসহ কেউ কেউ নূরুল হুদার দিকে ডিম ছুড়ে মারছে। পরে মি. হুদাকে পুলিশের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এই প্রতিবাদের অর্থ কী?

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ জানান, বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশের এই ভাষা দেহে বা শারীরিকভাবে আঘাতের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য করা হয়।

এটা মূলত অহিংস প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন মি. আহমদ।

“যার ওপর ডিম ছুঁড়ে মারা হয় এটাকে একটা অপমান হিসেবে দেখা হয়। এখানে ব্যাপারটা দেহে আঘাত পাওয়ার চাইতে ইজ্জতে আঘাত পাওয়াটা বেশি প্রমিনেন্ট হয়। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়,” বলেন মি. আহমদ।

মি. আহমদ বলছিলেন, একটা সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে বাংলাদেশে পঁচা ডিম ছুঁড়ে মারা হতো। এখন আর সেটা শোনা যায় না।

এসবই এই প্রতিবাদের ভাষার প্রতীকী তাৎপর্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মি. আহমদ বলেন, “সবসময় যে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ডিম ছোঁড়া হয় বিষয়টি এমন নয়। অনেক সময় মানুষ কেবল অপরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এটা করে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জব্দ হয়ে এক সপ্তাহ ধরে থানা হেফাজতে থাকা হাতিটি অবশেষে আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আদালত এক আদেশে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটি তার প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুতকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে উদ্ধার করে আটক করে এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে।

পরদিন পুলিশ আটক মাহুত জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে বকুল মিয়াকে (২৪) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে জব্দকৃত হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে নাকি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে-সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাতিটির মালিক হিসেবে নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ানের কাছে প্রাণীটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা গেছে, তিনি নিজে সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

তবে আদালতের নির্দেশ এলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনেই ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গত সাত দিন ধরে হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এ সময় হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিকের পক্ষ থেকে নাজমুল সরদার (১৭) নামে আরেক মাহুতকে সদরপুর থানায় পাঠানো হয়। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাবার খাওয়ানো, সকালে হাঁটানো এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন।

এক সপ্তাহ ধরে থানায় হাতিটি রাখার ফলে খাদ্যের ব্যবস্থা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। থানা প্রাঙ্গণে এমন কোনো স্থায়ী খাদ্যব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ ও মাহুতকে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত ছিল না।

থানায় অবস্থানকালে বিশাল আকৃতির হাতিটি স্থানীয় মানুষেরও ব্যাপক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিদিন শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সদরপুর থানায় এসে হাতিটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।